তাহিরপুরে আটক ভারতীয় বিড়ি নিয়ে নানা প্রশ্ন
যোগফল প্রতিবেদক:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় নাসির বিড়ি পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে ফেরত দেওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা মাদক নির্মূল ঐক্য পরিষদের কার্যক্রম নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন উপজেলা মাদক নির্মূল ঐক্য পরিষদ, তাহিরপুর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হুদা। তিনি উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কামড়াবন্দ গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাদাঘাট এলাকার কুকুরকান্দি থেকে আল আমিন হুদার নেতৃত্বাধীন একটি দল চার কার্টন ভারতীয় নাসির বিড়ি আটক করে। স্থানীয়দের দাবি, আটক করা বিড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। এসব বিড়ির মালিক ফকিরনগর গ্রামের কুদ্দুস মিয়া বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর বিড়িগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। পরে বিড়িগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল আমিন হুদা। রোববার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভারতীয় নাসির বিড়ি বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে কি না, সে বিষয়ে জেলা কমিটির সভাপতির কাছ থেকে নিশ্চিত হন। যাচাই-বাছাইয়ের পর আটক করা বিড়িগুলো মাদকদ্রব্য নয় বলে নিশ্চিত হয়ে প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে ওই পোস্টে তিনি মালিকের নাম উল্লেখ করেননি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন। আটক করা পণ্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে ফেরত দেওয়ার বৈধতা এবং এর প্রমাণ কী—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ছাত্রদল নেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, চার কার্টন বিড়ি আটকের পর দীর্ঘ সময় তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি কেন এবং মাদক নির্মূল কমিটির এ ধরনের কার্যক্রমের জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে।
ফকিরনগর গ্রামের কুদ্দুস মিয়া দাবি করেন, আল আমিন হুদার নেতৃত্বাধীন দল তাঁর চার খাঁচা ভারতীয় নাসির বিড়ি ও একটি কাঠের নৌকা নিয়ে যায়। তাঁর দাবি, এসব বিড়ির আনুমানিক মূল্য দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে পরবর্তীতে বিড়িগুলোর বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ বলেন, ভারতীয় নাসির বিড়ি অবৈধ ও নিষিদ্ধ। মাদক নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে এসব বিড়ি আটক করা হয়ে থাকলে তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, আটক করা কোনো পণ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আটক করা পণ্য অন্য কারও কাছে হস্তান্তরের সুযোগ নেই।
এদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা আটক করা বিড়ির উৎস, বৈধতা, মালিকানা এবং আটকের পর কীভাবে তা ফেরত দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম




আপনার মতামত লিখুন