খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

জঘন্য অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জঘন্য অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যোগফল প্রতিবেদন:

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিটি জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হবার পর তা দ্রুততম সময়ে উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

মন্ত্রী আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা সকল জঘন্য অপরাধের ঘটনা দ্রুততম সময়ে উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পেরেছি। আর যেগুলো সময়সাপেক্ষ সেগুলো তদন্তের পরে দেখা যাবে যে কতটুকু অগ্রগতি আমরা করতে পেরেছি।

সম্প্রতি কুমিল্লায় সংঘটিত ১৩ বছর বয়সী কিশোর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত চারজন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আসামিরা অপরাধ স্বীকার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্তরা কিশোর অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং নিহত কিশোরের চেয়ে বয়সে ৫ থেকে ১০ বছরের বড়। তাদের কাছ থেকে নিহত কিশোরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ যাবতীয় আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের সময়োপযোগী তৎপরতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল করা হবে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এ ঘটনার বিচারও যেন সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন হয়, সে জন্য বিচার বিভাগকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার এটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং তথ্য-উপাত্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। সামাজিক অবক্ষয়কে অপরাধের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রায় সব ক্ষেত্রে দেখা যায় সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধগুলোর পেছনে মাদক, জুয়া কিংবা পর্নোগ্রাফির মতো অনুষঙ্গ জড়িত। এ থেকে উত্তরণে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পর্যায় থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমাদের যুবসমাজ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে বিকশিত হতে পারে। এ ছাড়া সমাজের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধারে ককটেল বিস্ফোরণ ও পার্কিং করা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার কড়া সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের তথাকথিত "লকডাউন" কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ অপতৎপরতা চালানো হয়েছে। ককটেলবাজির ঘটনায় মোটরসাইকেলসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এমনকি হাইকোর্ট ফটক ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় জড়িতদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যান্য ঘটনায় জড়িতদেরও শনাক্ত করার কাজ চলছে। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জনগণ ও সরকার এসব অপতৎপরতায় মোটেও শঙ্কিত নয় এবং দেশবাসী ইতোমধ্যে এদের বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লংমার্চ  প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে যেকোনো রাজনৈতিক দলের গঠনমূলক সমালোচনা ও কর্মসূচি পালনের অধিকার রয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে বিরোধী দলের লংমার্চগুলো সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে। রাজনীতিতে জনমতের মাধ্যমেই সবকিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে যেকোনো অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে উদাসীনতাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, বিগত আমলের পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাময়িক সংকট তৈরি হলেও বর্তমান সরকার দেশের নিজস্ব সম্পদ আহরণে মনোযোগ দিয়েছে। দেশের শিল্পখাতে গ্যাসের ধারাবাহিক সরবরাহ বজায় রাখতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে নতুন ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে ইতোমধ্যে দৈনিক ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে। নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুতই গ্যাসে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান মিলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত শুক্রবারে তেজগাঁওয়ের একটি মসজিদে নামাজ শেষে গোপন বৈঠকে বসলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মোবাইল ফোন ফরেনসিক ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর যাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, সেই ১১ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিষয়ে পাওয়া তথ্যানুসারে তারা 'ইত্তেহাদুল উম্মাহ' নামে একটি নতুন উগ্রবাদী সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। যেকোনো ধরনের উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে রিমান্ডে আনা হয়েছে এবং আইনানুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং ‘নবাব’ নামে পরিচিত মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলো পাইকগাছা থানায় ২৭ ও ২৮ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তারিখ ২৭/১০ বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ফোনে চাঁদাবাজির ঘটনার ৩ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে আসলাম শিকদার নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা

সাইফুল ইসলাম  ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে। 

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.এম জুলকদর রহমান।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম