খুঁজুন
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

নির্যাতন নয়, ভালোবাসায় গড়ে উঠুক প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নির্যাতন নয়, ভালোবাসায় গড়ে উঠুক প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ

ছবি : সংগৃহীত

আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের সমাজ, রাষ্ট্র ও নেতৃত্ব। তাই প্রতিটি শিশুর নিরাপদ, সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করা শুধু একটি পরিবারের দায়িত্ব নয়, বরং রাষ্ট্র, সমাজ এবং প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।

দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই অসংখ্য শিশু প্রতিদিন শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শুধু দরিদ্র পরিবার নয়, বিত্তবান পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এমনকি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও শিশুরা নানা ধরনের সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে।

শাসন আর নির্যাতন এক নয়

শিশুকে শৃঙ্খলাবোধ শেখানো এবং সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা অভিভাবক ও শিক্ষকদের দায়িত্ব। তবে সেই শাসন কখনোই অপমান, ভয়ভীতি, শারীরিক শাস্তি কিংবা মানসিক নির্যাতনে পরিণত হওয়া উচিত নয়।

শাসনের উদ্দেশ্য ভুল সংশোধন করা, আর নির্যাতনের ফল ভয়, আত্মবিশ্বাসহীনতা ও মানসিক ক্ষত। যে শিশু সম্মানের বদলে ভয় পেয়ে বড় হয়, সে কখনো সুস্থ ব্যক্তিত্ব নিয়ে বিকশিত হতে পারে না।

মানসিক নির্যাতনের ক্ষত সবচেয়ে গভীর

শুধু শারীরিক আঘাতই নয়, অপমানজনক কথা, অবহেলা, তুলনা কিংবা ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করাও শিশুর জন্য ভয়াবহ মানসিক নির্যাতন।

‘তুমি কিছুই পারবে না’, ‘তুমি আমাদের লজ্জা’—এ ধরনের কথাগুলো শিশুর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়। অনেক মানুষ বড় হওয়ার পরও শৈশবের এসব অপমান ভুলতে পারেন না। শারীরিক ক্ষত একসময় শুকিয়ে যায়, কিন্তু মানসিক ক্ষত অনেক সময় সারাজীবন থেকে যায়।

শিশুর বিকাশে প্রয়োজন নিরাপত্তা ও ভালোবাসা

শৈশবেই মানুষের মস্তিষ্ক সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হয়। এই সময়ে নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও ইতিবাচক পরিবেশ শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিপরীতে ভয় ও সহিংসতার পরিবেশ তার শেখার ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

ইসলামের দৃষ্টিতে শিশু

ইসলাম শিশুদের প্রতি দয়া, স্নেহ ও সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দেয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শিশুদের সঙ্গে কোমল আচরণ করতেন এবং তাদের মর্যাদা দিতেন।

তিনি বলেছেন, “যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (জামে তিরমিজি)

এ শিক্ষা প্রমাণ করে, শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা ইসলামের মানবিক আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে

বিদ্যালয় বা মাদ্রাসা এমন জায়গা হওয়া উচিত, যেখানে শিশুরা ভয় নয়, আনন্দ নিয়ে শিখবে। শিক্ষক শুধু পাঠদান করবেন না, বরং একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখবেন। ইতিবাচক শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা ও সম্মানই হতে পারে শিক্ষার প্রকৃত ভিত্তি।

ডিজিটাল যুগের নতুন চ্যালেঞ্জ

বর্তমান সময়ে শিশুদের নিরাপত্তা শুধু বাস্তব জগতেই নয়, ডিজিটাল জগতেও নিশ্চিত করতে হবে। সাইবার বুলিং, অনলাইন হয়রানি এবং ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

করণীয়

শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইতিবাচক অভিভাবকত্বের চর্চা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা নীতি বাস্তবায়ন, সহজ অভিযোগ ব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশুদের ওপর। তাই শিশুদের ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবাসা, নিরাপত্তা, নৈতিক শিক্ষা ও সম্মানের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। কারণ একটি নিরাপদ শৈশবই পারে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

লেখক: সাবেক প্রিন্সিপাল, জামেয়া দ্বীনীয়া এবং প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, তা'মিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা, টঙ্গী শাখা।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

গোপালগঞ্জে ট্রাক-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, যুবক নিহত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে ট্রাক-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, যুবক নিহত

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ট্রাক ও নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজু শেখ (১৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নসিমনের চালকসহ আরও দুইজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে বেদগ্রাম-রঘুনাথপুর সড়কের বেদগ্রাম রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, রঘুনাথপুর থেকে একটি নসিমন বেদগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে বেদগ্রাম রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে নসিমনটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় নসিমনটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে রাজু শেখসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে রাজু শেখ মারা যান।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পেলে-মেসির রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পেলে-মেসির রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল

ফুটবল মাঠে একের পর এক কীর্তি গড়ার পর এবার স্মারকের বাজারেও নতুন ইতিহাস লিখলেন বার্সেলোনার বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। তার বিরল ‘ওয়ান-অফ-ওয়ান’ রুকি ট্রেডিং কার্ড নিলামে বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ৭ লাখ ৭ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারে। এর মধ্য দিয়ে ফুটবল ট্রেডিং কার্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া কার্ডের মালিক হয়েছেন এই স্প্যানিশ তরুণ।

গোলডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোল্ডিন আয়োজিত গ্লোবাল ফুটবল নিলামে পানিনির ২০২৩-২৪ ডনরুস ফিফা সিরিজের ‘ব্ল্যাক ওয়ান-অফ-ওয়ান কাবুম’ রুকি কার্ডটি বিক্রির জন্য তোলা হয়। বিশ্বে মাত্র একটি কপি থাকায় শুরু থেকেই সংগ্রাহকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কার্ডটি। শেষ পর্যন্ত সেটিই রেকর্ড দামে বিক্রি হয়।

এর আগে ফুটবল ট্রেডিং কার্ডের সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড ছিল ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের দখলে। তার ১৯৫৮ সালের গ্রেডেড রুকি কার্ড নিলামে বিক্রি হয়েছিল ৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির ২০২৩-২৪ টপস ক্রোম স্যাফায়ার সিরিজের বিশেষ সংস্করণের একটি কার্ড বিক্রি হয়েছিল ৩ লাখ ১৭ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে।

শুধু রেকর্ড গড়া কার্ডই নয়, ইয়ামালের আরও দুটি স্মারকও নিলামে চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। তার ‘গোল্ড কাবুম’ রুকি কার্ড বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১০০ মার্কিন ডলারে। এছাড়া, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যবহৃত তার স্বাক্ষরসংবলিত বার্সেলোনার একটি ম্যাচ-ওয়ার্ন জার্সি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারে।

সব মিলিয়ে ইয়ামালের তিনটি স্মারক বিক্রি করে নিলামে আয় হয়েছে ১০ লাখ ৪৯ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। অল্প বয়সেই মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সংগ্রাহকদের কাছেও যে তিনি অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন, সাম্প্রতিক এই নিলাম তারই আরেকটি প্রমাণ।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ঋণ শোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঋণ শোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

ছবি: সংগৃহীত

সংসারের অভাব ঘোচানো আর ঋণের বোঝা কমানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই ভাই ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। কিন্তু প্রবাসের সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ দেশে ফিরলে দুটি কফিনে শেষ বিদায় জানায় স্বজন ও গ্রামবাসী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে দুই ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় তাদের। শেষ বিদায়ে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শত শত মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

নিহত দুই ভাই গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মালেকের ছেলে। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকে কাজের সহযোগিতার জন্য নিজের কাছে নিয়ে যান।

পরিবার জানায়, গত ১৫ জুলাই রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

শোকে ভেঙে পড়া বাবা আবদুল মালেক বলেন, “ঋণ করে দুই ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। আশা ছিল, তারা সংসারের অভাব দূর করবে, ঋণ শোধ করবে। কিন্তু ঋণ তো শোধ হলোই না, আমার দুই ছেলেকেই হারালাম।”

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে মরদেহ দুটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন শত শত মানুষ। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান দুই উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সজীব ও সুজন ছিলেন ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয় মানুষ। তাদের অকালমৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে।

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম