খুঁজুন
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে এজলাসে নারী আইনজীবী (শিক্ষানবিশ)মাথা ফাটালেন বিচারক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে এজলাসে নারী আইনজীবী (শিক্ষানবিশ)মাথা ফাটালেন বিচারক
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে বিচারকের ছোড়া পেপার ওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবী গুরুত্বর আহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইনজীবী সমাজে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। একজন বিচারকের এমন সহিংস আচরণকে আদালত অবমাননা ও ফৌজদারি অপরাধের সামিল বলে মনে করছেন ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা যায়,আজ বুধবার (২২ জুলাই) চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়ার আদালতে বিচারকাজ চলাকালীন এজলাসের পেছনের সারিতে উপস্থিত কয়েকজন মক্কেল নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া তাদেরকে নীরব থাকতে বলেন। উপস্থিত ব্যক্তিরা সাথে সাথেই শান্ত হয়ে গেলেও ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া হঠাৎ চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং নিজের টেবিলে থাকা ভারী পেপার ওয়েটটি মক্কেলদের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে মারেন।
পেপার ওয়েটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় সজোরে আঘাত করে। তীব্র আঘাতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত হন। পরবর্তীতে উপস্থিত সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই আইনজীবীর চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার পর আহত শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
এজলাসে বিচারকের এমন অনভিপ্রেত আচরণে গোপালগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বারের একাধিক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিচারক সুজন মিয়া প্রায়শই কোর্ট চলাকালীন মক্কেল ও আইনজীবীদের সাথে অশোভন আচরণ করে থাকেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারকের আসন একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পবিত্র স্থান। এজলাসে মেজাজ হারিয়ে এই ধরনের মারাত্মক শারীরিক আঘাত বা সহিংস আচরণ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩২৪/৩২৬ ধারা (মারাত্মক অস্ত্র বা বস্তু দিয়ে স্বেচ্ছায় আঘাত) এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর সরাসরি লঙ্ঘন। এটি বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা অবিলম্বে এই নজিরবিহীন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হাইকোর্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ এবং দায়ী বিচারকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ।

সাদিয়া পারভিন/অনলাইন ডেস্ক/যোগফল.কম বাংলা


টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে রাশিয়ার মামলা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে রাশিয়ার মামলা

টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

বুধবার এক বিবৃতিতে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) জানায়, দেশটির ফৌজদারি আইনের ২০৫.১ ধারার আওতায় দুরভের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।

এফএসবির দাবি, রাশিয়ার আইন লঙ্ঘন করে টেলিগ্রাম প্রশাসন এমন বহু চ্যানেল, চ্যাট ও বট অপসারণ করেনি, যেগুলো ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী, সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো নাশকতা, সন্ত্রাসী হামলা, গণহত্যা এবং সাইবার জালিয়াতির পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার করছে।

রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে নারী ও শিশুসহ বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই পাভেল দুরভকে আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ বা পাভেল দুরভের পক্ষ থেকে রাশিয়ার এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ৫ প্রকল্পে কাজ ছাড়াই প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ৫ প্রকল্পে কাজ ছাড়াই প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারের পাঁচটি সরকারি প্রকল্পে কাজ না করেই প্রায় ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) এবং টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় থানাহাট ইউনিয়নের পাঁচটি প্রকল্পে মোট ১৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের নথিতে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে পুরো বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সরেজমিনে স্থানীয়রা জানান, বজরা তবকপুর মজাইডাঙা জামে মসজিদসংলগ্ন কবরস্থান ভরাট ও উন্নয়নে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা, মাচাবান্দা জিয়ার বাড়ি থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ টাকা, কালামের চাতাল মেইন রোড থেকে ডিপঘর পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ টাকা, মজাইডাঙা সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ইদ্রিস আলীর বাড়ি হয়ে মঞ্জুমিয়ার বাড়িমুখী রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ টাকা এবং মধ্য মাচাবান্দা মেইন রাস্তা থেকে প্রিন্সের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রকল্পের একটিতেও বাস্তব কোনো কাজ হয়নি।

অভিযোগকারী রোকনুজ্জামান রণি বলেন, একই রাস্তার নামে দুটি প্রকল্প দেখিয়ে কোনো কাজ না করেই পুরো বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, “উন্নয়নের নামে বরাদ্দ হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে আমরা কোনো কাজ হতে দেখিনি।”

এ ছাড়া রফিকুল ইসলাম, আব্দুল হাই ও আনোয়ার হোসেনসহ একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রকল্পগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা মোমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের রাস্তায় কোনো কাজ হয়নি। পরে জানতে পারি, সেই রাস্তার নামেই বরাদ্দ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, “কাজ হয়েছে। চাইলে আমার সঙ্গে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। লেখার থাকলে পত্রিকায় লেখেন।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোহেল রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া কয়েক দিন তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক সময় কিছু প্রকল্প পরিবর্তন হয়ে অন্য প্রকল্পে স্থানান্তরিত হয়। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হবে।”

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাবনায় ৫০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ

ছবি: সংগৃহীত

পাবনার বেড়া উপজেলার ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান (এফএলএন) কর্মসূচির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে এ গণ-শোকজ করা হয়েছে।

গত রোববার (২৬ জুলাই) উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শিক্ষা অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে তিনি নোটিশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারের বিশেষ গুরুত্বপ্রাপ্ত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গত ৩০ জুনের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা রিডিং, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতের চারটি মৌলিক নিয়ম (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাবলীল ইংরেজি রিডিং নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ভিত্তিমূলক মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়, একাধিক নির্দেশনা ও নিয়মিত তদারকির পরও শিক্ষার্থীদের শেখার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, সে বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে রূপগঞ্জ, আকনাই, কোমরপুর, শ্যামপুর, চর নতিবপুর, পুরান মাসুমদিয়া, মাশুমদিয়া মধ্যপাড়া, মাশুমদিয়া কাজীপাড়া, নতুন মীরপুর, রতনগঞ্জ, ভবানীপুর, রূপপুর, রূপপুর মধ্যপাড়া, রূপপুর পশ্চিমপাড়া, ঢালারচর, খাস ঢালারচর, খাস আমিনপুর, গোপিন্দা, ধর্মগঞ্জ, কাজীশরিফপুর, মহিষাখোলা, দুর্গাপুর, সিন্দুরিয়া ও বেড়া সান্যালপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

গণ-শোকজের ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শোকজপ্রাপ্ত অধিকাংশ বিদ্যালয় ভবানীপুর ও ঢালারচর ক্লাস্টারের অন্তর্ভুক্ত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার ও আব্দুর রাজ্জাক নিয়মিত মনিটরিং করেননি। অনেক বিদ্যালয়ে টানা দুই থেকে তিন মাস পরিদর্শনে না যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের।

এছাড়া, উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থীর তুলনায় কাগজে-কলমে বেশি শিক্ষার্থী দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। অনলাইন ও অফলাইন নথিতে ভুয়া শিক্ষার্থীর নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় মূল্যায়নের প্রকৃত চিত্রে অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব এফএলএন কার্যক্রমেও পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, শুধু শিক্ষকদের শোকজ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্বলতার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে নিয়মিত তদারকি, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

গোপিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষকরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। তবে অধিকাংশ অভিভাবক নিরক্ষর ও অসচেতন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাড়িতে পড়াশোনার যথাযথ পরিবেশ পায় না। ইতোমধ্যে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস চালু করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী তিন মাসের মধ্যে তাদের রিডিং ও গাণিতিক দক্ষতায় দৃশ্যমান উন্নতি হবে।”

অন্যদিকে, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার ও আব্দুর রাজ্জাক শিক্ষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। নিজেদের দায় এড়াতেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখন দক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার এফএলএন কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষকদের লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম