সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজে ৯ শ্রমিক নিহত, মর্গে স্বজনদের আহাজারি
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের ঘটনায় ৯ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের দুই ভাই রয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও প্রাঙ্গণে বাড়তে থাকে তাদের ভিড়। কেউ আহত স্বজনের চিকিৎসার খোঁজ নিচ্ছিলেন, আবার কেউ খুঁজছিলেন নিখোঁজ স্বজনকে।
চমেক হাসপাতালের মর্গের সামনে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একের পর এক মরদেহ সেখানে আনা হলে স্বজনরা পরিচয় শনাক্তের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। নিহত দুই ভাইয়ের মরদেহ পাশাপাশি পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে মর্গের পরিবেশ।
হাসপাতালে একদিকে আহত শ্রমিকদের চিকিৎসায় ব্যস্ত ছিলেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। অন্যদিকে মর্গের সামনে নিহতদের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত ও হস্তান্তরের অপেক্ষায় ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে অন্যান্য দিনের মতোই শ্রমিকরা শিপইয়ার্ডে কাজে যোগ দেন। কাজ চলাকালে গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। এতে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজ থেকেই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কীভাবে গ্যাস লিক হয়েছে, শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গ্যাস লিকেজের কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার সম্ভাব্য ত্রুটি এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণে কাজ করবে।
এদিকে শিপইয়ার্ডে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার সময় শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম, গ্যাস শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ও জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সকালে কর্মস্থলে যাওয়া শ্রমিকদের মৃত্যুতে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিশেষ করে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোক আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখন গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি শিপইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন