খুঁজুন
advertisement
advertisement
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১ কার্তিক, ১৪৩৩

উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে ১০ মরদেহ শনাক্ত, নিখোঁজ মুক্তার খোঁজ মেলেনি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
উখিয়ায় রিসোর্টে আগুনে ১০ মরদেহ শনাক্ত, নিখোঁজ মুক্তার খোঁজ মেলেনি

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার ডিএনএর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কোনো মরদেহের নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। ফলে আগুনে উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের বাইরে মুক্তার পরিণতি কী, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্বজনদের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মধ্যে ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬) রয়েছেন।

নিহত অন্য ছয়জন হলেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তার কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)। তারা ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন।

নাফিস তেহামি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে পড়াশোনা করতেন। লায়লা জাহান নাবিলা ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) ডিএনএ নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের কোনো নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ মুক্তাকে নিয়ে অনিশ্চয়তা

নাসরিন আক্তার মুক্তা ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা। দুই বান্ধবীর সঙ্গে ছুটি কাটাতে তিনি কক্সবাজারে এসেছিলেন। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা জেলা শাখার সাবেক নেতা।

মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সালের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রিসোর্টে তার স্ত্রীসহ তিন বান্ধবী উঠেছিলেন। আগুন লাগার আগে তার স্ত্রীর দুই বান্ধবী কক্ষ থেকে বের হয়ে গেলেও মুক্তা ভেতরে থাকায় আটকা পড়েন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ফয়সাল বলেন, সোমবার তিনি পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার কাছে গেলেও বিষয়টি নিয়ে কেউ স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। পরে সন্ধ্যায় দুই স্বজনকে নিয়ে আবার ঘটনাস্থলে যান তিনি।

এর আগে তদন্ত কমিটির প্রধান কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান জানিয়েছিলেন, মুক্তার অবস্থান শনাক্ত করতে তার মুঠোফোন নম্বরের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি রিসোর্টের ভেতরে ছিলেন, নাকি বাইরে ছিলেন, তা নিশ্চিত হতে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও তদন্তকারী দল কাজ করছে। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট থেকে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু নিখোঁজের তালিকায় ১১ জনের নাম থাকায় উদ্ধার হওয়া মরদেহ ও নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যার মধ্যে গরমিল দেখা দেয়। মুক্তার ডিএনএর সঙ্গে কোনো মরদেহের নমুনার মিল না পাওয়ায় তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।

যেভাবে আগুন লাগে

গত ১৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবস্থিত তিনতলা টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। কক্সবাজার শহর থেকে রিসোর্টটির দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। আগুন লাগার সময় রিসোর্টের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার আটটি কক্ষে পর্যটকেরা অবস্থান করছিলেন। নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ ও কর্মীদের থাকার জায়গা।

ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ কাজে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেন বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত রিসোর্ট থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আহত সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও উদ্ধারকাজের সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কয়েকজন জানান, বিকট বিস্ফোরণের শব্দের পর রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকজন পর্যটককে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। পরে রিসোর্টের অন্তত পাঁচজন কর্মীকে দুটি কুকুর ও চারটি বিড়াল নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যেতে দেখেন তারা।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোর্শেদও আত্মগোপনে রয়েছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

মিথ্যা যেনো রসগোল্লা ও চমচম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মিথ্যা যেনো রসগোল্লা ও চমচম

প্রতীকী ছবি

লেখক: মোঃ মাহাবুবুর রহমান

মিথ্যা এখন আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির বিস্তারে মিথ্যা আরও সহজলভ্য হয়েছে। মানুষ তার অতি আপনজনের সাথেও আজ মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। মনে হয়, মিথ্যা কথা না বললে যেন অনেকের পেটের ভাতই হজম হয় না।

কথাবার্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, পরিবার — সবখানেই মিথ্যার ছড়াছড়ি। অথচ আমরা ভুলে যাই, মিথ্যা ইহকাল ও পরকাল দুটোই ধ্বংস করে দেয়।

মিথ্যা বলতে বলতে একসময় মানুষের বিশ্বাসটাই উঠে যায়। আপনি যদি চাকরিজীবী হন, মিথ্যার জন্য আপনার চাকরি চলে যেতে পারে, প্রমোশন-ইনক্রিমেন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আপনি যদি ব্যবসায়ী হন, মিথ্যার জন্য বড় লোকসানের মুখে পড়তে পারেন, ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যর্থ হয়ে যেতে পারেন।

পারিবারিক জীবনেও মিথ্যার পরিণতি ভয়াবহ। একজন মিথ্যাবাদী পিতাকে তার সন্তানরা ভুল বুঝে বৃদ্ধ বয়সে ফেলে দিতে পারে। একজন মিথ্যাবাদী শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সম্মান হারান। একজন সমাজপতিকে তার অনুসারীরা ছেড়ে চলে যায়। স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সংসার পর্যন্ত মিথ্যার কারণে ভেঙে যেতে পারে।

আমার কাছে মনে হয়, মিথ্যা রাইফেল বা বন্দুকের গুলির চেয়েও মারাত্মক। গুলির আঘাত শরীরে লাগে, আর মিথ্যার আঘাত লাগে বিশ্বাসে, সম্পর্কে, সম্মানে — যা সারাজীবনের অর্জন নষ্ট করে দেয়।

আমাদের করণীয়:
তাই আসুন, আমরা একটি সংকল্প করি — "আমি মিথ্যা বলব না।"

এটা শুধু মুখের কথা নয়, হোক মনের সংকল্প। আমার কল্পনায়, চিন্তায়, ইচ্ছায় কোথাও যেন মিথ্যা না থাকে। আমি যেন ভুলেও একজন মিথ্যাবাদী হিসেবে কোথাও পরিগণিত না হই।

শুধু নিজে মিথ্যা ছাড়লেই হবে না। আমার পরিবারে, সমাজে, বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে যদি কোনো মিথ্যাবাদী থাকে, তাকে ভালোবেসে সংশোধন করতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে — মিথ্যা বলা, মিথ্যা কাজ করা সম্পূর্ণ হারাম। এতে দুনিয়া ও আখিরাত দুটোই নষ্ট হয়।

সত্য কঠিন হতে পারে, কিন্তু সত্যই মুক্তি আনে। মিথ্যা সহজ, কিন্তু মিথ্যাই বন্দি করে। আসুন, সত্য দিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করি।

শরীয়তপুরে সমিতির বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, চেয়ারম্যান থানায়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শরীয়তপুরে সমিতির বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, চেয়ারম্যান থানায়

ছবি সংগৃহীত


নিজস্ব প্রতিবেদক:

শরীয়তপুরে আংগারিয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আমানতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত না পেয়ে সমিতির কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ গ্রাহক। এ ঘটনায় সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার, নির্বাহী পরিচালক কাকলী আক্তার ও তাদের সহযোগী দিপু মোল্লাকে থানায় নেওয়া হয়। পরে টাকা ফেরতের শর্তে চেয়ারম্যানকে পুলিশের জিম্মায় রেখে বাকি দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়ার বাগচি বাজার এলাকায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন গ্রাহকরা। একপর্যায়ে তারা সমিতির কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের ভেতরে আটকে রাখেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমিতির প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ২০ কোটি টাকা আমানত হিসেবে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। অনেক গ্রাহকের আমানতের মেয়াদ শেষ হলেও টাকা ও লভ্যাংশ পরিশোধ না করে সমিতির কর্মকর্তারা নানা টালবাহানা করছেন। এমনকি গ্রাহকদের টাকা নিয়ে কর্মকর্তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে গ্রাহকদের তোপের মুখে পড়লে সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার, নির্বাহী পরিচালক কাকলী আক্তার ও সহযোগী দিপু মোল্লাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পালং মডেল থানা পুলিশ।

তাদের থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকশ গ্রাহক থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে তারা টাকা ফেরতের দাবিতে থানার সামনে অবস্থান নেন।

পরে গ্রাহকদের প্রতিনিধি ও অভিযুক্তদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েক দফায় টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদারকে পুলিশের জিম্মায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্বাহী পরিচালক কাকলী আক্তার ও সহযোগী দিপু মোল্লাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী গ্রাহক সেলিনা বেগম বলেন, “আমার স্বামী ভিক্ষা করে টাকা জমাইছে। সেই টাকা এখানে রাখছি। এখন আমার স্বামীর অপারেশন হবে, কিন্তু তারা টাকা দিতাছে না। আমি আমার টাকা ফেরত চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলেদের ভবিষ্যতের জন্য চারটি ডিপোজিট করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা টাকাও পাইনি। তারা টাকা নেওয়ার সময় অনেক মিষ্টি কথা বলে, কিন্তু টাকা দেওয়ার সময় দেয় না, উল্টো খারাপ ব্যবহার করে।”

অভিযোগের বিষয়ে সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার বলেন, সমিতির কয়েকজন কর্মচারী আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ কারণে তাদের কয়েকজনকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর তারা ষড়যন্ত্র করে গ্রাহকদের মধ্যে সমিতির কর্মকর্তারা টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবেন বলে প্রচার করেছেন। এ কারণে গ্রাহকরা একসঙ্গে টাকা ফেরত নিতে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো গ্রাহকের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে নেই। তারা আগেও টাকা দিয়েছেন, এখনো দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও দেবেন।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রাহকরা তাকে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর গ্রাহকদের প্রতিনিধি ও অভিযুক্তদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েক দফায় টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওসি আরও বলেন, টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদারকে পুলিশের জিম্মায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য দুজনকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি টাকা ফেরত না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, রাজশাহীতে কলেজছাত্র গ্রেপ্তার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, রাজশাহীতে কলেজছাত্র গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ সংক্রান্ত মন্তব্য করার অভিযোগে মো. আবু বকর সিদ্দিক (২২) নামে এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। রাজশাহী নগরের রামচন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আবু বকর রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার কিচৌত এলাকার বাসিন্দা। তিনি রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরে যান। হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি কোস্টার বাসে করে তিনি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত যানবাহন নিয়ে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়।

ওই পোস্টে লেখা হয়, ‘সবই বুঝলাম, রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই? রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কী জানেন, রাজশাহীবাসী?’ পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস, একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’

মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও যুবদলের নেতারা এ মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে মন্তব্যকারীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পরে এসআরবি-৫ অভিযান চালিয়ে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে এলাকাবাসী ও বন্ধুদের দাবি, আবু বকর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত নন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেন। এ ছাড়া ভ্যানে করে বিভিন্ন হাটে কাঁচামাল বিক্রি করেন।

আবু বকরের বন্ধু মনিরুল জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে খেলাধুলা করেন এবং মেলামেশা করেন। তার জানা মতে, আবু বকর কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যটি ভুলবশত অথবা না বুঝে করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এসআরবি-৫ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইশতিয়াক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবু বকরকে আটকের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে তাকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অথবা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তরের তথ্যও জানা গেছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, অপরাধমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম