যোগফল প্রতিবেদক:
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের নবীর বাজার এলাকায় মো. সোহাগ চৌধুরী (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার জানাজা ও দাফন শেষে নবীর বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা সোহাগের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
নিহত সোহাগ নবীর বাজার এলাকার নুর নবী চৌধুরীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে চরজব্বর থানার এসআই মিঠুন চক্রবর্তী ও এএসআই ম্যানবাবু বড়ুয়া সাদাপোশাকে সোহাগকে গ্রেপ্তারের জন্য নবীর বাজার এলাকায় যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সোহাগ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বাজারের পাশের একটি কাঁচা ড্রেনে পড়ে আহত হন তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে সোহাগের পরিবারের দাবি, এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু নয়। নিহতের ছোট ভাই মো. আকবর অভিযোগ করেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলার বাদী লিটন ও তার সহযোগীরা পুলিশের উপস্থিতিতে সোহাগকে ধাওয়া ও মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মানববন্ধনে স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, মোহাম্মদপুর এলাকার যুবদল নেতা দিদারের ইন্ধনে লিটন, জাফরসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাদের দাবি, সোহাগের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। কিন্তু কোনো সুরতহাল প্রতিবেদন বা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, ময়নাতদন্ত না হওয়ায় সোহাগের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী লিটনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযানে থাকা এসআই মিঠুন চক্রবর্তী মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সোহাগ পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় নিজেই পড়ে গিয়ে আহত হন। তাকে কেউ মারধর করেনি।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, সোহাগের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ গেলে তিনি দূর থেকে পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। সোহাগের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম