খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

পাইকগাছায় সুপারির ভরা মৌসুম, জমজমাট হাট-বাজার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় সুপারির ভরা মৌসুম, জমজমাট হাট-বাজার

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

এম জালাল উদ্দীন | পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :

খুলনার পাইকগাছায় সুপারির ভরা মৌসুমে জমে উঠেছে হাট-বাজারগুলো। উপজেলার বিভিন্ন হাটে প্রতিদিনই চলছে সুপারি কেনাবেচার ব্যস্ততা। গদাইপুর, আগড়ঘাটা, বাকা, নতুন বাজার, কপিলমুনি, রাড়লী, কাটিপাড়াসহ আশপাশের এলাকার হাটগুলোতে বাগান মালিক, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের পদচারণায় তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। তবে এ বছর সুপারির ফলন কিছুটা কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ ও দাম নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে প্রতি কুড়ি সুপারি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম কমে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে বড় আকারের সুপারি প্রতি কুড়ি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে দামের এ পার্থক্য দেখা যাচ্ছে বাজারগুলোতে। ফলন তুলনামূলক কম হলেও সুপারির চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলায় প্রায় ৪২ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ। প্রতিটি গাছে গড়ে দুই থেকে চার কাঁদি সুপারি ধরে। কোনো কোনো গাছে ৫০ থেকে ১৫০টি সুপারি পাওয়া যায়, আবার ভালো ফলন হলে কোনো কোনো গাছে ৫০০ থেকে ৬০০টি পর্যন্ত সুপারি ধরে।

লবণাক্তপ্রবণ এ অঞ্চলের মাটি ও পরিবেশে সুপারি চাষ বেশ পরিচিত। উপজেলার গড়ইখালী, গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি ও রাড়লী ইউনিয়নে সুপারি বাগানের আধিক্য রয়েছে। এ ছাড়া চাঁদখালী ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকাতেও সুপারি গাছ দেখা যায়। অনেক বাগান মালিক নিজেদের জমিতে সুপারি চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। মৌসুমি এ ফসল স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা জানান, বিভিন্ন হাট থেকে সুপারি সংগ্রহ করে পাইকাররা খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ সরাসরি সুপারি বিক্রি করছেন, আবার অনেকে পরবর্তী সময়ে ভালো দামে বিক্রির আশায় সুপারি গুদামজাত করছেন। কিছু ব্যবসায়ী সুপারি শুকিয়ে কিংবা পানিতে ভিজিয়ে সংরক্ষণ করে পরে বাজারজাত করেন। এভাবে সুপারি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমও বেড়েছে।

কাটিপাড়ার বাগান মালিক আবুল হোসেন বলেন, এ বছর সুপারির ফলন তেমন ভালো না। তবে বাজারদর তুলনামূলক ভালো থাকায় খরচ সহ টাকাটা হয়তো বাঁচবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী এম সামাদ হাসান, আজিজুল ইসলাম ও নুরুজ্জামান বলেন, বাজারে সুপারির সরবরাহ কম থাকায় দাম ওঠানামা করছে। আকার ও মান অনুযায়ী সুপারির দাম নির্ধারিত হচ্ছে। এক কুড়িতে ২২০টি সুপারি থাকে, যা স্থানীয়ভাবে ৫৫ গোণ্ডা হিসেবে গণনা করা হয়।

সুপারি কেবল একটি অর্থকরী ফসল নয়, বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও এর রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। পান খাওয়ার অন্যতম উপাদান হিসেবে সুপারি গ্রামবাংলার মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। কেউ কাঁচা সুপারি, কেউ শুকনো, আবার কেউ পানিতে ভিজিয়ে সংরক্ষণ করা সুপারি খেয়ে থাকেন।

সব মিলিয়ে, ফলন কিছুটা কম হলেও সুপারি ঘিরে পাইকগাছার হাট-বাজারে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং ‘নবাব’ নামে পরিচিত মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলো পাইকগাছা থানায় ২৭ ও ২৮ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তারিখ ২৭/১০ বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ফোনে চাঁদাবাজির ঘটনার ৩ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে আসলাম শিকদার নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা

সাইফুল ইসলাম  ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে। 

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.এম জুলকদর রহমান।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম