খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩

‘প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন’: জামায়াত আমির

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন’: জামায়াত আমির

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।’

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। ইশরাকের পদত্যাগের বিষয়টি দলীয় সিদ্ধান্তের অংশ কি না, এমন প্রসঙ্গে প্রথমে তিনি বলেন, এটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ওই মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মাদক সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তাঁর উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মাদক নির্মূলে দলের অবস্থান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং মাদক নির্মূল করা। এ জন্য আইন প্রণয়নের পাশাপাশি মাদকের বিস্তার রোধে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

জামায়াতের সম্মেলনে নানা বক্তব্য

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে নগরের খুলশী থানার জিইসি কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলন-২০২৬ শুরু হয়। দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান।

সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা, কক্সবাজার ও রাঙামাটি জেলার জামায়াত এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের আনুমানিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর সাথী-সদস্যদের আমৃত্যু সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা হলেও তা এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৭ বছরে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মাত্রায় জুলুম-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। অপবাদ দিয়ে দলটির শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ফ্যাসিবাদী আমলে অসংখ্য নারী-পুরুষকে জীবন দিতে হয়েছে এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।

গত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে।

জান্নাতের টিকিট বিক্রির অভিযোগ নাকচ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেন।

ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ভবিষ্যতে প্রতিটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে এবং জবাবদিহি করতে হবে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি আদর্শিক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সবাইকে সংঘবদ্ধ জীবনযাপন করতে হবে। যতক্ষণ নিঃশ্বাস থাকবে, ততক্ষণ ইসলামী আন্দোলনের পথে অবিচল থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ ও মুহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

এ ছাড়া জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সাবেক চাকসু ভিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

সম্মেলন শেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে নগরের চকবাজার এলাকার হোটেল পেনিনসুলায় যান জামায়াত আমির। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে চাকসু নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ছাড়ার কথা ছিল।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় চিংড়ি চাষিদের সঙ্গে মৎস্য সচিবের মতবিনিময়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় চিংড়ি চাষিদের সঙ্গে মৎস্য সচিবের মতবিনিময়

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় বাগদা চিংড়ি চাষের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের ছালুবুনিয়ায় বাগদা চিংড়ি ক্লাস্টারের চাষিদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম রায়।

সভায় সার্বিক পরিচালনা করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক। এ সময় ছালুবুনিয়া বাগদা চিংড়ি ক্লাস্টারের চাষিবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে বাগদা চিংড়ি চাষের বিদ্যমান সমস্যা, উৎপাদন বৃদ্ধি, চাষের আধুনিক পদ্ধতি এবং এ খাতের উন্নয়ন ও সম্ভাবনাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে চাষিদের সঙ্গে আলোচনা করেন মৎস্য সচিব।

এমপির গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এমপির গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় রায়গঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোক্তাদির ওরফে মুত্তাকিনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান।

তিনি জানান, গ্রেপ্তার গোলাম মোক্তাদির মামলার ৮ নম্বর এবং আলমগীর হোসেন ১১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা-পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলা সদরের ধানগড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে একটি ক্যাফে ফাস্টফুডে অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আলমগীর হোসেন (২৫) উপজেলার রনতিথা গ্রামের বাবলুর ছেলে।

অন্যদিকে, গোলাম মোক্তাদির ওরফে মুত্তাকিন (৪২) উপজেলার গুনগাতী গ্রামের মোশাররফ আকন্দের ছেলে। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই রাতেই রায়গঞ্জ থানায় মামলা করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করে।

এদিকে, সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াত। উপজেলা জামায়াতের আমির আলী মর্তুজা ও সেক্রেটারি এস এম মুনসুর আলী এক বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করার বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তাঁরা।

অন্যদিকে, সংসদ সদস্য আয়নুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দায়ী করে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটির সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটি।

এনসিপির সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) হযরত আলী উসমান এক বিবৃতিতে বলেন, তদন্ত ছাড়াই এ ঘটনায় এনসিপির নেতাকর্মীদের দোষারোপ করা হয়েছে। তিনি হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম


গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জেরে আইনজীবী দম্পতিকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ১

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জেরে আইনজীবী দম্পতিকে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ১

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাদক মামলায় নিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে আইনজীবী ও তাঁর স্ত্রীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মো. জাকির হোসেন ফরাজী (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট বিকেলে মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছৈলাবুনিয়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আইনজীবী মো. সামিউল আলম ও তাঁর স্ত্রী মোছা. শাহনাজ পারভীন (৩৫) গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। একটি মাদক মামলায় তিনি আইনজীবী মো. সামিউল আলমকে নিয়োগ করেন। ওই মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় গত ৯ জুন ধার্য তারিখে জাকিরের পক্ষে আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

পুলিশের দাবি, নিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি জানতে পেরে আইনজীবী সামিউল আলমের ওপর ক্ষুব্ধ হন জাকির। ঘটনার দিন সামিউল আলম ছৈলাবুনিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন জানতে পেরে জাকির অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে সেখানে যান। পরে তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সামিউল আলমকে কুপিয়ে জখম করেন।

এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে তাঁর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন এগিয়ে এলে তাঁকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। আহত দুজনের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর মির্জাগঞ্জ থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও প্রযুক্তির সহায়তায় জাকিরের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর জাকির এক জায়গায় দীর্ঘ সময় অবস্থান না করে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। এ কারণে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগে। পরে শনিবার দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানা-পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মির্জাগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলছে। হামলার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না কিংবা হামলাকারীদের কেউ সহায়তা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় মূল আসামির সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম