যোগফল প্রতিবেদক:
সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদের মধ্যে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে আদালত।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জহিরুলকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়শা সিদ্দিকা পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জহিরুল সাভারের বড়দেশি পশ্চিমপাড়ার মুসলিম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ১১ জনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তাদের মধ্যে র্যাব-১০ মুন্সীগঞ্জ থেকে চারজন, র্যাব-৪ আমিনবাজার থেকে চারজন এবং গোয়েন্দা পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অপর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
র্যাব-১০-এর হাতে গ্রেপ্তার চারজন হলেন—আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০) ও ইমরান (২৬)। তাদের মধ্যে আপন সাভার থানার তিনটি মাদক মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
র্যাব-৪-এর হাতে গ্রেপ্তার চারজন হলেন—নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) ও ওয়াসিম (৪০)। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার দুজন হলেন শুকুর ও দেলোয়ার।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
নিহত এসআই আলতাফ হোসেন ঢাকার মালিবাগে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) কর্মরত ছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার রাত ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া এলাকায় গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
গত শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছোট ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৬)। পরে তাদের উদ্ধার করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আরিফুল ইসলাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই রাতে একটি প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালককে মারধর করেন। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করতে যান এসআই আলতাফ হোসেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ও তার ছেলেকে মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে রোববার দুপুরে সাভার মডেল থানার পাশের নামাবাজার এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত এসআই আলতাফ হোসেনের স্ত্রী শিউলি পারভীন ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন।
মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম
আপনার মতামত লিখুন