খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

জামায়াতের সঙ্গে আদর্শিক মতপার্থক্য, এনসিপি ছাড়লেন কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুর রহমান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জামায়াতের সঙ্গে আদর্শিক মতপার্থক্য, এনসিপি ছাড়লেন কেন্দ্রীয় সংগঠক আব্দুর রহমান

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আদর্শিক মতপার্থক্যের কারণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আব্দুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে দলের আহ্বায়ক বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পদত্যাগপত্রটি প্রকাশ করেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে আব্দুর রহমান উল্লেখ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্র, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে দলের নির্বাচনী ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি হতাশ হয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী ও রাজনৈতিক জোটের ফলে কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত জামায়াতের আদর্শের বিস্তার ঘটছে। এ কারণে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জামায়াতের সঙ্গে জোটের প্রশ্নে এনসিপির অনেক প্রতিষ্ঠাকালীন মেধাবী, পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় নেতাও দল ছেড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আব্দুর রহমান আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক জোট হলেও দুই দলের আদর্শিক অবস্থান এক হবে না—এমন ধারণা থেকেই তিনি এতদিন দলের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু দিন দিন দুই পক্ষের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান একাকার হয়ে যাচ্ছে। একজন কর্মী হিসেবে বিষয়টি তাঁর মৌলিক আদর্শ ও চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে সহকর্মীদের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আব্দুর রহমান। তিনি জানান, গত ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। ওই পোস্টের পর সহকর্মীদের কেউ কেউ তাঁকে ‘মুজিববাদী’ আখ্যা দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তাঁর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং সহকর্মীদের প্রতি অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন আব্দুর রহমান।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে এনসিপিতে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু দলের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান তাঁর প্রত্যাশার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ মনে হওয়ায় তিনি দলটির সঙ্গে পথচলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এনসিপি ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আব্দুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জোটের মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন জানান। বর্তমানে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং ‘নবাব’ নামে পরিচিত মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলো পাইকগাছা থানায় ২৭ ও ২৮ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তারিখ ২৭/১০ বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ফোনে চাঁদাবাজির ঘটনার ৩ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে আসলাম শিকদার নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা

সাইফুল ইসলাম  ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে। 

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.এম জুলকদর রহমান।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম