খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

অসময়ে কাটিমনের দাপট, আমের ফলন-দামে হাসি কৃষকের মুখে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অসময়ে কাটিমনের দাপট, আমের ফলন-দামে হাসি কৃষকের মুখে

 যোগফল প্রতিবেদক:

মৌসুমি আমের বাজার শেষ হয়ে গেলেও নওগাঁর সাপাহারে এখনো জমজমাট আমের বেচাকেনা। তবে এবার বাজারে রাজত্ব করছে বারোমাসি জাতের ‘কাটিমন’ আম। মৌসুমের বাইরে এমন আমের সরবরাহ দেখে যেমন অবাক হচ্ছেন স্থানীয়রা, তেমনি ভালো ফলন ও দাম পেয়ে সন্তুষ্ট চাষিরাও।

নওগাঁর আমের বাজারে আম্রপালি, নাকফজলি, হিমসাগর, হাঁড়িভাঙা, ল্যাংড়া ও গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আমের মৌসুম অনেক আগেই শেষ হয়েছে। সাধারণত এরপর বাজারে আমের সরবরাহ কমে গেলেও গত কয়েক বছর ধরে সেই চিত্র বদলেছে কাটিমন জাতের আমের কারণে।

সারা বছর চাষ করা যায় বলে কাটিমনকে বারোমাসি আম বলা হয়। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ার পাশাপাশি স্বাদেও আলাদা হওয়ায় মৌসুমের বাইরেও এ আমের চাহিদা রয়েছে। নওগাঁর মধ্যে সাপাহার উপজেলাতেই এ জাতের আমের চাষ ও বেচাকেনা সবচেয়ে বেশি।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর) সাপাহার বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভ্যানভর্তি কাটিমন আম নিয়ে কৃষকেরা বাজারে এসেছেন। সারি সারি করে রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। মৌসুমের বাইরে এমন আমের বাজার দেখে স্থানীয়দের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাদের কাছে বাজারের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, এখনো যেন আমের ভরা মৌসুম চলছে।

সাপাহারের হরিপুর এলাকার আমচাষি মনসুর আলী বলেন, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে কাটিমন আম চাষ করেছেন। এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি মণ আমের দাম ৮ হাজার টাকা চাইলেও ব্যবসায়ীরা সাড়ে ৬ হাজার টাকা প্রস্তাব দিচ্ছেন। ৭ হাজার টাকা হলে তিনি বিক্রি করবেন। আমের মান ও প্রকারভেদে দাম কমবেশি হচ্ছে।

বালুকাডাঙ্গার চাষি রেজাউল ও সিদ্দিকুর রহমান জানান, এ সময়ে অন্যান্য জাতের আম বাজারে না থাকায় কাটিমনের চাহিদা বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলনও ভালো হয়েছে। আগামীতে এ জাতের আমের চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

কাটিমন আম কিনতে আসা স্থানীয় ভোক্তা প্রদীপ বলেন, এ সময় আগে কখনো এত আমের বাজার দেখেননি। চোখের সামনে সুন্দর আম দেখে বাড়ির জন্য কিনেছেন তিনি। একই কথা জানান ক্রেতা নয়ন ও সিরাজ। তাদের মতে, বাজারের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে এখনো আমের মৌসুম চলছে।

গোয়ালা ইউনিয়নের সারোগডাঙ্গা এলাকার চাষি হাফিজুর রহমান ১৬ বিঘা জমিতে কাটিমন আম চাষ করেছেন। তিনি জানান, প্রতি মণ আম প্রায় ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এখনো গাছে মুকুল রয়েছে। নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত আম পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

হাফিজুর রহমান জানান, ২০১৯ সালে অনুপ্রেরণামূলক একটি ভিডিও দেখে কাটিমন আম চাষে আগ্রহী হন। ২০২১ সাল থেকে তার বাগানে ফলন শুরু হয়। বারোমাসি হওয়ায় তার বাগানে সারা বছর ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।

নিশ্চিন্তপুর এলাকার চাষি নাসির উদ্দিনও ২০১৯ সালে কাটিমনের চারা লাগান। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করা এই চাষে সফলতা পান ২০২১ সালে। গত বছর ১৫ বিঘা জমিতে চাষ করলেও এবার তা বাড়িয়ে ৩৭ বিঘা করেছেন তিনি। তার বাগানে নয়জন শ্রমিক কাজ করছেন। বর্তমানে বাজারে আমের মানভেদে প্রতি মণ ৬ হাজার ৩০০ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে।

টেংরা কুড়ি গ্রামের কৃষক জামাল উদ্দিন ৬০ বিঘা জমিতে কাটিমন আমের বাগান করেছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘায় ২০ থেকে ২৫ মণ, কখনো ৩০ থেকে ৩৫ মণ পর্যন্ত ফলন হয়। বর্তমানে প্রতি মণ আম ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এবার তার বাগান থেকে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এর আগে অফ সিজনে কাটিমন আমের এত বড় বাজার দেখা যায়নি। এবার সরবরাহ বেড়েছে। বাজারে অন্য জাতের আম না থাকায় কাটিমনের দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ফলে আগামীতে আরও কৃষক এ জাতের আম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাপলা খাতুন বলেন, বর্তমানে উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে কাটিমন আম চাষ হচ্ছে। গত বছর এ পরিমাণ ছিল ৯৭ হেক্টর। ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রেজাউল করিম জানান, সাপাহারের পাশাপাশি পোরশা, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, রাণীনগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কাটিমন আমের চাষ হচ্ছে। চলতি বছর জেলায় মোট ২৫৫ হেক্টর জমিতে এ জাতের আম চাষ হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১৯০ হেক্টর।

তিনি জানান, অন্যান্য জাতের আম সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে পরিপক্ব হলেও কাটিমনের বিশেষত্ব হলো কৃষকেরা বছরে দুই থেকে তিনবার নিজেদের সুবিধামতো এ আম উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারেন। নওগাঁ থেকে এ আম দেশের বিভিন্ন সুপারশপের পাশাপাশি বিদেশেও যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কাটিমন আমের হেক্টরপ্রতি ফলন ১২ থেকে ১৫ টন হতে পারে। ২৫৫ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ৩ হাজার ৬০ থেকে ৩ হাজার ৮২৫ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রতি কেজি আম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। গড় মূল্য ১৮০ টাকা হিসেবে চলতি মৌসুমে প্রায় ৫৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, কাটিমন আম সারা বছর চাষ করা যায় এবং এতে কৃষকেরা ভালো লাভও পাচ্ছেন। এ কারণে গত বছরের তুলনায় এবার এ জাতের আমের চাষ বেড়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

নওগাঁয় মোট আমবাগানের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর। মৌসুমি জাতের আমের বাজার জুনের মধ্যেই অনেকটা শেষ হয়ে গেলেও কাটিমনের কারণে এবার অফ সিজনেও জেলার বাজারে আমের সরবরাহ ও বেচাকেনা অব্যাহত রয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং ‘নবাব’ নামে পরিচিত মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলো পাইকগাছা থানায় ২৭ ও ২৮ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তারিখ ২৭/১০ বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ফোনে চাঁদাবাজির ঘটনার ৩ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে আসলাম শিকদার নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা

সাইফুল ইসলাম  ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে। 

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.এম জুলকদর রহমান।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম