সমবায়ের আড়ালে অনিয়মের অভিযোগ: সংবাদ প্রকাশে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা
যোগফল প্রতিবেদক:
লালমনিরহাটে ‘তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে অবৈধ ঋণ ব্যবসা, চড়া সুদে কিস্তি আদায় ও গ্রাহকদের নিম্নমানের পণ্য দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
গত ২ জুলাই রংপুর সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন সমবায় সমিতিটির সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ হাশেম ওরফে বাবুল। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলায় দৈনিক কালবেলার লালমনিরহাট প্রতিনিধি এসকে সাহেদ এবং নয়া দিগন্তের ডিজিটাল প্রতিনিধি মো. জুবাইর আহমেদ খানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার শিকার সাংবাদিকদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল দৈনিক কালবেলায় ‘গ্রাহকের ১২ কোটি টাকা নিয়ে উধাও দুই সমিতি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে তিস্তা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি ও তিস্তা ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের আমানতের অর্থ আটকে রাখা, ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সুদে টাকা লেনদেন এবং সঞ্চয়ের টাকার বিপরীতে নিম্নমানের পণ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বক্তব্য এবং তাদের অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়ও তুলে ধরা হয়। একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এরপর গত ২ জুলাই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন এম এ হাশেম। মামলায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য সিআইডি লালমনিরহাটকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
কালবেলার জেলা প্রতিনিধি এসকে সাহেদ বলেন, সাধারণ মানুষের টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কারও বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ করিনি। সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা নিয়ে কী ঘটছে, সেটিই তুলে ধরেছি। অনিয়ম আড়াল করতে এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতেই এই মামলা করা হয়েছে।’
এদিকে সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটের সাংবাদিক সমাজ।
লালমনিরহাট প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন স্বপন বলেন, তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংবাদটি খণ্ডন করতে পারেন। কিন্তু সরাসরি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ সৃষ্টি করার শামিল। তিনি মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সাংবাদিক নেতা শরিফুল ইসলাম রতন বলেন, অনিয়মের অভিযোগ আড়াল করতেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক মামলা করা হয়েছে। তারা সিআইডির নিরপেক্ষ তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে এম এ হাশেম ওরফে বাবুলের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন সিআইডি লালমনিরহাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, সমবায় সমিতির আড়ালে কোটি কোটি টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকদের মামলায় জড়ানো হচ্ছে। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন