খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

ইরানবিরোধী বিক্ষোভে গ্রেপ্তার যমজ বোনের একজনের মৃত্যুদণ্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৪৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইরানবিরোধী বিক্ষোভে গ্রেপ্তার যমজ বোনের একজনের মৃত্যুদণ্ড

যোগফল প্রতিবেদক:

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই যমজ বোনের একজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যজনকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বোন তারানেহ রহিমি এবং তার যমজ বোন রোমিনা রহিমি গত জানুয়ারিতে ইসফাহানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।

বিক্ষোভের সময় দুই বোনের বয়স ছিল ১৯ বছর এবং তারা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের দাবি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার প্রায় এক মাস পর মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি গভীর রাতে তাদের বাড়িতে ঢুকে দুজনকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে পরিবার জানতে পারে, ওই ব্যক্তিরা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সদস্য ছিলেন।

প্রায় চার মাস ধরে হাসপাতাল ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নেওয়ার পর তাদের মা মারজিয়ে নুরমোহাম্মাদি জানতে পারেন, তার দুই মেয়ে কারাগারে রয়েছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মে মাসে ইসফাহানের দৌলতাবাদ কারাগারে মেয়েদের দেখতে গিয়ে তাদের গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পান মা। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী তাদের চাচাতো ভাই মাসুদ নুরমোহাম্মাদির দাবি, দুই বোনকে চুল ধরে টেনে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া হয়েছিল। এতে তাদের মাথার বিভিন্ন অংশের চুল উঠে যায় এবং মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

নুরমোহাম্মাদির আরও অভিযোগ, কারাগারে তারানেহকে স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। স্বাক্ষর না করলে তার বোন রোমিনাকে কারারক্ষীরা তার সামনেই ধর্ষণ করবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে তারানেহকে মৃত্যুদণ্ড এবং রোমিনাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দুই বোনের সাজায় এত বড় পার্থক্যের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। সাজা ঘোষণার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে আর দেখা করতে পারেননি।

নুরমোহাম্মাদি তারানেহর মৃত্যুদণ্ডকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন। তার ধারণা, সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যাতে অন্যরা ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর ইরানে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে অন্তত ২৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১৬ জন নারী।

এ ছাড়া শত শত বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে অথবা এমন অভিযোগে বিচার করা হচ্ছে, যেসব অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। ইসফাহানেই এ ধরনের অভিযোগে ৭০ জনের বেশি মানুষ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মাসে যুক্তরাজ্যসহ ৩০টি দেশ জানুয়ারির বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে। বিবৃতিতে এসব মৃত্যুদণ্ডকে ভিন্নমত দমনের চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তারানেহ ও রোমিনা গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি ইসফাহানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেন। এর প্রায় এক মাস পর তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পরিবার তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেয়েদের সন্ধানে তাদের মা বিভিন্ন আদালত ও হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। পরে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তার দুই মেয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।

কারাগারে মেয়েদের দেখে তাদের মা প্রথমে চিনতেই পারেননি বলে জানিয়েছেন নুরমোহাম্মাদি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই বোনের মুখ ফুলে গিয়েছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। কনুই, হাতের আঙুল ও পায়েও গুরুতর আঘাতের কথা জানানো হয়েছে। তাদের চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও করেছে পরিবার।

পরিবারের দাবি, দুই বোনকে একপর্যায়ে একাকী কারাবাসেও রাখা হয়েছিল। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারানেহ আদালতে জানিয়েছিলেন, তার কাছ থেকে নেওয়া স্বীকারোক্তি নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছিল।

তবে বিক্ষোভের সময় দুই বোন কোনো সহিংসতায় জড়িত ছিলেন—এমন প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পরিবারের দাবি, ওই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আগে দুই বোন কখনো কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেননি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী নুরমোহাম্মাদি জানান, পরিবারের সদস্যরা মামলাটি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলায় তাকে মুঠোফোনের বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, তার মা বর্তমানে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। মেয়েদের কথা মনে পড়লেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ নিহত ১১

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ নিহত ১১

 যোগফল প্রতিবেদক:

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে নাবাতিয়েহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

কাফর রেম্মানে মধ্যরাতের পর একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। এতে দুই শিশুসহ নয়জন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন।

একই এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হলে ইসলামিক রিসালা স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের দুই প্যারামেডিক নিহত হন। সংগঠনটি লেবাননে জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রমে কাজ করে।

এ ছাড়া নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা ও আরবসালিম এলাকাতেও একাধিক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

দেইর আল-জাহরানি এলাকায় রাতের দিকে একটি ভবন ও আশপাশের কয়েকটি স্থাপনার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তাদের ভবনটি থেকে অন্তত ৩০০ মিটার দূরে চলে যেতে বলা হয়। নির্দেশ দেওয়ার প্রায় ২২ মিনিট পর ভবনটিতে বিমান হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করা হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ভবনটি হিজবুল্লাহর একটি স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাঠিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় ৪ হাজার ৩৬২ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩৭৮ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ৫ হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। লেবাননের এক সামরিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তুলি আক্তার/অনলাইন ডেস্ক বিপিসি বাংলা

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে উদ্ধার ৫

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে উদ্ধার ৫

যোগফল প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা পাঁচজনকে উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১৫।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে র‍্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (ল অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। অপর একজন টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কচ্ছপিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ)-এর একটি দল।

অভিযানকারী দল মধ্যম কচ্ছপিয়া এলাকায় নুরুল কবিরের বসতবাড়ির সামনের সড়কে পৌঁছালে সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মানব পাচারের শিকার পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অজ্ঞাতনামা পাচারকারীরা আর্থিক সুবিধা লাভের পাশাপাশি জবরদস্তিমূলক শ্রম ও সেবা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীদের নৌকায় সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। এ উদ্দেশ্যে তাদের ওই এলাকায় একত্রিত করা হয়।

উদ্ধার হওয়া পাঁচজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্পত্তি রক্ষায় নতুন আইনি সুরক্ষা দেবে: রুমিন ফারহানা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্পত্তি রক্ষায় নতুন আইনি সুরক্ষা দেবে: রুমিন ফারহানা

 যোগফল প্রতিবেদক:

সম্পত্তি সন্তানদের নামে হস্তান্তর করার পরও যাতে বৃদ্ধ বাবা-মা জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করতে পারেন, সে সুযোগ রেখে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সংশোধনী দেশের অসংখ্য বৃদ্ধ বাবা-মাকে স্বস্তি দেবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, অনেক পরিবারে দেখা যায়, বাবা-মায়ের কাছ থেকে সম্পত্তি নেওয়ার পর তাদেরই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত আইনে দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন বিধানটি বাংলাদেশের অসংখ্য বাবা-মাকে জীবনের শেষ সময়ে নিরাপত্তা ও স্বস্তি দেবে। একই সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

পরিবারের সবচেয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান রুমিন ফারহানা।

কেন আনা হচ্ছে সংশোধনী

বৃদ্ধ বাবা-মা জীবিত অবস্থায় সন্তান, নাতি-নাতনি কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর কাছে সম্পত্তি দান করার পর অনেক সময় ওই সম্পত্তিতে নিজেদের বসবাস ও ভোগদখলের অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে নিজের বসতভিটা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই সমস্যা দূর করতেই সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে নতুন বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। পরে বিলটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

দান করেও সম্পত্তি ভোগের অধিকার

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিদ্যমান সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-তে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

১২২এ ধারার অধীনে কোনো ব্যক্তি সম্পত্তি দান করলেও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। বাবা-মা থেকে সন্তান বা নাতি-নাতনির মধ্যে, নাতি-নাতনি থেকে পূর্ববর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে।

স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের হস্তান্তর নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে করতে হবে।

প্রস্তাবিত আইনে আরও বলা হয়েছে, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পত্তির গ্রহীতা মারা গেলেও দাতার ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার বহাল থাকবে।

বিশেষ পরিস্থিতিতে অধিকার পরিবর্তনের সুযোগ

আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দিলে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে দাতার ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে।

কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অক্ষম বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে জেলা জজের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত ১২২এ(৪) উপধারায় বলা হয়েছে, এই ধারার অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে প্রচলিত দান, হেবা বা অন্য কোনো বৈধ সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতা ক্ষুণ্ন হবে না।

কমতে পারে পারিবারিক বিরোধ

সংশোধনীটি কার্যকর হলে বাবা-মা সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সম্পত্তি দান করলেও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ওই সম্পত্তিতে বসবাস ও ভোগদখলের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্পত্তিগত নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম