শাকুর মাহমুদ চৌধুরী ।। উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আনোয়ার হোসেন (যুবক) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত আনোয়ার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকার নুরুল হোসেনের ছেলে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর-২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হ্নীলা মৌলভীবাজার দক্ষিণ সড়কের মাথায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ঝিমংখালী থেকে হ্নীলাগামী একটি মোটরসাইকেল এবং হ্নীলা থেকে খারাংখালীগামী আরেকটি মোটরসাইকেল চলাচলের সময় সড়কে থাকা একটি টমটমকে ওভারটেক করতে গিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই মোটরসাইকেলে থাকা আনোয়ার হোসেন, তাঁর বন্ধু রবিউল এবং অপর মোটরসাইকেলের চালক সোহাগ গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় আনোয়ারকে উদ্ধার করে হ্নীলা হেলথ কেয়ারে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত রবিউল ও সোহাগকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আনোয়ার ছিলেন পরিবারের ছোট ছেলে। তাঁর বড় ভাই ঢাকা যাওয়ার সময় তাঁকে মোটরসাইকেলের চাবি না দেওয়ার জন্য নিষেধ করে যান।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রাতে ভাবির কাছ থেকে জোর করে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে মোচনী স্পোর্টস অ্যারেনার ফুটবল মাঠে খেলতে যান আনোয়ার। পরদিন সকালে বন্ধুকে নিয়ে আসার জন্য ভাবির কাছে চাবি চান। এ সময় আর মোটরসাইকেলের চাবি চাইবেন না- এমন শর্তে শেষবারের মতো বের হওয়ার কথা বলে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন বলে জানা গেছে। কিন্তু সেই বের হওয়াই যে তাঁর শেষ যাত্রা হবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। ভাবির কাছে আর কোনো দিন মোটরসাইকেলের চাবি চাওয়া হবে না আনোয়ারের। তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সজিব জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মোটরসাইকেল দুটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। দুর্ঘটনায় আনোয়ার হোসেন হাসপাতালে মারা গেছেন এবং রবিউল ও সোহাগ নামে আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বড় ভাই ঢাকা থেকে ফিরলে মঙ্গলবার বিকেল অথবা সন্ধ্যার দিকে আনোয়ারের দাফন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।