খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩

ড্রোন প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ ইউআইইউ, বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ড্রোন প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ ইউআইইউ, বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

ছবিতে প্রতিযোগিতায় অংগ্রহনকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন :

আন্তর্জাতিক ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় উড়োজাহাজ প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস (এসইউএএস) ২০২৬ প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে ইউআইইউ’র এরিয়াল রোবোটিক্স টিম (ইউএআরটি)।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মর্যাদাপূর্ণ এ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়েই বাংলাদেশের কোনো দল হিসেবে পোডিয়ামে স্থান করে নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে ইউআইইউ’র ইউএআরটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির এই সাফল্য দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, রোবোটিক্স ও ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৬ সালের এসইউএএস প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব গত ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের টালসায় অবস্থিত স্কাইওয়ে রেঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। চার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় দলগুলো অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় প্রতিকূল আবহাওয়া, উচ্চ বাতাসের গতি এবং তাপমাত্রাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কৌশলগত সিদ্ধান্ত, প্রযুক্তিগত সমন্বয় ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে সফলভাবে মিশন সম্পন্ন করে ইউআইইউ’র ইউএআরটি এবং অর্জন করে বিশ্বে চতুর্থ স্থান।
৮১ দলের প্রতিযোগিতায় চতুর্থ ইউআইইউ
২০০৩ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসা এসইউএএস প্রতিযোগিতা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার্থীভিত্তিক আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত।
এবারের প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৮১টি দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৬৭টি দল চূড়ান্ত পর্বের ফ্লাইং প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়। পরবর্তী ধাপে ৬৪টি দল ফ্লাইট রেডিনেস অনুমোদন পায়। শেষ পর্যন্ত ৫৮টি দল প্রতিযোগিতার ফ্লাইট পরিচালনায় অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতার দিন প্রতিকূল আবহাওয়া অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। উচ্চ বাতাসের গতি ও তাপমাত্রাজনিত সমস্যার কারণে ফ্লাইট পরিচালনাকারী দলগুলোর মধ্যে ২১টি দল ক্র্যাশের শিকার হয়।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও ইউআইইউ’র ইউএআরটি দ্রুত কৌশল পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সমন্বয় করে তাদের নির্ধারিত মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে। এর মাধ্যমে তারা প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করে।
বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এসইউএএস ২০২৬-এ বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল কর্নেল ইউনিভার্সিটি, মোনাশ ইউনিভার্সিটি, দ্য ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং ওয়ারশ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়।
এসব প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ইউআইইউ’র ইউএআরটির চতুর্থ স্থান অর্জন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় মিশনে বিশেষ সাফল্য
প্রতিযোগিতায় ইউআইইউ’র এরিয়াল রোবোটিক্স টিম সেফটি ইন্সপেকশন ও র‌্যাপিড রেসপন্সে পূর্ণ নম্বর অর্জন করেছে।
এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় ইউএআরটি একমাত্র দল হিসেবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিশন সম্পন্ন করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
দলটির তৈরি স্বয়ংক্রিয় আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেলে রয়েছে একাধিক আধুনিক প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন, আকাশপথের মানচিত্র তৈরি, বস্তুর শনাক্তকরণ, পে-লোড সরবরাহ, বাধা শনাক্ত ও তা এড়িয়ে চলার সক্ষমতা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এই প্রযুক্তিগুলোর সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিবেশেও নির্ধারিত মিশন পরিচালনা ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয় ইউআইইউ’র দলটি।
দীর্ঘ গবেষণা ও প্রকৌশল উন্নয়নের ফল
ইউএআরটির এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গবেষণা, নকশা প্রণয়ন, প্রকৌশল উন্নয়ন, নির্মাণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ধারাবাহিক পরিমার্জনের সমন্বিত প্রচেষ্টা।
দলটির সদস্যরা স্বয়ংক্রিয় আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেল তৈরি ও এর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করেছেন। নেভিগেশন থেকে শুরু করে অবজেক্ট ডিটেকশন, ম্যাপিং, পে-লোড ডেলিভারি এবং বাধা এড়িয়ে চলার মতো জটিল প্রযুক্তি একই প্ল্যাটফর্মে সমন্বয় করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতার বাস্তব পরিবেশে এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করার পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিবর্তন ও উচ্চ বাতাসের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের সক্ষমতাও কাজে লাগিয়েছে দলটি।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা
ইউআইইউ’র ইউএআরটির এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার আগ্রহ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দূরদর্শী নেতৃত্ব, দক্ষ ফ্যাকাল্টি নির্দেশনা, শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সমন্বিত প্রয়াসে বাংলাদেশও বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে পারে—ইউএআরটির অর্জন তার একটি উদাহরণ।
বিশ্ববিদ্যালয়টির এ সাফল্য দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমসের মতো দ্রুত বিকাশমান ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রথমবার অংশ নিয়েই বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জনের মাধ্যমে ইউআইইউ’র ইউএআরটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেনি, বরং বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

যোগফল ডেস্ক 

লামা'র ডিএফও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে কাঠ পাচার ও বনভূমি দখলে মদদের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
লামা'র ডিএফও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে কাঠ পাচার ও বনভূমি দখলে মদদের অভিযোগ

ছবিতে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান

বিশেষ প্রতিবেদন | যোগফল অনলাইন :

বান্দরবানের লামা বন বিভাগে সরকারি বনাঞ্চল রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট এলাকায় অবৈধভাবে গাছ কাটা, কাঠ পাচার এবং সরকারি বনভূমি দখলের সুযোগ করে দিতে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ ঘটনায় লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও বনভূমি দখলকারীদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

নিয়ম-নীতির বাইরে গাছ কাটার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, লামা বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট এলাকায় অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই মূল্যবান গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে গর্জন, সেগুন, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কেটে নেওয়া কাঠের একটি অংশ সরকারি বৈধ কাগজপত্র ও চালান ছাড়াই বিভিন্ন পথে পরিবহন করা হয়। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, লামা বন বিভাগের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে অভিযোগ পৌঁছালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে কাঠ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অনিয়মের বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আপত্তি তুললে তাকে বদলি কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি বা প্রমাণ এই প্রতিবেদনের সঙ্গে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

বনভূমির পরিচয় ও জমি দখল নিয়ে প্রশ্ন
লামা বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি বনভূমি দখল নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের রেকর্ডভুক্ত জমির শ্রেণি, সীমানা কিংবা পরিচয় পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছু জায়গা দখলের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি চক্র ভুয়া বা প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র ব্যবহার করে সরকারি বনভূমিকে ব্যক্তি মালিকানার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ভূমি রেকর্ড, বন বিভাগের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
লামা বন বিভাগের এসব অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও দৃশ্যমান ও কার্যকর তদন্তের উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে সিএফ মিহির কুমার দো ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অনিয়মে নীরব থেকেছেন—এমন দাবি নিশ্চিত করতে স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন।

রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকি
অভিযোগকারীদের মতে, অবৈধভাবে গাছ কাটা ও কাঠ পাচার অব্যাহত থাকলে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি লামার বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। বন উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হওয়া, পাহাড়ি এলাকায় মাটির ক্ষয়, পাহাড়ধস ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে এসব পরিবেশগত প্রভাবের মাত্রা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে লামা বন বিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দোর বক্তব্যও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বনভূমির সীমানা ও রেকর্ড যাচাই এবং অবৈধভাবে গাছ কাটা বা সরকারি সম্পদ দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি বনসম্পদ রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শফিকুল ইসলাম বাবু | বিশেষ প্রতিনিধি, যোগফল অনলাইন 

কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান

মোঃ হাসান মাহমুদ জয় | কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: 

কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে দায়িত্বশীলদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌর অডিটোরিয়াম হলরুমে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহ-সভাপতি ও পরিচালক গোলাম রব্বানী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহ-পরিচালক ড. জিয়াউল হক ও অধ্যাপক আবুল হাশেম বাদল এবং কুড়িগ্রাম জেলা শাখার উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুল হামিদ মিয়া।

নেতৃবৃন্দের বিশেষ আহ্বান:
সমাবেশে বক্তারা কুড়িগ্রাম জেলার প্রতিটি উপজেলার দায়িত্বশীল নেতা এবং মিডিয়া সেলকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার আহ্বান জানান। এ সময় অ্যাডভোকেট জুয়েল রানাসহ উপস্থিত সকল দায়িত্বশীলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংগঠনের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক মন্তব্য ও সমসাময়িক প্রসঙ্গ:
বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রসঙ্গ নিয়ে বিভিন্ন রকম মন্তব্য ও মূল্যায়ন তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ। এছাড়া সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের চলমান সার সংকট পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন জনসমস্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন উপজেলা শাখার দায়িত্বশীল নেতারা এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

জেলা সেক্রেটারি আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী এবং জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার মিডিয়া বিভাগের প্রধান  অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল  ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মোশাররফ হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক 

পুবাইলের এপি এস নিট কম্পোজিট কারখানা ২৬ সেপ্টেম্বর খুলছে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পুবাইলের এপি এস নিট কম্পোজিট কারখানা ২৬ সেপ্টেম্বর খুলছে

ছবিতে চুক্তিপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক |গাজীপুর:

গাজীপুরের পুবাইলে অবস্থিত এপি এস নিট কম্পোজিট লিমিটেডের চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও অচলাবস্থা নিরসনে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (DIFE) গাজীপুর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সমঝোতা হয়। বৈঠকে DIFE-এর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিজিএমইএ প্রতিনিধি, কারখানা কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমঝোতা অনুযায়ী, কারখানায় আগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ৭৫ জন শ্রমিককে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে অবসান করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব শ্রমিকের বিরুদ্ধে মালিকপক্ষের করা অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি হয়রানি বা কালো তালিকাভুক্ত না করার বিষয়েও মালিকপক্ষ সম্মত হয়েছে বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
পাওনা পরিশোধ নিয়ে প্রশ্ন
চুক্তিতে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক ও স্টাফদের আর্থিক পাওনা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থের পরিমাণ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ৭৫ জন শ্রমিককে ৩০ দিনের মূল মজুরি হিসেবে নোটিশ পে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি বছরের চাকরির জন্য ২০ দিনের মূল মজুরি হারে সার্ভিস বেনিফিট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, কারখানার ৯ জন স্টাফের জন্য ১৫ দিনের নোটিশ পে এবং প্রতি বছরের চাকরির জন্য ১৫ দিনের মূল বেতন হারে সার্ভিস বেনিফিট নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অর্জিত ছুটির নগদায়নের ক্ষেত্রেও চুক্তিতে মোট প্রাপ্যের ৬০ শতাংশ অর্থ প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তির এই আর্থিক শর্তগুলো নিয়ে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শ্রম আইনের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২০-এর আওতায় ছাঁটাই ও চাকরির অবসানজনিত পাওনা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে আইনগত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বকেয়া বেতন পরিশোধের সিদ্ধান্ত
সমঝোতা অনুযায়ী, আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা আগামী তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের চলতি বকেয়া বেতন আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে প্রাপ্যতা অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে।
ছাঁটাই হওয়া ৭৫ শ্রমিক এবং ৯ জন স্টাফের চূড়ান্ত পাওনা আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে পরিশোধ করার কথা রয়েছে। চুক্তিতে আর্থিক লেনদেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে—বিকাশ, রকেট, উপায় অথবা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে—সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাওনা পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির প্রমাণক DIFE-এর গাজীপুর কার্যালয়ে দাখিল করার কথাও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদন
ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ হিসেবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে এপি এস নিট কম্পোজিটের উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যস্থতায় কর্মসংস্থান সচল রাখা, কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা এবং ভবিষ্যৎ শ্রম বিরোধ এড়ানোর লক্ষ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

যোগফল ডেস্ক