খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

ফাইভ-জির পূর্ণ সক্ষমতায় শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি: বিশেষজ্ঞরা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ফাইভ-জির পূর্ণ সক্ষমতায় শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি: বিশেষজ্ঞরা

যোগফল প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে শক্তিশালী অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ঘরে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সমন্বিত ও শেয়ারড ফাইবার অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি গাজীপুরের ছুটি রিসোর্টে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালা ‘ফিক্সড ব্রডব্যান্ড: ফিউচার অব বাংলাদেশ’-এ এসব কথা উঠে আসে।

কর্মশালায় টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ এবং ব্রডব্যান্ড শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় দেশের ব্রডব্যান্ড শিল্পের ভবিষ্যৎ, পুরোনো নীতিমালা সংস্কার, ফাইবার অবকাঠামোর নিরাপত্তা, স্থানীয় বিনিয়োগের সুরক্ষা, ইন্টারনেটের গতি ও মূল্য এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

ফাইভ-জির জন্য ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি

তথ্যপ্রযুক্তি ও নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ফাইভ-জি টাওয়ারের পূর্ণ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি টাওয়ারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ প্রয়োজন। শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক ছাড়া ফাইভ-জির শতভাগ সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, শুধু বাসাবাড়িতে নয়, মোবাইল নেটওয়ার্কের অবকাঠামোতেও শক্তিশালী ফাইবার সংযোগ পৌঁছে দিতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের যোগাযোগব্যবস্থা ক্রমেই বেশি ডেটানির্ভর হয়ে উঠছে।

সুমন সাবিরের মতে, শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি বাসাবাড়িতে আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইবার পৌঁছে দেওয়া কোনো একক ছোট আইএসপির পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সর্বজনীন ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

ডিজিটাল সেবায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

কর্মশালায় ফাইবারনির্ভর ডিজিটাল সেবার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মত দেন সুমন সাবির।

তার মতে, শুধু ফাইবার অবকাঠামো তৈরি করলেই ডিজিটাল বিপ্লব সম্পূর্ণ হবে না। এর পাশাপাশি প্রয়োজন দেশীয় সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন ও ব্যবহারবান্ধব ডিজিটাল সেবা। দেশীয় মেধা ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা ও সরকারি সেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল ও আইটিসির মাধ্যমে পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করলে দেশের ইন্টারনেট ধীর হয়ে যায়—এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি নেই। বিদ্যমান সক্ষমতার সঠিক ব্যবহার ও কার্যকর নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

দুই দশক পর নীতিমালা সংস্কারের প্রয়োজন

ফাইবার অ্যাট হোমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুল সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নীতিমালায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সময়োপযোগী।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের আইএলডিটিএস নীতিমালার প্রায় দুই দশক পর নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালা প্রণয়নে শিল্পের বাস্তবতা, অংশীজনদের মতামত ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আইটি ও টেলিকম খাতকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা গেলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতি আরও বাড়বে বলেও মত দেন তিনি।

বিনিয়োগের সুরক্ষায় প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতি

মইনুল সিদ্দিকী বলেন, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর কার্যকর থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে অবকাঠামো সুরক্ষায় এখনো প্রয়োজনীয় নীতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।

তার মতে, একই এলাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে বারবার নতুন নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হলে ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ে। কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি করবে, কোথায় অবকাঠামো ভাগাভাগি করা হবে এবং বিনিয়োগ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে—এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সমান সুযোগের দাবি

বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও টেলিযোগাযোগ খাতের লাভজনক অংশে স্থানীয় ও দেশীয় কোম্পানিগুলোকেও সমান সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন মইনুল সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করে অবকাঠামো ও দক্ষতা তৈরি করেছেন। তাই টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

কম দামে দ্রুতগতির ইন্টারনেট বড় চ্যালেঞ্জ

কর্মশালায় দেশের ব্রডব্যান্ড শিল্পের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও উঠে আসে। মইনুল সিদ্দিকী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে একজন ব্রডব্যান্ড গ্রাহক থেকে মাসে ৩০ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত রাজস্ব পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে তা ৫ থেকে ১০ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এই সীমিত আয়ের মধ্যেই নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহকদের উচ্চগতির ইন্টারনেট দিতে হচ্ছে। ফলে প্রতিটি ঘরে ১০০ এমবিপিএস বা তার বেশি গতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া শুধু প্রযুক্তিগত নয়, অর্থনৈতিকভাবেও বড় চ্যালেঞ্জ।

ফাইবারভিত্তিক অবকাঠামোয় ডিজিটাল ভবিষ্যৎ

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক, পরিকল্পিত অবকাঠামো, কার্যকর নীতিমালা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সাশ্রয়ী ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

তাদের মতে, শক্তিশালী ফাইবারভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশের আগামী দিনের ফাইভ-জি, স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

মোটরসাইকেলে ঢাকা যাওয়ার পথে প্রাণ গেল সাংবাদিকের

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মোটরসাইকেলে ঢাকা যাওয়ার পথে প্রাণ গেল সাংবাদিকের

 যোগফল প্রতিবেদক:

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় এশিয়া টেলিভিশনের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি কাজী আশরাফ (৪৬) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা মাহামুদুল হাসান অনিক নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গার মনসুরাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কাজী আশরাফ নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার গোপিনাথপুর গ্রামের কাজী শামসুর রহমানের ছেলে। তিনি সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে ব্যক্তিগত কাজে কাজী আশরাফ ও মাহামুদুল হাসান অনিক মোটরসাইকেলে করে লোহাগড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। মনসুরাবাদ এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেলটির সঙ্গে একটি বাসের ধাক্কা লাগে। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

পরে পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কাজী আশরাফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক সোহেল রানা জানান, সকালে মনসুরাবাদ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুজন আহত হন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে পথে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

চরিত্র পেতে আপত্তিকর প্রস্তাব, ‘না’ বলেই এগিয়ে যান স্যান্ড্রা বুলক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চরিত্র পেতে আপত্তিকর প্রস্তাব, ‘না’ বলেই এগিয়ে যান স্যান্ড্রা বুলক

হলিউডে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে অভিনেত্রী স্যান্ড্রা বুলককে। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অডিশন দিতে গিয়ে চরিত্র পাওয়ার বিনিময়ে আপত্তিকর প্রস্তাবও পেয়েছিলেন তিনি। এমনকি কয়েকজন তাকে সরাসরি পোশাক খুলতে বলেছিলেন বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি বন্ধু ও সহ-অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টনের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এসব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন স্যান্ড্রা। তিনি জানান, নিউইয়র্কে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তখন নিয়মিত অভিনয়ের অডিশন দিতেন।

স্যান্ড্রার ভাষ্য অনুযায়ী, অডিশনে এমন কিছু পুরুষের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যারা চরিত্র পাওয়ার বিনিময়ে অশোভন প্রস্তাব দিতেন। কেউ কেউ তাকে সরাসরি ‘প্যান্ট খুলতে’ বলতেন। এসব পরিস্থিতিতে তার উত্তর ছিল স্পষ্ট—‘না, এই চরিত্র আমার জন্য নয়।’

তবে এমন অভিজ্ঞতা তাকে অভিনয়ের স্বপ্ন থেকে সরিয়ে দিতে পারেনি। বরং সংগ্রামের সেই সময়েও কাজ পাওয়ার অনিশ্চয়তার ভয়কে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে গেছেন তিনি। তার উপলব্ধি ছিল, একজন সংগ্রামী অভিনেতার মনে সবসময়ই থাকে—হয়তো এরপর আর কোনো কাজ পাওয়া যাবে না। তাই সুযোগ পেলে সেটিকে কাজে লাগিয়েই সামনে এগোতে হয়।

ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর স্যান্ড্রা বুলক বুঝতে পারেন, একটি নির্দিষ্ট ঘরানার মধ্যে আটকে থাকলে অভিনেত্রী হিসেবে নিজের সামর্থ্য পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব নয়। রোমান্টিক কমেডির মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেলেও একসময় এই পরিচিতিই তার জন্য সীমাবদ্ধতা হয়ে দাঁড়ায়।

১৯৯৫ সালের ‘হোয়াইল ইউ ওয়ার স্লিপিং’ ছবির মাধ্যমে রোমান্টিক কমেডিতে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এরপর ‘ফোর্সেস অব নেচার’, ‘টু উইকস নোটিশ’, ‘হোপ ফ্লোটস’ ও ‘মিস কনজেনিয়ালিটি’র মতো ছবিতে অভিনয় করে বড় তারকা হয়ে ওঠেন তিনি।

কিন্তু জনপ্রিয়তার সেই ধারার বাইরে নিজেকে প্রমাণ করতে মধ্য ২০০০-এর দশকে রোমান্টিক কমেডি থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্যান্ড্রা। জেনিফার অ্যানিস্টনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি জানান, তখন সচেতনভাবেই মনে করেছিলেন—এবার তাকে অন্য ধরনের চরিত্রে কাজ করতে হবে।

এরপর ২০০৪ সালের ‘ক্রাশ’ ছবিতে ভিন্ন এক স্যান্ড্রা বুলককে দেখেন দর্শক। নাটকীয় এই ছবিতে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেন, শুধু রোমান্টিক কমেডির অভিনেত্রী হিসেবে নয়, গুরুতর চরিত্রেও নিজের দক্ষতা দেখাতে পারেন তিনি।

‘ক্রাশ’ সেরা ছবির অস্কার জেতে। ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য স্যান্ড্রা স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডে সেরা সম্মিলিত অভিনয়ের পুরস্কারও পান।

পরবর্তী সময়ে আবারও রোমান্টিক কমেডিতে ফেরেন স্যান্ড্রা। ২০০৯ সালে রায়ান রেনল্ডসের সঙ্গে ‘দ্য প্রোপোজাল’ ছবিতে অভিনয় করেন। ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়। একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘অল অ্যাবাউট স্টিভ’ অবশ্য প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।

তবে ওই বছরই ‘দ্য ব্লাইন্ড সাইড’ ছবিতে অভিনয় করে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন পান স্যান্ড্রা। ছবিটির জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতেন তিনি।

এরপরও কমেডি ঘরানাকে পুরোপুরি বিদায় জানাননি এই অভিনেত্রী। ২০২২ সালে চ্যানিং ট্যাটামের সঙ্গে ‘দ্য লস্ট সিটি’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। মহামারির পর মুক্তি পাওয়া ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯২ মিলিয়ন ডলার আয় করে বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়।

ক্যারিয়ারের শুরুতে অপমানজনক ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও সেসব অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে হলিউডে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন স্যান্ড্রা বুলক।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সাপের ভয় জয় করে ‘সাপুড়ে আপা’ মিতুর ছুটে চলা।

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাপের ভয় জয় করে ‘সাপুড়ে আপা’ মিতুর ছুটে চলা।

একসময় সাপ দেখলেই ভয় পেতেন জান্নাতুন নেসা মিতু। এখন সেই সাপের খবর পেলেই ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ছুটে যান তিনি। বাড়ির ঘর, মুরগির খোপ কিংবা স্টোররুমের মেঝের নিচে—যেখানেই সাপের দেখা মিলুক, খবর পেলে সেখানে পৌঁছে সেটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেন প্রাকৃতিক আবাসস্থলে।

নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই মিতুর কাছে আসে সাপ উদ্ধারের ফোন। কখনো চৌমুহনী, কখনো বেগমগঞ্জ, মাইজদী কিংবা কবিরহাট। ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততার মধ্যেও সময় পেলেই ছুটে যান রেসকিউ করতে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বন্যপ্রাণিবিদ্যা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন মিতু। তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরে হলেও বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়।

সাপ উদ্ধারের কাজ করতে করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের কাছেও বদলে গেছে তার পরিচয়। কেউ তাকে ডাকেন ‘সাপুড়ে আপা’, কেউ ‘কালনাগিনী’, আবার কেউ মজা করে বলেন ‘বেঁদে মিতু’। এসব ডাকনামের পেছনে রয়েছে ভয়কে জয় করে বন্যপ্রাণী রক্ষার কাজে নিজেকে যুক্ত করার গল্প।

অনার্স শেষ করার পর মাস্টার্স শুরু হতে কিছুটা সময় লাগছিল মিতুর। সেই সময়টাকে নিজের পড়াশোনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন তিনি। বন্যপ্রাণীর প্রতি আগ্রহ থেকেই খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, সাপ নিয়ে কাজ করা নারী রেসকিউয়ারের সংখ্যা খুবই কম। বিষয়টি তাকে আগ্রহী করে তোলে।

পরে সাপ নিয়ে জানতে গিয়ে পরিচয় হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ওয়াইল্ডলাইফ স্নেক অ্যান্ড রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’ (ডব্লিউএসআরটিবিডি)-এর সঙ্গে। সংগঠনটির লার্নার ব্যাচে ভর্তি হয়ে প্রায় আট মাস সাপ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে হাতে-কলমে রেসকিউ প্রশিক্ষণ শুরু করেন।

পরবর্তীতে সংগঠনের অভিজ্ঞ সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে থাকেন মিতু। কোন প্রজাতির সাপের ক্ষেত্রে কী কৌশল ব্যবহার করতে হয়, কীভাবে নিরাপদে সাপ ধরতে হয় এবং মানুষের ভিড় বা আতঙ্ক কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়—এসবও শেখেন তিনি।

মিতুর ভাষায়, শুরুতে সাপকে খুব ভয় পেতেন। তবে ধীরে ধীরে সাপের আচরণ ও গতিবিধি সম্পর্কে জানার পর সেই ভয়ই দায়িত্ববোধে পরিণত হয়েছে।

প্রথম সাপ উদ্ধারের স্মৃতিও তার কাছে বিশেষ। স্নাতক শেষ করার পর সন্দ্বীপে একটি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে প্রথম সাপ ধরেন তিনি। এরপর নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত রেসকিউ অভিযানে যেতে শুরু করেন।

তার স্মরণীয় উদ্ধার অভিযানের মধ্যে রয়েছে কবিরহাটে দুটি পদ্মগোখরো উদ্ধারের ঘটনা। একটি বাড়িতে মুরগি ও কবুতর পালনের সময় কয়েক দিন ধরে ডিম উধাও হচ্ছিল এবং কিছু বাচ্চা মারা যাচ্ছিল। পরে বাড়ির লোকজন দেখতে পান, মুরগির ঘরের মেঝেতে দুটি পদ্মগোখরো রয়েছে।

সাপ দুটিকে মেরে ফেলার বদলে বাড়ির এক যুবক রেসকিউ সংগঠনের হটলাইনে যোগাযোগ করেন। পরে মিতুর কাছে কলটি আসে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি নিরাপদে দুটি সাপ উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাপ সম্পর্কে সচেতন করেন এবং এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হয়, সে বিষয়েও জানান।

মিতু জানান, রেসকিউয়ের সময় আশপাশের মানুষের নানা পরামর্শ থাকলেও সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে সাপের গতিবিধি বুঝতে হয়। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সঠিক কৌশলে সাপটিকে উদ্ধার করতে হয়। এ জন্য প্রতিটি অভিযানের আগে মানসিক প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও সঙ্গে রাখেন তিনি।

রেসকিউয়ের আগে সম্ভব হলে সাপটির ছবি বা ভিডিও পাঠাতেও বলেন মিতু। কারণ অনেক সময় বাড়ির লোকজন নির্বিষ সাপের কথা বললেও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষধর সাপের দেখা মেলে। আগে থেকে ছবি বা ভিডিও পেলে পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।

মাইজদীর রশিদ কলোনির একটি উদ্ধার অভিযানও তার মনে দাগ কেটেছে। বন্যার পর একটি বাড়িতে সাপের আনাগোনা বেড়ে যায়। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে মিতু জানতে পারেন, সাপটি স্টোররুমের মেঝের নিচে লুকিয়ে আছে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেঝে খোঁড়ার পরও সাপটির দেখা মিলছিল না। একপর্যায়ে ইঁদুরের একটি গর্তে সাপটির সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে ১৭টি ডিমসহ সাপটিকে উদ্ধার করেন তিনি।

তবে নারী হওয়ায় রেসকিউ করতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয় মিতুকে। অনেকেই অবাক হয়ে জানতে চান, ‘আপনি তো মেয়ে, সাপ ধরবেন কীভাবে?’ শুরুতে তার পরিবারও বিষয়টি সহজভাবে নেয়নি। রেসকিউ অভিযানে যেতে নিষেধ করত। সময়ের সঙ্গে মিতুর কাজ সম্পর্কে ধারণা বদলেছে পরিবারেরও। এখন তারা তার পাশে রয়েছে।

মিতুর কাছে সাপ উদ্ধারের সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো একটি প্রাণকে নিরাপদে তার নিজস্ব পরিবেশে ফিরিয়ে দিতে পারা। তার মতে, সাপ সম্পর্কে জানার পর ভয় অনেকটাই কেটে গেছে; বরং প্রাণীটির প্রতি সহমর্মিতাই বেড়েছে।

সাপ দেখলেই মেরে ফেলার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে মিতুর। তার মতে, আতঙ্কের কারণে দেশে অনেক বন্যপ্রাণী মারা যায়, যার মধ্যে সাপ অন্যতম। অথচ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কৃষিজমির ক্ষতিকর ইঁদুর খেয়ে সাপ কৃষকের উপকার করে। একইভাবে জলজ পরিবেশেও বিভিন্ন প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে তারা ভূমিকা রাখে। বিষধর সাপের বিষ নিয়েও গবেষণা ও অ্যান্টিভেনম তৈরির কাজ হয়। তাই বিষধর কিংবা নির্বিষ—প্রতিটি সাপই প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন মিতু।

ভবিষ্যতে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে আরও বেশি কাজ করতে চান তিনি। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমিয়ে তাদের সহাবস্থান নিশ্চিত করাই তার অন্যতম লক্ষ্য।

একসময় যে সাপকে দেখলেই ভয় পেতেন, এখন সেই সাপের খবর পেলেই ছুটে যান জান্নাতুন নেসা মিতু। মানুষের আতঙ্ক কমানো আর একটি প্রাণকে নিরাপদে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার এই কাজেই ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেছেন নোবিপ্রবির বন্ধুদের ‘সাপুড়ে আপা’।