খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

কুমিল্লায় নিখোঁজের দুই দিন পর জলাশয়ে মিলল কাশ্মীরি শিক্ষার্থীর মরদেহ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুমিল্লায় নিখোঁজের দুই দিন পর জলাশয়ে মিলল কাশ্মীরি শিক্ষার্থীর মরদেহ

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে নিখোঁজের দুই দিন পর জলাশয় থেকে আদনান আলতাফ নামে এক কাশ্মীরি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার কাবিলা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। জলাশয়টি ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত।

নিহত আদনান আলতাফ কুমিল্লা ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সুপুর এলাকার বাসিন্দা।

ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের চেয়ারম্যান শাহ মো. সেলিম বলেন, আদনান কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে তার মাকে সঙ্গে রেখে ক্যাম্পাসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

নিহতের মায়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে আদনান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে একটি হোটেলে যান। সেখান থেকে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে তিনি নিখোঁজ হন।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, আদনান নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে। পরে বুধবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে জলাশয় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

শিবগঞ্জে বালুর স্তূপের নিচে পুঁতে রাখা নবজাতক উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শিবগঞ্জে বালুর স্তূপের নিচে পুঁতে রাখা নবজাতক উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আমবাগানের বালুর স্তূপের নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। লুঙ্গিতে মোড়ানো শিশুটিকে উদ্ধারের সময় কান্না করছিল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে উপজেলার জালমাছমারী মিয়াপাড়া গ্রামের একটি আমবাগান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. গোলাপ হোসেনসহ কয়েকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান জানান, সকালে গ্রামের রাস্তার পাশে খেলছিল হামিদুল (৫) ও নাফিউল (৩) নামে দুই শিশু। এ সময় তারা আমবাগানের বালুর স্তূপের নিচ থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পায়। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা বালু সরিয়ে লুঙ্গিতে মোড়ানো নবজাতকটিকে উদ্ধার করেন।

ওসি আরও জানান, কে বা কারা নবজাতকটিকে সেখানে ফেলে গেছে, তা জানতে অনুসন্ধান চলছে। এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করা হচ্ছে। আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।

বর্তমানে নবজাতকটি শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং সুস্থ আছে বলে জানা গেছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সখীপুরে চার মাসের শিশুকন্যাসহ তিন দিন ধরে নিখোঁজ গৃহবধূ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সখীপুরে চার মাসের শিশুকন্যাসহ তিন দিন ধরে নিখোঁজ গৃহবধূ

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টাঙ্গাইলের সখীপুরে চার মাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন লিজা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূ। গত ১ নভেম্বর সকাল থেকে মা ও মেয়ের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন দুই পরিবারের সদস্যরা।

এ ঘটনায় গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ি ও বাবার বাড়ির পক্ষ থেকে সখীপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। লিজা উপজেলার কালিয়ানপাড়া গ্রামের আল-আমিনের স্ত্রী।

পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার সময় লিজা স্বর্ণের চেইন ও নগদ ৫০ হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে গেছেন। লিখিত অভিযোগে লিজার শাশুড়ি সাজেদা আক্তার উল্লেখ করেন, ৩১ অক্টোবর রাতে পরিবারের সবাই খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে নাতনিকে নিতে ঘরের সামনে গিয়ে দেখেন, ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। পরে ঘরে লিজা ও তার শিশুকন্যাকে পাওয়া যায়নি।

লিজার স্বামী আল-আমিন বলেন, তিনি পেশায় গাড়িচালক। গাড়ি চালানোর কারণে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। ঘটনার দিন রাতেও তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরে পেতে চান তিনি।

অন্যদিকে লিজার বাবা লেবু মিয়া অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করতেন। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিনও তার স্বামী তাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। লেবু মিয়া বলেন, তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মেয়ে ও নাতনির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিনি তাদের খুঁজে বের করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আজহারুল ইসলাম বলেন, গৃহবধূ ও তার শিশুসন্তান নিখোঁজের ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

কুড়িগ্রামে সুপারির বাজার অর্ধেকে, কাঁচা সুপারি কিনছে চীনা কোম্পানি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুড়িগ্রামে সুপারির বাজার অর্ধেকে, কাঁচা সুপারি কিনছে চীনা কোম্পানি

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কয়েক বছরের ব্যবধানে কুড়িগ্রামে সুপারির বার্ষিক বেচাকেনা ১০০ কোটি টাকা থেকে কমে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এর মধ্যে অপরিপক্ব কাঁচা ও নরম সুপারি প্রতি পিস তিন টাকা দরে কিনছে চীনা কোম্পানিগুলো। উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পরিপক্ব হওয়ার আগেই সুপারি বাজার থেকে চলে যাওয়ায় আসন্ন মৌসুমে সরবরাহ সংকট ও দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

জেলায় সুপারিগাছের সংখ্যা থাকলেও কমছে ফলন। কোনো গাছে সামান্য সুপারি ধরেছে, আবার কোনো গাছে একেবারেই ফলন নেই। গত বছর যেসব গাছে দু-একটি থোকা সুপারি ছিল, এবার সেগুলোর অনেক গাছেই ফল দেখা যাচ্ছে না। আবার যেসব গাছে আগে তিন থেকে পাঁচটি থোকা ধরত, এবার সেখানে মিলছে মাত্র এক-দুটি। এতে বিপাকে পড়েছেন চাষি ও বাগান ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, কয়েক বছর আগেও জেলায় বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হতো। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে সুপারির বাজার অর্ধেকেরও বেশি সংকুচিত হয়েছে।

উৎপাদন কমার পাশাপাশি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে কাঁচা ও নরম সুপারি সংগ্রহের প্রবণতা। চীনা কোম্পানিগুলো সরাসরি এবং স্থানীয় ডিলার ও সাব-ডিলারদের মাধ্যমে এসব সুপারি কিনছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং এলাকায় মাইকিং করেও চলছে সংগ্রহ কার্যক্রম। স্থানীয় সাব-ডিলাররা সুপারি সংগ্রহ করে ডিলার পয়েন্টে পাঠাচ্ছেন। তিস্তা ও রংপুরের বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট থেকেও এসব সুপারি সংগ্রহ করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত চার বছর ধরে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এভাবে কাঁচা সুপারি কেনাবেচা হচ্ছে। এবার কুড়িগ্রামের রাজারহাটসহ বিভিন্ন উপজেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে এ কার্যক্রম।

রাজারহাটের নাজিমখান বাজারের আশা অফিসসংলগ্ন এলাকা ও নাজিমখান ব্রিজ রোডে গড়ে উঠেছে সুপারি সংগ্রহের একাধিক সাব-ডিলার পয়েন্ট। সেখানে প্রতি পিস কাঁচা ও নরম সুপারি কেনা হচ্ছে তিন টাকা দরে। সে হিসাবে প্রতি হালি ১২ টাকা এবং প্রতি পন ২৪০ টাকা।

স্থানীয় সাব-ডিলার হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ইতোমধ্যে ৮ থেকে ৯ হাজার পিস সুপারি কিনেছেন। নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী, প্রতিটি সুপারি ২২ থেকে ৩২ গ্রাম ও লম্বাটে হতে হবে। পাশাপাশি সুপারি হতে হবে কাঁচা, সবুজ এবং ভেতরের অংশ নরম।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব কাঁচা ও নরম সুপারি নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক পণ্য তৈরি করে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের জনপ্রিয় চিবানোর সুপারি ‘বিংলাং’, বিভিন্ন ধরনের নির্যাস এবং প্রসাধনীসহ অন্যান্য শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী উপাদান।

রাজারহাটের সুপারি বাগান ব্যবসায়ী রায়হানুর রহমান কাজল বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বাগানগুলোতে প্রায় ৩০ শতাংশ ফলন কমেছে। তার নিজের ১০টি সুপারি বাগান রয়েছে। গত মৌসুমে এসব বাগানের সুপারি বিক্রি করে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন। এবার ফলন কম হওয়ায় সুপারির দাম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

সুপারি ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান বলেন, আবহাওয়া ও গাছের বয়সের কারণেও সুপারি গাছ মারা যায়। তবে এবার ফলন কম হওয়ায় বাজারে সুপারির সংকট তৈরি হতে পারে। এতে দাম বাড়ার পাশাপাশি সুপারি পচানো ও সংরক্ষণের খরচও বাড়তে পারে।

নাজিমখান বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, মজা সুপারি আকারভেদে প্রতি পন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকায়। অন্যদিকে সঠিবাড়ি, খুলনা ও বৈরাতি জাতের সুপারি বিক্রি হচ্ছে প্রতি পন ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সুপারির বাগান রয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুপারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এটি বহু কৃষক পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস। তবে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পরিপক্ব হওয়ার আগেই কাঁচা সুপারি সংগ্রহের প্রবণতা এ খাতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। ফলে আসন্ন মৌসুমে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি ও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদা আফরীন বলেন, তাপমাত্রার ওঠানামা, বৃষ্টিপাতের অভাব, খাদ্য ও পুষ্টির ঘাটতি এবং কিছু এলাকায় রোগবালাইয়ের কারণে সুপারির ফলন কমেছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় কৃষকদের পরিমিত সেচ দেওয়া, বছরে দুইবার সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী বালাইনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম