নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এর আগে একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাকিল।
নিহত শাকিল (২৩) গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় খোয়ারপাড়া গ্রামের রবিউল মিস্ত্রির ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, ১৫ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের পাশে হামলার শিকার হন শাকিল। পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায় এবং গুলি করে। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
শাকিলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, শাকিল হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ বলেন, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কেউ চান না। শাকিলকে যেভাবে কোপানো ও আহত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি শাকিলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন বলেও দাবি করেন। তবে ছুটির কারণে চিকিৎসক ঠিকমতো না থাকায় এবং ফুসফুসে সংক্রমণ হওয়ায় শাকিলের মৃত্যু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আবদুল আজিজ আরও বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এমনকি নিজের ছেলে জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শাকিলের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করার কথাও উল্লেখ করেন সংসদ সদস্য।
মামলাটির তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম