ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বৃদ্ধের বয়স্ক ভাতার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয় যুবকের বিরু/দ্ধে!
ছবিতে মালেক
মো: সজিব : গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
১৫ দিনেও ফেরত মেলেনি টাকা, যোগাযোগ করা হলে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস অভিযুক্তের; অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির প্রশ্ন সরকারি ভাতার টাকাও কি নিরাপদ নয়?
রাজবাড়ী
ইউনিয়নের দলজোড় গ্রামের আব্দুল মালেক নামের (৫৫) বছর বয়সী
এক অসহায় বৃদ্ধের বয়স্ক ভাতার ২ হাজার ৮০
টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার মালেক
নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত মালেক স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী। ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন
দেখিয়ে বৃদ্ধের মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে
সেখান থেকে বয়স্ক ভাতার
টাকা অন্য নম্বরে ট্রান্সফার
করে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী
বৃদ্ধ মালেকের বক্তব্য অনুযায়ী, একদিন রাজাবাড়ী ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের আটা নিতে গেলে
অভিযুক্ত মালেকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
কথার একপর্যায়ে অভিযুক্ত বলেন, 'আপনার নাম মালেক, আমার
নামও মালেক। তাহলে আমরা তো মিতা।'
এভাবেই তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ
রয়েছে, পরবর্তীতে অভিযুক্ত মালেক ওই বৃদ্ধের বাড়িতে
গিয়ে বলেন, সরকারিভাবে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়া হবে।
এ জন্য তাঁর মোবাইল
ফোনটি দিতে হবে। সরল
বিশ্বাসে বৃদ্ধ মোবাইল ফোনটি তাঁর হাতে তুলে
দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরই মোবাইলে আসা বয়স্ক ভাতার
২ হাজার ৮০ টাকা অন্য
একটি নম্বরে ট্রান্সফার করে নেওয়া হয়।
ঘটনার
পর ভুক্তভোগী বৃদ্ধ ও তাঁর স্ত্রী
রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের
ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীরের কাছে বিষয়টি জানান।
ইউপি সদস্য অভিযুক্ত মালেকের সঙ্গে কথা বলে টাকা
ফেরত দেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পেরিয়ে
গেলেও টাকা ফেরত পাননি
তাঁরা। বারবার টাকা দেওয়ার আশ্বাস
দিয়ে তাঁদের ঘোরানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে আজ ভুক্তভোগী বৃদ্ধ
ও তাঁর স্ত্রীর বক্তব্য
নেওয়া হয়েছে। তাঁরা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে তাঁদের
টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি
জানান।
অন্যদিকে
অভিযুক্ত মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি
টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস
দেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি,
এখন পর্যন্ত তিনি সেই টাকা
ফেরত দেননি।
এ ছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোনটি অভিযুক্ত অন্য একজনের কাছে
দিয়ে দেন এবং ওই
ব্যক্তির মাধ্যমে মোবাইলটি গ্রহণ বা রিসিভ করান।
বিষয়টি নিয়েও তাঁদের মধ্যে সন্দেহ ও প্রশ্ন তৈরি
হয়েছে।
এদিকে
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হলে
শাহানুর সরকার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়ার দাবি জানান। তিনি
বলেন, অভিযুক্তকে যেখানে পাওয়া যাবে, তাঁকে আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নিতে
হবে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, সরকারি বয়স্ক ভাতার মতো একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ যদি ফ্যামিলি কার্ডের প্রলো/ভন দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে অসহায় ভাতাভোগীরা কীভাবে নিরাপদ থাকবেন? একজন বৃদ্ধ মানুষের কাছে ২ হাজার ৮০ টাকা হয়তো কারও কাছে সামান্য অর্থ, কিন্তু তাঁর জীবনযাপনের জন্য এই টাকাই অনেক বড় সহায়তা।
প্রশাসনের
কাছে দাবি, ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে বয়স্ক ভাতার
টাকা কোথায় এবং কার নম্বরে
স্থানান্তর করা হয়েছে, তা
খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগের
সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং
ভুক্ত/ভোগী বৃদ্ধের টাকা
দ্রুত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা
করা হোক।
সরকারি
সুবিধার নাম ব্যবহার করে
অসহায় মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। ফ্যামিলি কার্ডের
প্রলোভন দেখিয়ে একজন বৃদ্ধের বয়স্ক
ভাতার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার
অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এখন
এলাকাবাসীর দাবি।
এবিষয়ে অভিযুক্ত
মালেক মুঠোফোনে ঘটনাটি মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং কোন নম্বরে টাকা ট্রান্সফার করেছেন
তা জানতে চান।

আপনার মতামত লিখুন