খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

পাবনায় বিএনপি নেতা আদম আলীকে গুলি করে হত্যা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাবনায় বিএনপি নেতা আদম আলীকে গুলি করে হত্যা

 যোগফল প্রতিবেদক:

পাবনার আটঘরিয়ায় আদম আলী (৬০) নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত আদম আলী উপজেলার ষাটগাছা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চন্ডীপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, একদন্ত হাট থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন আদম আলী। চন্ডীপাশা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

একপর্যায়ে আহত অবস্থায় দৌড়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়ির সামনে গিয়ে পড়ে যান আদম আলী। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

ওসি নাজমুল হক বলেন, কারা এবং কী কারণে আদম আলীকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি যে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন, সেই মামলার সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ষাটগাছা গ্রামের নায়েব আলীর মেয়ে তমা খাতুনের (১৬) মরদেহ একটি বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তমার বাবা নায়েব আলী বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আদম আলীকে প্রধান আসামি করা হয়।

মামলা দায়েরের কয়েকদিন পর ২৮ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল সদর থানার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-১২ পাবনা ও র‌্যাব-১৪ টাঙ্গাইলের সদস্যরা আদম আলীকে গ্রেপ্তার করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তমাকে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা তিনি স্বীকার করেছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে আদম আলীকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়।

পরে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন আদম আলী। স্থানীয়দের অভিযোগ, জামিনে বের হওয়ার পর তিনি মামলা তুলে নেওয়া ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন। তার হুমকির কারণে তমার বাবা নায়েব আলী বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আদম আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত করছে পুলিশ।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ প্রকাশ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ প্রকাশ

 যোগফল প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের ১৬ জানুয়ারি এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বুয়েটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বুয়েটের ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। শুধু লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির জন্য যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছিল।

চলতি শিক্ষাবর্ষেও একই পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ভর্তি-সংক্রান্ত পরবর্তী সব তথ্য বুয়েটের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ঢামেক হাসপাতালে কারাবন্দির মৃত্যু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঢামেক হাসপাতালে কারাবন্দির মৃত্যু

যোগফল প্রতিবেদক:

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলী আকবর মন্ডল (৬৭) নামে এক কারাবন্দির মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরে রাত পৌনে ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, আলী আকবর মন্ডল আশুলিয়া থানায় দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কারাগারে ছিলেন।

নিহত আলী আকবর মন্ডলের বাড়ি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলায়। তার বাবার নাম মৃত হাফিজ মন্ডল।

ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

রংপুরে চার খুন: এক ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, বাকি অলংকারের হদিস নেই

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রংপুরে চার খুন: এক ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, বাকি অলংকারের হদিস নেই

 যোগফল প্রতিবেদক:

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের বড় অংশ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ ভরি ৫ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস প্রায় ছয় থেকে সাত ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। তবে উদ্ধার হওয়া ১ ভরি ৫ আনা ছাড়া বাকি স্বর্ণের কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

মামলাটি তদারককারী রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে ১ ভরি ৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি স্বর্ণের অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে পরিবর্তন

চার হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে। প্রথম দিকে বলা হয়েছিল, ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ১২ বছরের ছেলেকেও হত্যা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ডাকাতির বিষয়টিও সামনে আনা হয়। তখন বলা হয়েছিল, হত্যার পর ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে বর্তমানে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি বলছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। বরং টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, দুই আসামির আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, জিজ্ঞাসাবাদ এবং জেলগেটে তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে চুরির উদ্দেশ্যের বিষয়টি সামনে এসেছে।

বাড়িতে ৫০-৬০ লাখ টাকা থাকার তথ্য

পুলিশ জানায়, এলাকায় প্রচার ছিল—রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক হিসেবে অবসর নেওয়ার পর গণপতি চক্রবর্তী ব্যাংক থেকে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা তুলে বাড়িতে রেখেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই আসামিরা চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত ওই টাকার কোনো সন্ধান মেলেনি। বরং ডিবির দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগে গণপতি চক্রবর্তী ব্যাংক থেকে কোনো টাকা তোলেননি।

সনাতন চক্রবর্তী জানান, গণপতি চক্রবর্তীর তিন-চারটি ব্যাংক হিসাব যাচাই করে দেখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে সেসব হিসাব থেকে কোনো টাকা তোলার তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাড়িতে প্রবেশ

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ প্রথমে গণপতিদের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর পাশের নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ি দিয়ে উঠে বাড়িটির ছাদে প্রবেশ করেন।

ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, দ্বিতীয় তলায় আলাদা কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাঁদের দুই সন্তান।

ভোররাতে শব্দ পেয়ে গণপতি ছাদে গেলে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে তাঁদেরও হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় তলায় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ১২ বছরের ছেলে আয়ুশ চক্রৃতিকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের দাবি, চারজনকে হত্যার পরও কিছু সময় বাড়িতে অবস্থান করেন দুই আসামি। তাঁরা গোসল করেন, খাবার খান এবং তিনটি আলমারি খুলে বিভিন্ন কক্ষের জিনিসপত্র তছনছ করেন। পরে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ও ছয় থেকে সাত ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যান।

ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ

ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদের জবানবন্দি এবং বিভিন্ন সময়ে পুলিশের দেওয়া বক্তব্যে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে।

গত ২১ আগস্ট দিবাগত রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম