যোগফল প্রতিবেদক:
সন্তান বা নিকটাত্মীয়ের নামে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখল করতে পারেন, সে সুযোগ রেখে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত বিধান কার্যকর হলে সম্পত্তির মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর হলেও দলিলে শর্ত সাপেক্ষে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে। বিশেষ করে প্রবীণ বাবা-মা সন্তানদের নামে বসতবাড়ি বা অন্যান্য সম্পত্তি দান করার পরও যেন তা ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়টি আইনি সুরক্ষার আওতায় আসবে।
গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ-সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিলে ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে নতুন ১২২ক ও ১২২খ ধারা সংযোজনের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের পৃথক একটি পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করতে পারবেন। একইভাবে নাতি-নাতনিরাও বাবা-মা, দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও এ ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে।
স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের দান নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে করতে হবে।
প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সম্পত্তি দানের সঙ্গে সঙ্গে দাতার ভোগদখলের অধিকার শেষ হবে না। দলিলে যদি আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করতে পারবেন।
অর্থাৎ কোনো বাবা সন্তানের নামে নিজের বাড়ি দান করলেও দলিলে যদি তার আজীবন বসবাসের অধিকার রাখা হয়, তাহলে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ওই বাড়িতে থাকতে পারবেন।
এমনকি দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পত্তির গ্রহীতা মারা গেলেও দাতার অধিকার নষ্ট হবে না। গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে সম্পত্তির মালিকানা গেলেও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত তার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে।
প্রস্তাবিত আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে দাতার ভোগদখলের অধিকার পরিবর্তন বা প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক কিংবা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজন দেখা দিলে দাতা ও গ্রহীতার পারস্পরিক সম্মতিতে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে অসুস্থ বা আইনগতভাবে অক্ষম হলে জেলা জজের অনুমোদন নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থা চালু হলেও প্রচলিত দান বা মুসলিম আইনের হেবা বাতিল হবে না। সাধারণ দান, হেবা এবং আইনস্বীকৃত অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতিও আগের মতো বহাল থাকবে।
প্রস্তাবিত নতুন বিধানটি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি পৃথক পদ্ধতি হিসেবে যুক্ত হবে এবং সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
সরকারের উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো, সন্তান বা নিকটাত্মীয়ের নামে সম্পত্তি দান করার পরও যেন দাতা নিজের বসতবাড়ি বা সম্পত্তির ব্যবহার থেকে বঞ্চিত না হন।
বিলটি বর্তমানে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। সংসদে বিলটি পাস হয়ে আইন হিসেবে কার্যকর হলে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রে দাতার আজীবন ভোগদখলের জন্য নতুন আইনি সুরক্ষা তৈরি হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম