খুঁজুন
advertisement
advertisement
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১ কার্তিক, ১৪৩৩

পাইকগাছায় অসময়ের তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় অসময়ের তরমুজ চাষে কৃষকের সাফল্য

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

এম. জালাল উদ্দীন | পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি 

লবণাক্ততার প্রতিকূলতা জয় করে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নে ঘেরের ভেড়িতে অফ-সিজন বা অসময়ের তরমুজ চাষে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা ঘেরের উঁচু আইল কাজে লাগিয়ে তরমুজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় চলতি মৌসুমে ইউনিয়নটিতে প্রায় ১২৫ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোলাদানা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় বছরের দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানির উপস্থিতি থাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন কঠিন। এ পরিস্থিতিতে ঘেরের উঁচু ভেড়ি ও আইল ব্যবহার করে অসময়ের তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকেরা। গত বছর ইউনিয়নটিতে প্রায় ৪০ বিঘা জমিতে এ পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২৫ বিঘায়।

ইতোমধ্যে ইউনিয়নের ছালুবুনিয়া, খালিয়াচক, টেংরামারী (মাস্টারপাড়া), নায়েবখালী, পূর্ব দীঘা, দক্ষিণ কাইনমুখী ও বেতবুনিয়া গ্রামের মাঠে মাঠে তরমুজগাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ঘেরের উঁচু আইলে বাঁশের মাচা তৈরি করে তাতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তরমুজের সবুজ লতা। তরমুজের পাশাপাশি চাষ হচ্ছে পুঁইশাক, শসা, মিষ্টিকুমড়া ও উচ্ছে। এতে একই জমি কাজে লাগিয়ে একাধিক ফসল উৎপাদন এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের সাফল্য দেখে এ চাষে আগ্রহ বাড়ছে অন্যদেরও। ছালুবুনিয়া গ্রামের কৃষক চিরঞ্জীব ঢালী, হিমাদ্রি ঢালী, অভিজিৎ ও কাকুলী রায়সহ অনেকে এ চাষে যুক্ত হয়েছেন। কৃষক হিমাদ্রি ঢালী জানান, দুই বছর আগে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে এক বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ শুরু করেন। ওই পরিমাণ জমিতে তাঁর খরচ হয়েছিল ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। পরে উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে বিঘাপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। তাঁর এ সাফল্য এলাকার অন্য কৃষকদেরও তরমুজ চাষে উৎসাহিত করেছে।

অপরদিকে খালিয়াচক গ্রামের গোলক মণ্ডল ও দিলীপ কুমার মণ্ডলসহ অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ চাষ করছেন। তরমুজের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করে কোনো কোনো কৃষক লাখ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন।

সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শেখ তোফায়েল আহমেদ তুহিন বলেন, “সাধারণ মৌসুমের তুলনায় অফ-সিজনে তরমুজ চাষে উৎপাদন খরচ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম। ঘেরের ভেড়ি উঁচু করে এবং মিষ্টি পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে এ চাষ করা হচ্ছে। এতে একদিকে অনাবাদি জমির ব্যবহার বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, বিসিআরএল প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে তরমুজের বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন বলেন, “উপকূলীয় প্রতিকূল আবহাওয়া ও লবণাক্ততার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঘেরের ভেড়িতে অফ-সিজন তরমুজ চাষ কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। স্বাভাবিক মৌসুমের তুলনায় অসময়ের তরমুজের বাজারে চাহিদা ও দাম বেশি পাওয়া যায়। কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘেরের অনাবাদি ভেড়িতে অফ-সিজন তরমুজ ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ উপকূলীয় কৃষিতে বৈচিত্র্য আনছে। লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকায় জমির কার্যকর ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পাইকগাছায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ৪ ফার্মেসিকে জরিমানা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ৪ ফার্মেসিকে জরিমানা

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

এম. জালাল উদ্দীন ।।পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া মোড় বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে চারটি ফার্মেসিকে মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে বোয়ালিয়া মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

অভিযানে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মেসার্স দেবী ফার্মেসি, মেসার্স ইমরান ফার্মেসি, মেসার্স রহিম ফার্মেসি ও মেসার্স রোজিনা ফার্মেসিকে মোট আঠারো হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে খুলনা ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন, ইউএনও কার্যালয়ের পেশকার তুহিন বিশ্বাসসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বার্থে এবং ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বাসের হাইড্রোলিক জ্যাকে ২৮ হাজার ৮০০ ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাসের হাইড্রোলিক জ্যাকে ২৮ হাজার ৮০০ ইয়াবা, গ্রেপ্তার ১

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ২৮ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় মো. জালাল উদ্দীন (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) ডিবি উত্তর বিভাগ এ তথ্য জানায়। এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে নগরের বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় নাহার স্কেলের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, কক্সবাজার থেকে আসা হানিফ পরিবহনের একটি বাসে মাদক নিয়ে চট্টগ্রাম নগরে প্রবেশ করছেন এক কারবারি। এ তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি উত্তর বিভাগের টিম-২ ও স্পেশাল টিম-২ রাজাখালী এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায়। রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বাসটি চেকপোস্টে পৌঁছালে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় জালাল উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেখানো মতে বাসের মালামাল রাখার বক্সে থাকা একটি লোহার হাইড্রোলিক জ্যাকের ভেতর থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। বিশেষ কৌশলে ইয়াবাগুলো সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ কালবেলাকে বলেন, জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বাকলিয়া থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। তার বিরুদ্ধে একই আইনে আরও দুটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট ঢাকার মতিঝিল থানায় এবং ২০১৭ সালের ৯ জুলাই কক্সবাজার সদর থানায় মামলা হয়েছিল।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সাংবাদিক রিপনকে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, নিন্দা জামায়াতের

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাংবাদিক রিপনকে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ, নিন্দা জামায়াতের

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাজীপুরে দৈনিক কালবেলার জেলা প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ, নির্যাতন ও এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একজন সাংবাদিককে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে এ ধরনের নির্যাতন ও হুমকির শিকার হতে হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি।

বিবৃতিতে সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনের অভিযোগের বরাতে বলা হয়, তাকে অপহরণ করে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

একই সঙ্গে সাংবাদিকের ধারণ করা কোনো আপত্তিকর ভিডিও বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনকারী উপাদান যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকেরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা নির্যাতন করে সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম