খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক, ১৪৩৩

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে বৃদ্ধা শামসুল হকের ঠাঁই হলো বড় ছেলের ঘরে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রশাসনের  হস্তক্ষেপে অবশেষে বৃদ্ধা শামসুল হকের ঠাঁই হলো বড় ছেলের ঘরে

ছবিতে আলোচিত বৃদ্ধা শামসুল হক

সাইফুল ইসলাম ।। গোপালগঞ্জ  প্রতিনিধি  
 
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে বৃদ্ধা শামসুল হকের (৯৫) ঠাঁই হয়েছে বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লার ঘরে। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে আজিজুল হক তার বৃদ্ধ পিতা শামসুল হককে তার ঘরে তুলে নেয়। বৃদ্ধ শামসুল হক গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরণ গ্রামের  ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে।

এর আগে  মঙ্গলবার ( ৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ-উল-আরেফীন বৃদ্ধ শামসুল হকের ২ ছেলে ও ৪ মেয়েকে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাদের পিতার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ-উল-আরেফীনের এ নির্দেশের পর বৃদ্ধ শামসুল হকের বড় ছেলে আজিজুল হক তার পিতার দায়িত্ব নিতে রাজি হয়।

জানাগেছে, হাজী শামসুল হক মোল্লার দুটি ছেলে ও চারটি মেয়ে রয়েছে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায়  ফেরিওয়ালা। ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাস চালকের সহকারী ।

অপরদিকে চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমকে বিয়ে দিয়েছেন । ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী। বৃদ্ধ হাজী শামসুল হকের ছোট সন্তান কাজুলী বেগম বাদে আর পাঁচ সন্তান তাদের সংসার সন্তান নিয়ে ব্যস্ত।

গত কয়েক বছর আগে হাজী শামসুল হক তার জমি বিক্রি করে হজ্ব করতে যায়। তখন বাকি জমি জমা সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দেন। কিন্তু বর্তমানে বিপত্নীক এই বৃদ্ধের কোন সন্তানই খোঁজ খবর তেমন রাখছে না। শামসুল হক মোল্লা গত কয়েক দিন ধরে তার বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন।

মঙ্গলবার ( ৩ নভেম্বর) সকালে মায়া বেগম তার বৃদ্ধ বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে আসলে ভাই ও তাদের স্ত্রীরা মিলে হাজী শামসুল হক মোল্লাকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছে নিচে রেখে দেয়। 

এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে শামসুল হক মোল্লার সন্তানদের নিয়ে  বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় । আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। মায়া বেগম বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ্য। তার পরে আমার বাড়িতে আবার প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকে। যার কারনে আমার পক্ষে আমার বাবাকে রাখা সম্ভব নয়।

শামসুল হকের মেঝ মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে বাবা মাত্র ৪ লক্ষ টাকা করে দিয়েছে।দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছে। এখন আমরা বোনেরা কেন বাবার দেখাশুনা করবো?

এ বিষয়ে জানার জন্য শামসুল হক মোল্লার  বাড়িতে গেলে তার বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লা বলেন, ইউএনও স্যার বলার পর আমি আমার বাবাকে ঘরে নিয়েছি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার বাবা আমার কাছে থাকবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের বাড়ির এক গৃহিনী বলেন, শামসুল হক মোল্লার জমি জমা লিখে নিয়ে এখন তার সন্তানরা তাকে আশ্রয় দিচ্ছে না। তিনি যদি সন্তানদের জমি লিখে না দিতো তা হলে হয় তো এই অবস্থা হতো না। সন্তানরা যেটি করেছিলো সেটি কোন ভাবেই কোন পিতার জন্য কাম্য নয়।

এখন শামসুল হকের বড় ছেলে আজিজুল হক তার বাবাকে ঘরে তুলে নিয়েছে এ জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। বৃদ্ধ শামসুল হক বলেন, আমার বড় ছেলের ঘরে আমার আশ্রয় হয়েছে। আমি এখনই খুশি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি আমার বড় ছেলের কাছে থাকবো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ-উল-আরেফীন বলেন,ঘটনাটি জানার সাথে সাথে আমি বৃদ্ধা শামসুল হকের সন্তানদের আমার দপ্তরে ডেকে আনি। পরবর্তীতে তাদের মুখ থেকে সব কিছু জানার পর শামসুল হক সাহেবের সন্তানদেরকে তাদের পিতার দায়িত্ব নিতে বলি। সাথে সাথে শামসুল হকের বড় ছেলে আজিজুল হক তার পিতার দায়িত্ব নিতে রাজি হয়। যদি তারা তাদের পিতার ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিতে রাজি না হতো তা হলে তাদের বিরুদ্ধে 'পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ' আইন অনুসারে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো।

পাইকগাছায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ উদ্বোধন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ উদ্বোধন

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে এ প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

উপজেলা এসএফডিএফ কর্মকর্তা জিএম জাকারিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম রায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজহারুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রওশানারা পারভীন, সমবায় কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কুতুব উদ্দীন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী অধ্যাপক মো. মোমিন সানা, পৌর জামাতের সেক্রেটারি মোঃ মিজানুর রহমান, প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল ওহাব, সেলিনা পারভীন, বিজন বিশ্বাস ও খলিলুর রহমান, এসএম আমিনুল ইসলাম লিটু এবং জামিলুর রহমান রানা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, খেলাধুলা ও শারীরিক চর্চা যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি খেলাধুলা একটি সুস্থ, সুন্দর ও মননশীল জাতি গঠনে সহায়ক। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’ গ্রামীণ ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা পরিষদের খেলার মাঠে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

অক্টোবরজুড়ে পাইকগাছা থানা পুলিশের অভিযানে ৪৪জন মাদককারবারী গ্রেফতার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অক্টোবরজুড়ে পাইকগাছা থানা পুলিশের অভিযানে ৪৪জন মাদককারবারী গ্রেফতার

ছবি যোগফল

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে থানা পুলিশ। গত অক্টোবর মাসে বিভিন্ন অভিযানে ৪৪ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৩৫২ পিস ইয়াবা, ৫১১ গ্রাম গাঁজা, আড়াই লিটার বাংলা চোলাই মদ ও চার পিস মাদকদ্রব্যযুক্ত সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১০টি নিয়মিত মামলা, ১৮টি সামারি ট্রায়াল মামলা ও সাতটি নন-এফআইআর প্রসিকিউশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানা সূত্রে জানা যায়, অক্টোবর মাসজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২০ জনকে নিয়মিত মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৮টি সামারি ট্রায়াল মামলায় আরও ২৪ জনকে আটক ও বিভিন্ন পরিমাণের মাদক উদ্ধার করা হয় এবং তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এসব মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। একই সময়ে সাতটি নন-এফআইআর প্রসিকিউশন মামলায় আরও ২০ জনকে আদালতে পাঠানো হয়। এসব মামলায় তাঁদের সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে। অপহরণ, চুরি ও চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযান। মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি অক্টোবর মাসে অপহরণ, চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনায়ও একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা যায়, অক্টোবর মাসে পাইকগাছা থানায় ছয়টি অপহরণ মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় আটজনকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ছিনতাই হওয়া একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়।

সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা থেকে সংবদ্ধ চোর চক্রের চুরি করা ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চক্রের দুজনকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় মূল হোতাকেও গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দুই ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির মামলায় মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অপহৃত দুই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সংবদ্ধ চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার, চোরাই ভ্যান উদ্ধার এবং ভ্যানটি ক্রয়কারীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থানা পুলিশ। এসব ঘটনায় আরো ১৫ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয় হাজার পাঁচ জাল টাকা উদ্ধার পূর্বক প্রতারককে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। 

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম ও জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় পাইকগাছা থানা পুলিশ জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক, চুরি, চাঁদাবাজি, জুয়াড়ি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানা পুলিশের এধরণের প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে।

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

তরুণ উদ্যোক্তাদের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র। এ পরিস্থিতিতে সরকারের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় ঋণ দেওয়ার নামে কাউকে টাকা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একই সঙ্গে ‘উদ্যোগ’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক পেজ বা অ্যাকাউন্ট নেই বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে, উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি ‘উদ্যোগ’-এর আওতায় ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিছু ব্যক্তি বিকাশসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও অন্যান্য মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির সব কার্যক্রম স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া কিংবা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অর্থ প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ‘উদ্যোগ’ নামে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজ বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট নেই। এ নামে ভুয়া পেজ বা অ্যাকাউন্ট খুলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার কিংবা প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালানো হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত আইনসহ প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত না হওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

উল্লেখ্য, তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে অর্থায়ন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে সরকার ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক চালু করেছে ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি-উদ্যোগ (UDYOG)’।

এ কর্মসূচির আওতায় তরুণ উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ এবং সমপরিমাণ অর্থ এককালীন অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। ঋণ ও অনুদানের অর্থ একই সঙ্গে বিতরণ করা হবে।

দেশের প্রতিটি প্রান্তিক ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। গত ১৩ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচির অর্থায়নসংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রথম পর্যায়ে আট জেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়। পরে গত ১ নভেম্বর থেকে অবশিষ্ট ৫৬ জেলার উদ্যোক্তাদের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম