শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষক আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হোটেলটির ম্যানেজার আতাউর রহমানকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বুধবার (২১ অক্টোবর) নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির।
গ্রেপ্তার আতাউর রহমান নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ছালেহ আহম্মেদের ছেলে। তিনি ভেদরগঞ্জের একটি আবাসিক হোটেলে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহত আবুল বাশার গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার দেউলিয়াবাড়ি এলাকার মৃত জনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরের খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
এসআরবি জানায়, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভেদরগঞ্জ থানা-সংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই দিন ভেদরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় হোটেলটির ম্যানেজার আতাউর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়।
মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে এসআরবি-৮। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৮-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. আশরাফুল কবির বলেন, শিক্ষক আবুল বাশার হত্যা মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। এসআরবি-৮ ও এসআরবি-১১-এর যৌথ অভিযানে মামলার প্রধান আসামি আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, নিহত আবুল বাশার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চেয়ারম্যান বাজার এলাকায় তাঁর পূর্বপুরুষদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে তিনি স্ত্রীকে সর্বশেষ মুঠোফোনে কল করে এক বন্ধুর বাসায় থাকার কথা জানান। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পরদিন সোমবার (১৯ অক্টোবর) তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে স্ত্রীকে কল করে আহত হওয়ার কথা জানানো হয়। প্রথমে ২ হাজার টাকা চাওয়া হয়। পরে একটি রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি কালিয়াকৈর থানায় জানালে পুলিশ মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করে ভেদরগঞ্জে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে। পরে পরিবারের সদস্যরা ভেদরগঞ্জ থানায় যান। পুলিশের সহযোগিতায় মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম