মনজুরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
কার্তিক মাসের শুরুতেই যমুনাপাড়ের জনপদ সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ভোরের ঘন কুয়াশা আর ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু প্রকৃতির এই পরিবর্তনকে ফুটিয়ে তুলছে দারুণভাবে। যমুনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে হেমন্তের প্রারম্ভেই অনূভূত হচ্ছে মৃদু শীতের পরশ।
আর এই আগাম পরিবেশকে ঘিরে বেলকুচির চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় শুরু হয়েছে নানা কর্মচাঞ্চল্য ও শীতের প্রস্তুতি।
বিশেষ করে বেলকুচির যমুনার বুকে জেগে ওঠা চরগুলোতে এখন চলছে রবিশস্য ও শীতকালীন সবজি চাষের ব্যাপক তোড়জোড়। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর পলি জমে উর্বর হওয়া জমিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। নতুন মৌসুমে মুলা, পালং শাক, লাল শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, টমেটো, ওলকপি, বেগুন, পেঁয়াজ, রসুন ও আগাম জাতের আলু রোপণে ব্যস্ত তারা।
জাঁকিয়ে শীত পড়ার আগেই যেন ফসল হাটে বাজারে তুলতে পারেন—এ লক্ষ্যে কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি চলছে জমি প্রস্তুত, বীজ বপন ও চারা রোপণের কাজ।
উপজেলার রাজাপুর, বেলকুচি সদর, বড়ধুল ও ভাঙাবাড়ী ইউনিয়নের নদীঘেঁষা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা নাঙল-ট্রাক্টর দিয়ে জমি চষে ঝরঝরে করছেন, তৈরি করছেন বীজতলা। আবার অনেকে ক্ষেতে সেচ দেয়া ও নিড়ানির কাজে ব্যস্ত।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্ষায় যমুনার বন্যায় পলি জমে চরের মাটি বেশ উর্বর হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সঠিক সময়ে শীতকালীন সবজি বাজারে তুলতে পারলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে ভালো লাভের মুখ দেখবেন বলে তারা আশাবাদী।
কৃষিকাজের পাশাপাশি চরাঞ্চলের প্রতিটি গৃহস্থালিতে বইছে শীত বরণের হাওয়া। ঘরবাড়ি মেরামত, পুরনো কাঁথা রোদে শুকানো এবং শীতের গরম কাপড়ের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন পরিবারের সদস্যেরা।
তাছাড়া খড়কুটো জমিয়ে গবাদিপশুর জন্য শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচার ব্যবস্থা এবং গোখাদ্য সংরক্ষণেও মনোযোগ দিচ্ছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।
হেমন্তের এই মিষ্টি সকালে ভোরের কুয়াশার চাদর আর বিকেলে ঠান্ডা হাওয়া স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—হাড়কাঁপানো শীত খুব দূরে নয়। আর সেই শীতকে আলিঙ্গন করতেই বেলকুচির চরাঞ্চলের মেহনতি মানুষ এখন থেকে গ্রহণ করছেন সর্বাত্মক প্রস্তুতি।