খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

মিছিলে ছিলেন না, তবু মামলায় সাংবাদিক-শিক্ষকসহ ২৩ জন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মিছিলে ছিলেন না, তবু মামলায় সাংবাদিক-শিক্ষকসহ ২৩ জন

 যোগফল প্রতিবেদক:

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক, যুবদল কর্মী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মীসহ অন্তত ২৩ জনকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামিদের দাবি, মিছিলের সময় তারা কেউ ঘটনাস্থলে ছিলেন না। এমনকি তাদের মধ্যে একজন পবিত্র ওমরাহ পালনে মক্কায় অবস্থান করছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সীমান্ত সড়কে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেন বলে জানা যায়। এ ঘটনায় সোমবার (৩১ আগস্ট) মধ্যনগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। পরে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। এতে ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় তাহিরপুর উপজেলার রতনশ্রী গ্রামের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের ডিজিটাল প্রতিনিধি শওকত হাসান সৈকত, বাদাঘাট বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী রাসেল আহমদ, কাদের পাশা, উপজেলা মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ, কলাগাঁও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক জাবের আহমদ জাবেদ এবং সিলেটের একটি এনজিওকর্মী রাজন চন্দের নাম রয়েছে।

এ ছাড়া আজহারুল ইসলাম সোহাগ, হাসান মিয়া, ইকবাল, ফারুক, বিপ্লব হাসান ইমন, জুয়েল আখুঞ্জি, শাহিন মিয়া, জিয়া উদ্দিন, সাজিদ মিয়া, আঙ্গুর মিয়া, শাখাওয়াত হোসেন শিপন, মিয়া হোসেন, সেলিম ভূঁইয়া, নাজির হোসেন, শাকিল আহমদ লিজান ও লিক্সন মিয়াসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের কয়েকজনের দাবি, মিছিলের সময় তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। কেউ ব্যবসায়িক কাজে, কেউ নিজ নিজ কর্মস্থলে এবং কেউ অন্য এলাকায় অবস্থান করছিলেন। একজন আসামি ওই সময় পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় ছিলেন বলেও দাবি উঠেছে।

মামলার আসামি ও তাহিরপুর উপজেলা মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ দাবি করেন, মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করার কারণে তিনি ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছেন। তার অভিযোগ, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা কিছু অসৎ ব্যক্তি তাকে মামলায় জড়িয়েছেন।

বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী রাসেল আহমদ বলেন, ব্যবসার পাশাপাশি তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।

সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই এবং মিছিলের সময় তিনি ঘটনাস্থলেও ছিলেন না। তার দাবি, সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি স্থানীয়ভাবে কারও কারও বিরাগভাজন হয়ে থাকতে পারেন। মামলার কারণে গত কয়েক দিন ধরে তাকে আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার দিন সৈকত তাহিরপুরেই ছিলেন এবং তিনি ওই দিনের ঘটনাটি নিয়ে সংবাদও করেছেন। মধ্যনগরের ঘটনার মামলায় তাকে আসামি করার বিষয়টি বোধগম্য নয় বলে মন্তব্য করে তিনি নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার দাবি জানান।

এদিকে তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাফিজ উদ্দিন এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে। তার অভিযোগ, প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়, সাংবাদিক এবং মিছিলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদেরও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে। সেগুলো যাচাই করে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করার পরও যদি নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়ে থাকে, তা দুঃখজনক।

তবে আসামিদের নাম কীভাবে মামলায় এসেছে, সে বিষয়ে মামলার বাদী শাহাজাহান মিয়া বলেন, তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা সমন্বয় করে আসামিদের তালিকা থানায় দিয়েছেন। পরে তিনি মামলার বাদী হয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মিছিলের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তা যথাযথভাবে যাচাই না করে এবং ঘটনার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবস্থান বিবেচনায় না নিয়েই মামলা করা হয়েছে। এতে প্রকৃত জড়িতদের পাশাপাশি নিরপরাধ ব্যক্তিরাও হয়রানির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, মামলার বাদী পুলিশ নন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করবে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া না গেলে পরবর্তী সময়ে তার নাম বাদ দেওয়া হবে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না বলেও জানান তিনি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ প্রকাশ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার দিনক্ষণ প্রকাশ

 যোগফল প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের ১৬ জানুয়ারি এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বুয়েটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বুয়েটের ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। শুধু লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির জন্য যোগ্য শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছিল।

চলতি শিক্ষাবর্ষেও একই পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ভর্তি-সংক্রান্ত পরবর্তী সব তথ্য বুয়েটের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ঢামেক হাসপাতালে কারাবন্দির মৃত্যু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঢামেক হাসপাতালে কারাবন্দির মৃত্যু

যোগফল প্রতিবেদক:

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলী আকবর মন্ডল (৬৭) নামে এক কারাবন্দির মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) থেকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরে রাত পৌনে ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, আলী আকবর মন্ডল আশুলিয়া থানায় দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কারাগারে ছিলেন।

নিহত আলী আকবর মন্ডলের বাড়ি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলায়। তার বাবার নাম মৃত হাফিজ মন্ডল।

ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

রংপুরে চার খুন: এক ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, বাকি অলংকারের হদিস নেই

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রংপুরে চার খুন: এক ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, বাকি অলংকারের হদিস নেই

 যোগফল প্রতিবেদক:

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের বড় অংশ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ ভরি ৫ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস প্রায় ছয় থেকে সাত ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। তবে উদ্ধার হওয়া ১ ভরি ৫ আনা ছাড়া বাকি স্বর্ণের কোনো সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

মামলাটি তদারককারী রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে ১ ভরি ৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি স্বর্ণের অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে পরিবর্তন

চার হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে। প্রথম দিকে বলা হয়েছিল, ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও ১২ বছরের ছেলেকেও হত্যা করা হয়।

পরবর্তী সময়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ডাকাতির বিষয়টিও সামনে আনা হয়। তখন বলা হয়েছিল, হত্যার পর ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে বর্তমানে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি বলছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। বরং টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, দুই আসামির আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, জিজ্ঞাসাবাদ এবং জেলগেটে তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে চুরির উদ্দেশ্যের বিষয়টি সামনে এসেছে।

বাড়িতে ৫০-৬০ লাখ টাকা থাকার তথ্য

পুলিশ জানায়, এলাকায় প্রচার ছিল—রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক হিসেবে অবসর নেওয়ার পর গণপতি চক্রবর্তী ব্যাংক থেকে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা তুলে বাড়িতে রেখেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই আসামিরা চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে তদন্তে এখন পর্যন্ত ওই টাকার কোনো সন্ধান মেলেনি। বরং ডিবির দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগে গণপতি চক্রবর্তী ব্যাংক থেকে কোনো টাকা তোলেননি।

সনাতন চক্রবর্তী জানান, গণপতি চক্রবর্তীর তিন-চারটি ব্যাংক হিসাব যাচাই করে দেখা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে সেসব হিসাব থেকে কোনো টাকা তোলার তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাড়িতে প্রবেশ

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ প্রথমে গণপতিদের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর পাশের নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ি দিয়ে উঠে বাড়িটির ছাদে প্রবেশ করেন।

ডিবির তদন্তকারী কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, দ্বিতীয় তলায় আলাদা কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাঁদের দুই সন্তান।

ভোররাতে শব্দ পেয়ে গণপতি ছাদে গেলে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠলে তাঁদেরও হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় তলায় ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ১২ বছরের ছেলে আয়ুশ চক্রৃতিকেও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের দাবি, চারজনকে হত্যার পরও কিছু সময় বাড়িতে অবস্থান করেন দুই আসামি। তাঁরা গোসল করেন, খাবার খান এবং তিনটি আলমারি খুলে বিভিন্ন কক্ষের জিনিসপত্র তছনছ করেন। পরে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ও ছয় থেকে সাত ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যান।

ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ

ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদের জবানবন্দি এবং বিভিন্ন সময়ে পুলিশের দেওয়া বক্তব্যে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে।

গত ২১ আগস্ট দিবাগত রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম