হরমুজে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ইরানের কড়া বার্তা
যোগফল প্রতিবেদক:
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে সরাসরি সহায়তা হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্যভাবে ‘অবদান রাখার’ বিষয়টি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বিবেচনা করছে—এমন বক্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
ইসমাইল বাঘেই বলেন, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্মান রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার সময় পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো দেশ সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখলে কিংবা সামরিক অভিযানে অংশ নিলে, ইরান সেটিকে আগ্রাসনে সরাসরি সহায়তা হিসেবে দেখবে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে সংশ্লিষ্ট দেশকে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে। কোনো সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল দেশেরই যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হুমকির কাছে নতি স্বীকার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইরানের এই মুখপাত্র বলেন, দেশটির উচিত ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ড ও ভয়াবহ অপরাধে’ জড়িয়ে না পড়া।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এসবিএসকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠানোর জন্য দক্ষিণ কোরিয়া প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত মোতায়েনের অংশ হিসেবে পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণে বিশেষজ্ঞ একটি দল এবং একটি লজিস্টিক সহায়তা জাহাজ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে এ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। ফলে সেখানে সামরিক উপস্থিতি ঘিরে ইরানের এমন সতর্কবার্তা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন