খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

ফুসফুসের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয় যে ৭ অভ্যাস

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ফুসফুসের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয় যে ৭ অভ্যাস

 যোগফল প্রতিবেদক:

বয়স কম হলেও অনেকেরই শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি কিংবা সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যার পেছনে বিভিন্ন রোগ ও সংক্রমণের পাশাপাশি দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসও ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘদিনের কিছু অনিয়ম ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।

ধূমপান, পরোক্ষ ধূমপান, বায়ুদূষণের সংস্পর্শ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মতো অভ্যাস শ্বাসযন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে গেলে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া কিংবা অল্প পরিশ্রমেই অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

ফুসফুসের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন সাতটি অভ্যাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. ধূমপান

ফুসফুসের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর অভ্যাসগুলোর একটি হলো ধূমপান। সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের ধোঁয়ায় থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক শ্বাসনালি ও ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধূমপানের ফলে ফুসফুসের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষ করে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডির অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ ধূমপান। তাই ফুসফুস সুস্থ রাখতে ধূমপান থেকে বিরত থাকা এবং ধূমপায়ী হলে তা ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা জরুরি।

২. পরোক্ষ ধূমপান

নিজে ধূমপান না করলেও অন্যের সিগারেটের ধোঁয়া নিয়মিত শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে শ্বাসযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একে পরোক্ষ ধূমপান বলা হয়।

বাড়ি, কর্মস্থল কিংবা অন্য কোনো স্থানে দীর্ঘ সময় ধূমপানের ধোঁয়ার মধ্যে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই অন্যের ধোঁয়া থেকেও নিজেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা প্রয়োজন।

৩. দূষিত পরিবেশে সুরক্ষা ছাড়া চলাফেরা

যানবাহনের ধোঁয়া, ধুলাবালি, কলকারখানার দূষণ এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর কণার সংস্পর্শ নিয়মিত হলে শ্বাসযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে। রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শও ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

দীর্ঘদিন বায়ুদূষণের মধ্যে থাকলে শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে আগে থেকে থাকা শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাও আরও বাড়তে পারে।

তাই অতিরিক্ত দূষিত পরিবেশে অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় না থাকা এবং ধুলা, ধোঁয়া বা রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে কাজ করার সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

৪. বদ্ধ ঘরে দীর্ঘ সময় থাকা

পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করে না এমন ঘরে দীর্ঘ সময় থাকলে ঘরের বাতাসের মান খারাপ হতে পারে। রান্নার ধোঁয়া, মশার কয়েল, তামাকের ধোঁয়া কিংবা বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া ঘরের ভেতরে জমে গেলে শ্বাসযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে রান্নার সময় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকলে ধোঁয়া ও ক্ষতিকর কণার সংস্পর্শ বেড়ে যায়। তাই ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং রান্নার ধোঁয়া বাইরে বের হওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি।

৫. দীর্ঘ সময় বসে থাকা

দিনের বড় একটি সময় বসে থাকা এবং শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড শরীরের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

তাই একটানা দীর্ঘ সময় বসে না থেকে কাজের ফাঁকে হাঁটাচলা করা এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক কর্মকাণ্ডের অভ্যাস করা ভালো।

৬. প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া

সর্দি-কাশি হলেই নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার অভ্যাসও ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ সব ধরনের সর্দি-কাশি বা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বারবার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনের সময় অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর না হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা হলে তাই নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৭. পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ না করা

শরীরে পানির ঘাটতি হলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শ্বাসনালিতে থাকা মিউকাস শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ শরীরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

তবে শুধু বেশি পানি পান করলেই ফুসফুসের সব ধরনের রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব—এমন ধারণা ঠিক নয়। ফুসফুস ভালো রাখতে ধূমপান এড়িয়ে চলা, বায়ুদূষণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ফুসফুস ভালো রাখতে যা করবেন

বয়স বাড়ার সঙ্গে ফুসফুসের কার্যকারিতা কিছুটা কমতে পারে। তবে ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলা, বায়ুদূষণের সংস্পর্শ কমানো, ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার মাধ্যমে ফুসফুসের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ অনুভূত হওয়া, শ্বাস নেওয়ার সময় অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া কিংবা অল্প পরিশ্রমেই অতিরিক্ত হাঁপিয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ নিহত ১১

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ নিহত ১১

 যোগফল প্রতিবেদক:

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে নাবাতিয়েহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

কাফর রেম্মানে মধ্যরাতের পর একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। এতে দুই শিশুসহ নয়জন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন।

একই এলাকায় একটি বেসামরিক গাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হলে ইসলামিক রিসালা স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের দুই প্যারামেডিক নিহত হন। সংগঠনটি লেবাননে জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রমে কাজ করে।

এ ছাড়া নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা ও আরবসালিম এলাকাতেও একাধিক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

দেইর আল-জাহরানি এলাকায় রাতের দিকে একটি ভবন ও আশপাশের কয়েকটি স্থাপনার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তাদের ভবনটি থেকে অন্তত ৩০০ মিটার দূরে চলে যেতে বলা হয়। নির্দেশ দেওয়ার প্রায় ২২ মিনিট পর ভবনটিতে বিমান হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করা হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ভবনটি হিজবুল্লাহর একটি স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাদের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাঠিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় ৪ হাজার ৩৬২ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩৭৮ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ৫ হাজারের বেশি হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। লেবাননের এক সামরিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তুলি আক্তার/অনলাইন ডেস্ক বিপিসি বাংলা

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে উদ্ধার ৫

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে উদ্ধার ৫

যোগফল প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা পাঁচজনকে উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১৫।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে র‍্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (ল অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে চারজন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। অপর একজন টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কচ্ছপিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ)-এর একটি দল।

অভিযানকারী দল মধ্যম কচ্ছপিয়া এলাকায় নুরুল কবিরের বসতবাড়ির সামনের সড়কে পৌঁছালে সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মানব পাচারের শিকার পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অজ্ঞাতনামা পাচারকারীরা আর্থিক সুবিধা লাভের পাশাপাশি জবরদস্তিমূলক শ্রম ও সেবা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীদের নৌকায় সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। এ উদ্দেশ্যে তাদের ওই এলাকায় একত্রিত করা হয়।

উদ্ধার হওয়া পাঁচজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্পত্তি রক্ষায় নতুন আইনি সুরক্ষা দেবে: রুমিন ফারহানা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্পত্তি রক্ষায় নতুন আইনি সুরক্ষা দেবে: রুমিন ফারহানা

 যোগফল প্রতিবেদক:

সম্পত্তি সন্তানদের নামে হস্তান্তর করার পরও যাতে বৃদ্ধ বাবা-মা জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করতে পারেন, সে সুযোগ রেখে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সংশোধনী দেশের অসংখ্য বৃদ্ধ বাবা-মাকে স্বস্তি দেবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, অনেক পরিবারে দেখা যায়, বাবা-মায়ের কাছ থেকে সম্পত্তি নেওয়ার পর তাদেরই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত আইনে দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন বিধানটি বাংলাদেশের অসংখ্য বাবা-মাকে জীবনের শেষ সময়ে নিরাপত্তা ও স্বস্তি দেবে। একই সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ কমানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

পরিবারের সবচেয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান রুমিন ফারহানা।

কেন আনা হচ্ছে সংশোধনী

বৃদ্ধ বাবা-মা জীবিত অবস্থায় সন্তান, নাতি-নাতনি কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর কাছে সম্পত্তি দান করার পর অনেক সময় ওই সম্পত্তিতে নিজেদের বসবাস ও ভোগদখলের অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন। বিশেষ করে বৃদ্ধ বয়সে নিজের বসতভিটা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই সমস্যা দূর করতেই সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে নতুন বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। পরে বিলটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

দান করেও সম্পত্তি ভোগের অধিকার

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিদ্যমান সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-তে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

১২২এ ধারার অধীনে কোনো ব্যক্তি সম্পত্তি দান করলেও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। বাবা-মা থেকে সন্তান বা নাতি-নাতনির মধ্যে, নাতি-নাতনি থেকে পূর্ববর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে।

স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের হস্তান্তর নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে করতে হবে।

প্রস্তাবিত আইনে আরও বলা হয়েছে, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পত্তির গ্রহীতা মারা গেলেও দাতার ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার বহাল থাকবে।

বিশেষ পরিস্থিতিতে অধিকার পরিবর্তনের সুযোগ

আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দিলে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে দাতার ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে।

কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অক্ষম বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে জেলা জজের অনুমোদনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত ১২২এ(৪) উপধারায় বলা হয়েছে, এই ধারার অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে প্রচলিত দান, হেবা বা অন্য কোনো বৈধ সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতা ক্ষুণ্ন হবে না।

কমতে পারে পারিবারিক বিরোধ

সংশোধনীটি কার্যকর হলে বাবা-মা সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সম্পত্তি দান করলেও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ওই সম্পত্তিতে বসবাস ও ভোগদখলের অধিকার ধরে রাখতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সম্পত্তিগত নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম