খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩

মেসির ছায়ায় আড়ালে রোমান ভেগা, আর্জেন্টিনার নতুন তারকা হওয়ার অপেক্ষায়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মেসির ছায়ায় আড়ালে রোমান ভেগা, আর্জেন্টিনার নতুন তারকা হওয়ার অপেক্ষায়

আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পেয়েছেন রোমান ভেগাভেগার ইনস্টাগ্রাম

যোগফল প্রতিবেদন:

বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো প্রীতি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলের। তবে এই সিরিজকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনার নতুন অধ্যায় নিয়ে। বিশেষ করে লিওনেল মেসি জাতীয় দল থেকে অবসর ঘোষণা করায় সমর্থকদের আগ্রহ ছিল—মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা কেমন হবে?

কিন্তু বাস্তবে সেই আলোচনার বড় অংশই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মেসিকে ঘিরে। কারণ তিনটি প্রীতি ম্যাচের একটিতে কিংবদন্তি মেসিকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে নতুনদের নিয়ে আলোচনার জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এর মধ্যেই প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ২২ বছর বয়সী লেফট ব্যাক রোমান ভেগা। মেসির বিদায়ী ম্যাচের আলোচনায় কিছুটা আড়ালে পড়ে গেলেও আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের চোখে এই তরুণই স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় চমক।

নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রোমান ভেগা:

আর্জেন্টিনার স্কোয়াড ঘোষণা হলেই সাধারণত সবার নজর থাকে নতুন মুখগুলোর দিকে। মেসি গত মাসে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার সেই আগ্রহ আরও বেশি ছিল। কারণ সবাই অপেক্ষায় ছিলেন মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার নতুন দল দেখার জন্য।

কিন্তু মেসিকে স্কোয়াডে রাখা এবং তাঁর বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তের কারণে সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বদলে গেছে।

তবুও আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলো রোমান ভেগাকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশটির ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের মতে, রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলা ভেগা আর্জেন্টিনা দলের এমন একটি পজিশনের সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন, যেখানে ভবিষ্যতের জন্য নতুন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন রয়েছে।

কোন পজিশনে খেলেন ভেগা?

রোমান ভেগার মূল পজিশন লেফট ব্যাক। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী মিডফিল্ডার কিংবা দ্বিতীয় সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবেও খেলতে পারেন তিনি।

আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন নিকোলাস তালিয়াফিকো। কিন্তু তাঁর বয়স এখন ৩৪ বছর। ফলে আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই পজিশনে নতুন কাউকে তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সম্ভবত সেই চিন্তা থেকেই ভেগাকে জাতীয় দলের স্কোয়াডে ডেকেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।

বাঁ পায়ের এই ফুটবলারের অন্যতম শক্তি তাঁর গতিশীলতা। উইং ধরে দ্রুত ওঠানামা করতে পারেন তিনি। আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে ড্রিবলিংয়ে কাটিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও রয়েছে তাঁর।

গতি, ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা, বল নিয়ন্ত্রণ, পায়ের কাজ এবং শক্তিশালী শট—সব মিলিয়ে এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন ভেগা।

‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ থেকে উঠে আসা

রোমান ভেগার বেড়ে ওঠা আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে। ডিয়েগো ম্যারাডোনা, হুয়ান রোমান রিকেলমে, ফার্নান্দো রেদোনদো ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকা ফুটবলার উপহার দিয়েছে ক্লাবটি।

এ কারণেই আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সকে অনেক সময় ‘বিশ্ব ফুটবলের বীজতলা’ বলা হয়।

২০০৪ সালে বুয়েনস এইরেসে জন্ম নেওয়া ভেগা এই ক্লাবের বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে মূল দলে জায়গা করে নেন। ২০২১ সালে আর্জেন্টিনার শীর্ষ লিগে ক্লাবটির হয়ে অভিষেক হয় তাঁর।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে তাঁকে এক বছরের জন্য ধারে বার্সেলোনায় পাঠানো হয়। এজন্য বার্সেলোনা ৫০ হাজার ইউরো খরচ করেছিল। চুক্তিতে ৪৫ লাখ ইউরো দিয়ে তাঁকে স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগও ছিল। কিন্তু কাতালান ক্লাবটি শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগায়নি।

বার্সেলোনার ‘বি’ দলের হয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলে আবার আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সে ফিরে আসেন ভেগা।

এরপর ধীরে ধীরে ক্লাবটির মূল একাদশে নিয়মিত হয়ে ওঠেন তিনি। জুনিয়র্সের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৩ ম্যাচ খেলেছেন ভেগা। করেছেন একটি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও তিনটি।

বয়সভিত্তিক দলেও নজর কেড়েছেন

ক্লাব পর্যায়ের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক জাতীয় দলেও জায়গা করে নিয়েছেন ভেগা।

অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে পাঁচটি এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা গেছে এই তরুণকে।

বয়সভিত্তিক ফুটবলে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর এবার এসেছে জাতীয় দলের মূল স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার পালা।

৯০ লাখ ডলারে জেনিতে ভেগা

২০২৫ সালের জুলাইয়ে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স থেকে ৯০ লাখ ডলারে রোমান ভেগাকে দলে নেয় রাশিয়ার ক্লাব জেনিত সেন্ট পিটার্সবার্গ। তাঁর সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করে ক্লাবটি।

জেনিতে যোগ দেওয়ার পর শুরুতে মূল একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাননি ভেগা। তবে সময়ের সঙ্গে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন তিনি।

গত মৌসুমে রাশিয়ান সুপার লিগে জেনিতের হয়ে ১৪ ম্যাচ খেলেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে তাঁর ম্যাচ সংখ্যা ছিল ২৩।

এ মৌসুমে জেনিতের হয়ে রাশিয়ান সুপার কাপও জিতেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত রাশিয়ার ক্লাবটির হয়ে মোট ৩৪টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর।

ভেগাকে চেয়েছিল রিভার প্লেটও

রোমান ভেগার পারফরম্যান্সে নজর পড়েছিল আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় ক্লাব রিভার প্লেটেরও।

জেনিতে যোগ দেওয়ার মাত্র ছয় মাস পর তাঁকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন রিভার প্লেটের তৎকালীন কোচ মার্সেলো গ্যালার্দো। তবে দুই পক্ষের আলোচনা শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে রূপ নেয়নি।

এরপর জেনিতেই নিজের জায়গা ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যান ভেগা। আর সেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দিয়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দরজা।

জাতীয় দলে ডাক পেয়ে আবেগঘন বার্তা

জাতীয় দলের স্কোয়াডে প্রথমবার ডাক পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ভেগা।

ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লিখেছেন—‘যেটার স্বপ্ন দেখেছি।’

মাত্র কয়েকটি শব্দেই বোঝা যায়, আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি পরার স্বপ্ন কতটা বড় ছিল তাঁর কাছে।

এখন সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। কিন্তু সামনে আরও বড় পরীক্ষা।

মেসির ছায়া পেরিয়ে নিজের জায়গা করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ

রোমান ভেগার জাতীয় দলে অভিষেকের মুহূর্তটি হতে যাচ্ছে বিশেষ। কারণ একই সময়ে আর্জেন্টিনা খেলবে মেসিকে বিদায় জানানোর আবেগঘন ম্যাচ।

ফলে মেসিকে ঘিরে থাকা বিশাল আলোচনার মধ্যে ভেগার মতো নতুনদের নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ কিছুটা আড়ালে চলে যেতে পারে।

তবে মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে খুব দ্রুতই সেই আলো নিজের দিকে টেনে নিতে পারবেন ভেগা।

আর্জেন্টিনার লেফট ব্যাক পজিশনে ভবিষ্যতের জন্য একজন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় খুঁজছে স্কালোনির দল। সেই জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ এখন ভেগার সামনে।

তিন প্রীতি ম্যাচেই পরীক্ষা

এবারের আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনা খেলবে তিনটি প্রীতি ম্যাচ।

৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বলিভিয়া। এরপর ৩ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসে স্কালোনির দল খেলবে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে।

আর ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে হবে তৃতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচ। এই ম্যাচটিই মেসির বিদায়ী ম্যাচ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এই তিন ম্যাচে স্কালোনির নজর কাড়তে হলে ভেগাকে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় দলের লেফট ব্যাক পজিশনে দীর্ঘমেয়াদি জায়গা করে নিতে হলে ক্লাবের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নিজেকে মেলে ধরতে হবে তাঁকে।

মেসির বিদায়ের আবেগের মধ্যেই আর্জেন্টিনা খুঁজছে নতুন দিনের নতুন মুখ। রোমান ভেগা সেই নতুন অধ্যায়ের একজন হতে পারেন কি না, সেটির প্রথম উত্তর মিলতে পারে আসন্ন আন্তর্জাতিক বিরতিতেই।

লামা'র ডিএফও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে কাঠ পাচার ও বনভূমি দখলে মদদের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
লামা'র ডিএফও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে কাঠ পাচার ও বনভূমি দখলে মদদের অভিযোগ

ছবিতে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমান

বিশেষ প্রতিবেদন | যোগফল অনলাইন :

বান্দরবানের লামা বন বিভাগে সরকারি বনাঞ্চল রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট এলাকায় অবৈধভাবে গাছ কাটা, কাঠ পাচার এবং সরকারি বনভূমি দখলের সুযোগ করে দিতে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ ঘটনায় লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

অভিযোগকারীদের দাবি, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও বনভূমি দখলকারীদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

নিয়ম-নীতির বাইরে গাছ কাটার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, লামা বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট এলাকায় অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই মূল্যবান গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে গর্জন, সেগুন, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কেটে নেওয়া কাঠের একটি অংশ সরকারি বৈধ কাগজপত্র ও চালান ছাড়াই বিভিন্ন পথে পরিবহন করা হয়। এ ক্ষেত্রে বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, লামা বন বিভাগের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে অভিযোগ পৌঁছালেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে কাঠ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অনিয়মের বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আপত্তি তুললে তাকে বদলি কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নথি বা প্রমাণ এই প্রতিবেদনের সঙ্গে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

বনভূমির পরিচয় ও জমি দখল নিয়ে প্রশ্ন
লামা বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি বনভূমি দখল নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের রেকর্ডভুক্ত জমির শ্রেণি, সীমানা কিংবা পরিচয় পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছু জায়গা দখলের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি চক্র ভুয়া বা প্রশ্নবিদ্ধ কাগজপত্র ব্যবহার করে সরকারি বনভূমিকে ব্যক্তি মালিকানার আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ভূমি রেকর্ড, বন বিভাগের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
লামা বন বিভাগের এসব অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও দৃশ্যমান ও কার্যকর তদন্তের উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে সিএফ মিহির কুমার দো ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অনিয়মে নীরব থেকেছেন—এমন দাবি নিশ্চিত করতে স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন।

রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকি
অভিযোগকারীদের মতে, অবৈধভাবে গাছ কাটা ও কাঠ পাচার অব্যাহত থাকলে সরকার রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি লামার বনজ সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। বন উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হওয়া, পাহাড়ি এলাকায় মাটির ক্ষয়, পাহাড়ধস ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তবে এসব পরিবেশগত প্রভাবের মাত্রা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে লামা বন বিভাগের ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দোর বক্তব্যও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বনভূমির সীমানা ও রেকর্ড যাচাই এবং অবৈধভাবে গাছ কাটা বা সরকারি সম্পদ দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি বনসম্পদ রক্ষা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শফিকুল ইসলাম বাবু | বিশেষ প্রতিনিধি, যোগফল অনলাইন 

কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান

মোঃ হাসান মাহমুদ জয় | কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: 

কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে দায়িত্বশীলদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌর অডিটোরিয়াম হলরুমে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহ-সভাপতি ও পরিচালক গোলাম রব্বানী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহ-পরিচালক ড. জিয়াউল হক ও অধ্যাপক আবুল হাশেম বাদল এবং কুড়িগ্রাম জেলা শাখার উপদেষ্টা মাওলানা আব্দুল হামিদ মিয়া।

নেতৃবৃন্দের বিশেষ আহ্বান:
সমাবেশে বক্তারা কুড়িগ্রাম জেলার প্রতিটি উপজেলার দায়িত্বশীল নেতা এবং মিডিয়া সেলকে আরও সক্রিয় ও গতিশীল করার আহ্বান জানান। এ সময় অ্যাডভোকেট জুয়েল রানাসহ উপস্থিত সকল দায়িত্বশীলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংগঠনের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক মন্তব্য ও সমসাময়িক প্রসঙ্গ:
বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রসঙ্গ নিয়ে বিভিন্ন রকম মন্তব্য ও মূল্যায়ন তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ। এছাড়া সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের চলমান সার সংকট পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন জনসমস্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন উপজেলা শাখার দায়িত্বশীল নেতারা এই সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

জেলা সেক্রেটারি আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী এবং জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার মিডিয়া বিভাগের প্রধান  অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল  ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মোশাররফ হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক 

পুবাইলের এপি এস নিট কম্পোজিট কারখানা ২৬ সেপ্টেম্বর খুলছে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পুবাইলের এপি এস নিট কম্পোজিট কারখানা ২৬ সেপ্টেম্বর খুলছে

ছবিতে চুক্তিপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক |গাজীপুর:

গাজীপুরের পুবাইলে অবস্থিত এপি এস নিট কম্পোজিট লিমিটেডের চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও অচলাবস্থা নিরসনে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (DIFE) গাজীপুর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সমঝোতা হয়। বৈঠকে DIFE-এর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিজিএমইএ প্রতিনিধি, কারখানা কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমঝোতা অনুযায়ী, কারখানায় আগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ৭৫ জন শ্রমিককে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে অবসান করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব শ্রমিকের বিরুদ্ধে মালিকপক্ষের করা অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি হয়রানি বা কালো তালিকাভুক্ত না করার বিষয়েও মালিকপক্ষ সম্মত হয়েছে বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
পাওনা পরিশোধ নিয়ে প্রশ্ন
চুক্তিতে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক ও স্টাফদের আর্থিক পাওনা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থের পরিমাণ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ৭৫ জন শ্রমিককে ৩০ দিনের মূল মজুরি হিসেবে নোটিশ পে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি বছরের চাকরির জন্য ২০ দিনের মূল মজুরি হারে সার্ভিস বেনিফিট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, কারখানার ৯ জন স্টাফের জন্য ১৫ দিনের নোটিশ পে এবং প্রতি বছরের চাকরির জন্য ১৫ দিনের মূল বেতন হারে সার্ভিস বেনিফিট নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অর্জিত ছুটির নগদায়নের ক্ষেত্রেও চুক্তিতে মোট প্রাপ্যের ৬০ শতাংশ অর্থ প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চুক্তির এই আর্থিক শর্তগুলো নিয়ে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে শ্রম আইনের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২০-এর আওতায় ছাঁটাই ও চাকরির অবসানজনিত পাওনা কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে আইনগত ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বকেয়া বেতন পরিশোধের সিদ্ধান্ত
সমঝোতা অনুযায়ী, আগে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা শ্রমিকদের চূড়ান্ত পাওনা আগামী তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের চলতি বকেয়া বেতন আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে প্রাপ্যতা অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে।
ছাঁটাই হওয়া ৭৫ শ্রমিক এবং ৯ জন স্টাফের চূড়ান্ত পাওনা আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে পরিশোধ করার কথা রয়েছে। চুক্তিতে আর্থিক লেনদেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে—বিকাশ, রকেট, উপায় অথবা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে—সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাওনা পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির প্রমাণক DIFE-এর গাজীপুর কার্যালয়ে দাখিল করার কথাও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

২৬ সেপ্টেম্বর থেকে উৎপাদন
ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ হিসেবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে এপি এস নিট কম্পোজিটের উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যস্থতায় কর্মসংস্থান সচল রাখা, কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা এবং ভবিষ্যৎ শ্রম বিরোধ এড়ানোর লক্ষ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

যোগফল ডেস্ক