খুঁজুন
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

দস্যুদের আর পুনর্বাসন নয়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ২:৫৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দস্যুদের আর পুনর্বাসন নয়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, অতীতে যথাযথ নজরদারির অভাবে সুন্দরবনে দস্যুতা বেড়েছে। তবে বর্তমান সরকার সুন্দরবনে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। দস্যুদের আর পুনর্বাসন করা হবে না—তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হবে, অন্যথায় কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা মিলনায়তনে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য সুন্দরবন ও উপকূলীয় জীবিকার সুরক্ষা’ শীর্ষক দিনব্যাপী সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল আট হাজার ২৭১ জেলে পরিবারের জন্য সরকার ৬৬১ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবন রক্ষায় সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের ক্ষতির পেছনে উপকূলীয় অঞ্চলের কিছু মানুষের অসচেতনতাও দায়ী। বিশেষ করে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সংলাপে সুন্দরবন সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতি ও করণীয় নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনরা মতবিনিময় করেন।

পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, ব্রাইটার্স, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, সচেতন ফাউন্ডেশন এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, অধ্যাপক মো. আব্দুল আলীম, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমী, সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, জাতীয় নারীশক্তি ও এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র জুলফিকার আলী, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, উপকূলীয় সাংবাদিকতা গবেষক রফিকুল ইসলাম মন্টু এবং ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র সদস্য সচিব শরীফ জামিলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

সংলাপটি সঞ্চালনা করেন পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ও ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

গোপালগঞ্জে ট্রাক-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, যুবক নিহত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে ট্রাক-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, যুবক নিহত

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ট্রাক ও নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজু শেখ (১৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নসিমনের চালকসহ আরও দুইজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে বেদগ্রাম-রঘুনাথপুর সড়কের বেদগ্রাম রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, রঘুনাথপুর থেকে একটি নসিমন বেদগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে বেদগ্রাম রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে নসিমনটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় নসিমনটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে রাজু শেখসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে রাজু শেখ মারা যান।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পেলে-মেসির রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পেলে-মেসির রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল

ফুটবল মাঠে একের পর এক কীর্তি গড়ার পর এবার স্মারকের বাজারেও নতুন ইতিহাস লিখলেন বার্সেলোনার বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। তার বিরল ‘ওয়ান-অফ-ওয়ান’ রুকি ট্রেডিং কার্ড নিলামে বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ৭ লাখ ৭ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারে। এর মধ্য দিয়ে ফুটবল ট্রেডিং কার্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া কার্ডের মালিক হয়েছেন এই স্প্যানিশ তরুণ।

গোলডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোল্ডিন আয়োজিত গ্লোবাল ফুটবল নিলামে পানিনির ২০২৩-২৪ ডনরুস ফিফা সিরিজের ‘ব্ল্যাক ওয়ান-অফ-ওয়ান কাবুম’ রুকি কার্ডটি বিক্রির জন্য তোলা হয়। বিশ্বে মাত্র একটি কপি থাকায় শুরু থেকেই সংগ্রাহকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কার্ডটি। শেষ পর্যন্ত সেটিই রেকর্ড দামে বিক্রি হয়।

এর আগে ফুটবল ট্রেডিং কার্ডের সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড ছিল ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের দখলে। তার ১৯৫৮ সালের গ্রেডেড রুকি কার্ড নিলামে বিক্রি হয়েছিল ৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির ২০২৩-২৪ টপস ক্রোম স্যাফায়ার সিরিজের বিশেষ সংস্করণের একটি কার্ড বিক্রি হয়েছিল ৩ লাখ ১৭ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে।

শুধু রেকর্ড গড়া কার্ডই নয়, ইয়ামালের আরও দুটি স্মারকও নিলামে চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। তার ‘গোল্ড কাবুম’ রুকি কার্ড বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১০০ মার্কিন ডলারে। এছাড়া, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যবহৃত তার স্বাক্ষরসংবলিত বার্সেলোনার একটি ম্যাচ-ওয়ার্ন জার্সি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারে।

সব মিলিয়ে ইয়ামালের তিনটি স্মারক বিক্রি করে নিলামে আয় হয়েছে ১০ লাখ ৪৯ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। অল্প বয়সেই মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সংগ্রাহকদের কাছেও যে তিনি অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন, সাম্প্রতিক এই নিলাম তারই আরেকটি প্রমাণ।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ঋণ শোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঋণ শোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

ছবি: সংগৃহীত

সংসারের অভাব ঘোচানো আর ঋণের বোঝা কমানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই ভাই ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। কিন্তু প্রবাসের সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ দেশে ফিরলে দুটি কফিনে শেষ বিদায় জানায় স্বজন ও গ্রামবাসী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে দুই ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় তাদের। শেষ বিদায়ে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শত শত মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

নিহত দুই ভাই গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মালেকের ছেলে। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকে কাজের সহযোগিতার জন্য নিজের কাছে নিয়ে যান।

পরিবার জানায়, গত ১৫ জুলাই রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

শোকে ভেঙে পড়া বাবা আবদুল মালেক বলেন, “ঋণ করে দুই ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। আশা ছিল, তারা সংসারের অভাব দূর করবে, ঋণ শোধ করবে। কিন্তু ঋণ তো শোধ হলোই না, আমার দুই ছেলেকেই হারালাম।”

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে মরদেহ দুটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন শত শত মানুষ। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান দুই উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সজীব ও সুজন ছিলেন ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয় মানুষ। তাদের অকালমৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে।

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম