খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসায় লাইসেন্সিংয়ে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ব্যবসায় লাইসেন্সিংয়ে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

যোগফল প্রতিবেদক: 

বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসা, মানি চেঞ্জার, স্বর্ণ আমদানি ও পরিশোধন কার্যক্রমের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন, লেনদেনের সীমা এবং তদারকিসংক্রান্ত নীতিমালা হালনাগাদ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে পাঁচ শ্রেণির নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও কার্যক্রম পরিচালনার বিদ্যমান নির্দেশনা একত্র করে সমন্বিত সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারার অধীনে জারি করা সার্কুলারটি জারির তারিখ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে। এতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আগের নির্দেশনার পরিবর্তে নতুন বিধান কার্যকর হবে।

নতুন নির্দেশনার আওতায় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক, পূর্ণাঙ্গ ও সীমিত মানি চেঞ্জার, অনুমোদিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং স্বর্ণ আকরিক ও ডোরে আমদানির অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ শ্রেণি অনুযায়ী লাইসেন্স, প্রতিবেদন দাখিল ও ব্যবসা পরিচালনার শর্ত মানতে হবে।

ভ্রমণে বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহের সীমা

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এডি ব্যাংকগুলো প্রযোজ্য ভ্রমণসুবিধার বিপরীতে প্রতি ব্যক্তি ও প্রতি যাত্রায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার নোট ও কয়েন সরবরাহ করতে পারবে। নির্দিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রেও একই সীমা প্রযোজ্য হবে।

নগদ অর্থের নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অবশিষ্ট ভ্রমণসুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী অবাধে বিনিময়যোগ্য মুদ্রায় অথবা আন্তর্জাতিক ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া যাবে।

পূর্ণাঙ্গ মানি চেঞ্জারগুলো বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণসুবিধার বিপরীতে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার নোট বিক্রি করতে পারবে।

যাত্রীর পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির তথ্য এন্ডোর্সমেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি নেওয়া যাবে। এ ফি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং প্রতিটি অর্থ পরিশোধের বিপরীতে রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিদেশি পর্যটকেরা সিস্টেমে তৈরি এনক্যাশমেন্ট সনদ দেখিয়ে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারের মাধ্যমে অব্যবহৃত বাংলাদেশি টাকা সর্বোচ্চ ৫০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করতে পারবেন।

মানি চেঞ্জারের লেনদেন ও লাইসেন্সের শর্ত

সার্কুলারে পূর্ণাঙ্গ মানি চেঞ্জারদের প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন মানি চেঞ্জার মনিটরিং সিস্টেমে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহককে স্বতন্ত্র লেনদেন শনাক্তকরণ নম্বরসংবলিত সিস্টেম-উৎপাদিত স্বীকৃতিপত্র দিতে হবে।

প্রতি মাসের লেনদেন বিবরণী পরবর্তী মাসের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।

নতুন নীতিমালায় পূর্ণাঙ্গ মানি চেঞ্জারদের দৈনিক সমাপনী বৈদেশিক মুদ্রার নগদ স্থিতির সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এডি ব্যাংকে রক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবের স্থিতি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ এবং নগদ বাংলাদেশি টাকার স্থিতি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ মানি চেঞ্জারের লাইসেন্সের মেয়াদ হবে এক বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত দুই মাস আগে নবায়নের আবেদন করতে হবে।

লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ন্যূনতম পরিমাণ ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫ লাখ মার্কিন ডলার এবং অন্যান্য এলাকায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ হতে হবে।

একক মালিকানা ও অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম নিট সম্পদ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যৌথ মূলধনী কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হতে হবে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা।

সীমিত মানি চেঞ্জার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক শর্ত

ব্যাংকের শাখা বা বুথের মাধ্যমে পরিচালিত সীমিত মানি চেঞ্জার কার্যক্রম এবং হোটেল, উপহারের দোকানসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্যাংকবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি পাসপোর্টধারীদের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রির বিপরীতে কেবল নগদ বৈদেশিক মুদ্রা গ্রহণ করতে পারবে। তারা সাধারণ জনগণের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করতে পারবে না।

এসব প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী কার্যদিবসের মধ্যে এডি ব্যাংকের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করতে হবে। তবে পরিচালনাগত সুবিধার জন্য সর্বোচ্চ ১ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ করা যাবে।

এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ হবে দুই বছর। তবে ব্যাংকের বুথের জন্য দেওয়া অনুমতির পর্যায়ক্রমিক নবায়নের প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি মাসিক প্রতিবেদন দাখিল এবং অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত নির্দেশনা পরিপালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

স্বর্ণ আমদানিতে পৃথক অনুমোদন বাধ্যতামূলক

নতুন নীতিমালায় অনুমোদিত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের লাইসেন্সের আওতায় স্বর্ণবার ও স্বর্ণালংকার আমদানির শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে লাইসেন্স থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বর্ণ আমদানির অনুমতি পাওয়া যাবে না। প্রতিটি চালানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক পূর্বানুমোদন নিতে হবে। আবেদনে আমদানির চাহিদা ও লেনদেনে ব্যবহৃত বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের লাইসেন্সের মেয়াদ হবে দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে নবায়নের আবেদন করতে হবে। নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ টাকা।

স্বর্ণ আকরিক ও ডোরে আমদানিতে পাঁচ বছরের অনুমতি

পরিশোধনের উদ্দেশ্যে স্বর্ণ আকরিক ও ডোরে আমদানির অনুমতি পেতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন, নিরাপদ সংরক্ষণব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা, উপযুক্ত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং করসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে।

যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক অনুমতি ফি ৩০ লাখ টাকা এবং নবায়ন ফি ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমতির মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

তদারকি ও লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা বহাল

সমন্বিত সার্কুলারে নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকির ক্ষমতা বহাল রাখা হয়েছে। প্রযোজ্য আইন ও নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং লাইসেন্স বা অনুমতি বাতিল করতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কোনো ব্যাংক তার নির্দিষ্ট শাখায় বৈদেশিক মুদ্রা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি চাইলে প্রধান কার্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন, আগের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও বকেয়া আমদানি বিলের তথ্য, যোগ্য জনবলের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট শাখার অনুমোদনসংক্রান্ত নথি জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার ও অন্যান্য যোগ্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবসাস্থল পরিবর্তন, মালিকানা হস্তান্তর এবং কোম্পানির কাঠামোগত পুনর্গঠনের পদ্ধতিও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সমন্বিত নীতিমালার লক্ষ্য হলো ব্যাংক, মানি চেঞ্জার, স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও স্বর্ণ পরিশোধন প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা এবং একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানভেদে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দিষ্ট শর্ত বজায় রাখা।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং ‘নবাব’ নামে পরিচিত মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলো পাইকগাছা থানায় ২৭ ও ২৮ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তারিখ ২৭/১০ বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ফোনে চাঁদাবাজির ঘটনার ৩ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে আসলাম শিকদার নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা

সাইফুল ইসলাম  ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে। 

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.এম জুলকদর রহমান।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম