খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

ফাইভ-জির পূর্ণ সক্ষমতায় শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি: বিশেষজ্ঞরা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ফাইভ-জির পূর্ণ সক্ষমতায় শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি: বিশেষজ্ঞরা

যোগফল প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে শক্তিশালী অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ঘরে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সমন্বিত ও শেয়ারড ফাইবার অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি গাজীপুরের ছুটি রিসোর্টে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালা ‘ফিক্সড ব্রডব্যান্ড: ফিউচার অব বাংলাদেশ’-এ এসব কথা উঠে আসে।

কর্মশালায় টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ এবং ব্রডব্যান্ড শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় দেশের ব্রডব্যান্ড শিল্পের ভবিষ্যৎ, পুরোনো নীতিমালা সংস্কার, ফাইবার অবকাঠামোর নিরাপত্তা, স্থানীয় বিনিয়োগের সুরক্ষা, ইন্টারনেটের গতি ও মূল্য এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

ফাইভ-জির জন্য ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি

তথ্যপ্রযুক্তি ও নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ফাইভ-জি টাওয়ারের পূর্ণ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি টাওয়ারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ প্রয়োজন। শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক ছাড়া ফাইভ-জির শতভাগ সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, শুধু বাসাবাড়িতে নয়, মোবাইল নেটওয়ার্কের অবকাঠামোতেও শক্তিশালী ফাইবার সংযোগ পৌঁছে দিতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের যোগাযোগব্যবস্থা ক্রমেই বেশি ডেটানির্ভর হয়ে উঠছে।

সুমন সাবিরের মতে, শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি বাসাবাড়িতে আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইবার পৌঁছে দেওয়া কোনো একক ছোট আইএসপির পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সর্বজনীন ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

ডিজিটাল সেবায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

কর্মশালায় ফাইবারনির্ভর ডিজিটাল সেবার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মত দেন সুমন সাবির।

তার মতে, শুধু ফাইবার অবকাঠামো তৈরি করলেই ডিজিটাল বিপ্লব সম্পূর্ণ হবে না। এর পাশাপাশি প্রয়োজন দেশীয় সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন ও ব্যবহারবান্ধব ডিজিটাল সেবা। দেশীয় মেধা ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা ও সরকারি সেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল ও আইটিসির মাধ্যমে পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করলে দেশের ইন্টারনেট ধীর হয়ে যায়—এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি নেই। বিদ্যমান সক্ষমতার সঠিক ব্যবহার ও কার্যকর নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

দুই দশক পর নীতিমালা সংস্কারের প্রয়োজন

ফাইবার অ্যাট হোমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুল সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নীতিমালায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সময়োপযোগী।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের আইএলডিটিএস নীতিমালার প্রায় দুই দশক পর নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালা প্রণয়নে শিল্পের বাস্তবতা, অংশীজনদের মতামত ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আইটি ও টেলিকম খাতকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা গেলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতি আরও বাড়বে বলেও মত দেন তিনি।

বিনিয়োগের সুরক্ষায় প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতি

মইনুল সিদ্দিকী বলেন, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর কার্যকর থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে অবকাঠামো সুরক্ষায় এখনো প্রয়োজনীয় নীতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।

তার মতে, একই এলাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে বারবার নতুন নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হলে ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ে। কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি করবে, কোথায় অবকাঠামো ভাগাভাগি করা হবে এবং বিনিয়োগ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে—এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সমান সুযোগের দাবি

বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও টেলিযোগাযোগ খাতের লাভজনক অংশে স্থানীয় ও দেশীয় কোম্পানিগুলোকেও সমান সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন মইনুল সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করে অবকাঠামো ও দক্ষতা তৈরি করেছেন। তাই টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

কম দামে দ্রুতগতির ইন্টারনেট বড় চ্যালেঞ্জ

কর্মশালায় দেশের ব্রডব্যান্ড শিল্পের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও উঠে আসে। মইনুল সিদ্দিকী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে একজন ব্রডব্যান্ড গ্রাহক থেকে মাসে ৩০ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত রাজস্ব পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে তা ৫ থেকে ১০ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এই সীমিত আয়ের মধ্যেই নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহকদের উচ্চগতির ইন্টারনেট দিতে হচ্ছে। ফলে প্রতিটি ঘরে ১০০ এমবিপিএস বা তার বেশি গতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া শুধু প্রযুক্তিগত নয়, অর্থনৈতিকভাবেও বড় চ্যালেঞ্জ।

ফাইবারভিত্তিক অবকাঠামোয় ডিজিটাল ভবিষ্যৎ

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক, পরিকল্পিত অবকাঠামো, কার্যকর নীতিমালা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সাশ্রয়ী ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

তাদের মতে, শক্তিশালী ফাইবারভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশের আগামী দিনের ফাইভ-জি, স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং ‘নবাব’ নামে পরিচিত মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলো পাইকগাছা থানায় ২৭ ও ২৮ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তারিখ ২৭/১০ বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ফোনে চাঁদাবাজির ঘটনার ৩ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে আসলাম শিকদার নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা

সাইফুল ইসলাম  ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে। 

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.এম জুলকদর রহমান।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম