যোগফল প্রতিবেদক:
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পানিপ্রবাহহীন একটি ডোবার ওপর প্রায় ১৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, যেখানে নদী, খাল বা নিয়মিত পানিপ্রবাহ নেই, সেখানে বিপুল অর্থ ব্যয়ে সেতু নির্মাণ সরকারি অর্থের অপচয় হতে পারে।
সওজ বিভাগ ও দরপত্র সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৩৮ মিটার দীর্ঘ আরসিসি-পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৪ কোটি ৯৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ‘তুর্ণ এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড’কে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণকাজ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রস্তাবিত সেতুর আশপাশে বর্তমানে ঘনবসতি রয়েছে। সেখানে কোনো নদী, খাল বা বিল নেই। প্রায় অর্ধশত বছর ধরে ওই স্থানে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ নেই এবং বর্তমানে জায়গাটি একটি ডোবার মতো অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের কয়েকজন জানান, পুরোনো সেতুটি ভেঙে নতুন করে এত টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তারা দেখছেন না। তাদের দাবি, সেতুর পরিবর্তে জায়গাটি মাটি ভরাট করে সড়কটি সোজা ও প্রশস্ত করা হলে সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি মহাসড়কের নিরাপত্তাও বাড়তে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমান সেতুর কারণে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক তৈরি হয়েছে। ওই বাঁকে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের মতে, সেতুর পরিবর্তে সড়কটি সোজা করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যানজট কমার পাশাপাশি স্থানীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রমও বাড়তে পারে।
কালিহাতী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. আবুল মনছুর বলেন, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সেতুর পরিবর্তে ওই স্থানে সোজা সড়ক নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তার দাবি, প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণ করা হলে দুর্ঘটনা কমার বদলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত পরিদর্শন, সমীক্ষা ও কারিগরি প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সেতুটি পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের (বিএমডব্লিউ) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকল্পটির নকশা অনুমোদন করা হয়েছে বলেও জানান তারা।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরী খান বলেন, কোনো জলাশয় বন্ধ করার এখতিয়ার সওজের নেই। ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন সেতু নির্মাণ হলে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমবে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, গত ৭ আগস্ট স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন নতুন সেতুটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও নকশা পুনরায় পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম