খুঁজুন
advertisement
advertisement
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১ কার্তিক, ১৪৩৩

টিকটকের কমেন্ট সেকশনে আসছে একাধিক নতুন ফিচার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
টিকটকের কমেন্ট সেকশনে আসছে একাধিক নতুন ফিচার

 যোগফল প্রতিবেদক:

কমেন্ট সেকশনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক। ব্যবহারকারীদের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়াতে ভয়েস কমেন্ট, কমেন্ট পোল, একসঙ্গে একাধিক ছবি এবং লাইভ ফটো কমেন্টের মতো নতুন ফিচার যুক্ত করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সুবিধার মাধ্যমে কমেন্ট সেকশনকে আরও ইন্টার‌্যাকটিভ করে তুলতে চাইছে টিকটক। ফলে ভিডিও দেখার পাশাপাশি মন্তব্য করা ও অন্য ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও বাড়বে।

এক মিনিটের ভয়েস কমেন্ট

নতুন ফিচারগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘ভয়েস কমেন্ট’। এর মাধ্যমে লিখিত মন্তব্যের পরিবর্তে সরাসরি অডিও বার্তা পোস্ট করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। কমেন্ট বক্সে থাকা মাইক্রোফোন আইকনে ট্যাপ করে সর্বোচ্চ এক মিনিটের ভয়েস বার্তা রেকর্ড করা যাবে।

পোস্ট করা ভয়েস কমেন্টে ট্যাপ করে সেটি শুনতে পারবেন অন্য ব্যবহারকারীরা। টিকটক জানিয়েছে, ভয়েস কমেন্টও প্ল্যাটফর্মের অন্যান্য কনটেন্টের মতো কমিউনিটি গাইডলাইনের আওতায় থাকবে। নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট শনাক্তে মানব পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে স্পিচ-টু-টেক্সট ট্রান্সক্রিপশন প্রযুক্তিও থাকবে।

আগামী এক মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ভয়েস কমেন্ট চালু করা হবে বলে জানিয়েছে টিকটক।

কমেন্টেই করা যাবে পোল

নির্মাতাদের জন্য কমেন্ট সেকশনে পোল যুক্ত করার সুবিধাও চালু করছে টিকটক। এর মাধ্যমে ভিডিও নির্মাতারা দর্শকদের কোনো বিষয়ে সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে পারবেন।

ফিচারটি আগে সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য চালু থাকলেও এখন বিশ্বজুড়ে উন্মুক্ত করা হচ্ছে। পোলে সর্বোচ্চ পাঁচটি অপশন রাখা যাবে। পাশাপাশি কতক্ষণ পোল সক্রিয় থাকবে, সেটিও নির্ধারণ করতে পারবেন নির্মাতারা।

ভোট দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমেন্ট সেকশন থেকেই ফলাফল দেখা যাবে। পোশাক নির্বাচন, পরবর্তী ভিডিওর বিষয় বা রান্নার মেনু—বিভিন্ন বিষয়ে দর্শকদের মতামত জানতে এই ফিচার ব্যবহার করা যাবে।

এক কমেন্টে ৯টি ছবি

কমেন্টে ছবি যুক্ত করার সুবিধাতেও পরিবর্তন আনছে টিকটক। নতুন ‘ফটো ক্যারোসেল কমেন্ট’ ফিচারের মাধ্যমে একটি কমেন্টে সর্বোচ্চ নয়টি ছবি যুক্ত করা যাবে।

আগে একবারে একটি ছবি যুক্ত করার সুযোগ থাকলেও নতুন সুবিধায় একই কমেন্টে একাধিক ছবি শেয়ার করা যাবে। আগামী এক মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ফিচারটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কমেন্টে লাইভ ফটো

কমেন্টে ‘লাইভ ফটো’ পোস্ট করার সুবিধাও চালু করেছে টিকটক। এর মাধ্যমে স্থির ছবির পাশাপাশি অল্প সময়ের নড়াচড়ার দৃশ্যও দেখা যাবে।

ব্যবহারকারীরা পুরো ছবি দেখার আগে ওই মুহূর্তের একটি সংক্ষিপ্ত প্রিভিউ দেখতে পারবেন। ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে লাইভ ফটো কমেন্ট ফিচারটি চালু করা হয়েছে।

টিকটকের মতে, নতুন এসব সুবিধার মাধ্যমে কমেন্ট সেকশন শুধু লিখিত মতামত জানানোর জায়গা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভয়েস, পোল, একাধিক ছবি ও লাইভ ফটোর মতো ফিচার যুক্ত হওয়ায় ব্যবহারকারীদের অংশগ্রহণ ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়তে পারে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

মিথ্যা যেনো রসগোল্লা ও চমচম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মিথ্যা যেনো রসগোল্লা ও চমচম

প্রতীকী ছবি

লেখক: মোঃ মাহাবুবুর রহমান

মিথ্যা এখন আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির বিস্তারে মিথ্যা আরও সহজলভ্য হয়েছে। মানুষ তার অতি আপনজনের সাথেও আজ মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। মনে হয়, মিথ্যা কথা না বললে যেন অনেকের পেটের ভাতই হজম হয় না।

কথাবার্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, পরিবার — সবখানেই মিথ্যার ছড়াছড়ি। অথচ আমরা ভুলে যাই, মিথ্যা ইহকাল ও পরকাল দুটোই ধ্বংস করে দেয়।

মিথ্যা বলতে বলতে একসময় মানুষের বিশ্বাসটাই উঠে যায়। আপনি যদি চাকরিজীবী হন, মিথ্যার জন্য আপনার চাকরি চলে যেতে পারে, প্রমোশন-ইনক্রিমেন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আপনি যদি ব্যবসায়ী হন, মিথ্যার জন্য বড় লোকসানের মুখে পড়তে পারেন, ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যর্থ হয়ে যেতে পারেন।

পারিবারিক জীবনেও মিথ্যার পরিণতি ভয়াবহ। একজন মিথ্যাবাদী পিতাকে তার সন্তানরা ভুল বুঝে বৃদ্ধ বয়সে ফেলে দিতে পারে। একজন মিথ্যাবাদী শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সম্মান হারান। একজন সমাজপতিকে তার অনুসারীরা ছেড়ে চলে যায়। স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সংসার পর্যন্ত মিথ্যার কারণে ভেঙে যেতে পারে।

আমার কাছে মনে হয়, মিথ্যা রাইফেল বা বন্দুকের গুলির চেয়েও মারাত্মক। গুলির আঘাত শরীরে লাগে, আর মিথ্যার আঘাত লাগে বিশ্বাসে, সম্পর্কে, সম্মানে — যা সারাজীবনের অর্জন নষ্ট করে দেয়।

আমাদের করণীয়:
তাই আসুন, আমরা একটি সংকল্প করি — "আমি মিথ্যা বলব না।"

এটা শুধু মুখের কথা নয়, হোক মনের সংকল্প। আমার কল্পনায়, চিন্তায়, ইচ্ছায় কোথাও যেন মিথ্যা না থাকে। আমি যেন ভুলেও একজন মিথ্যাবাদী হিসেবে কোথাও পরিগণিত না হই।

শুধু নিজে মিথ্যা ছাড়লেই হবে না। আমার পরিবারে, সমাজে, বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে যদি কোনো মিথ্যাবাদী থাকে, তাকে ভালোবেসে সংশোধন করতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে — মিথ্যা বলা, মিথ্যা কাজ করা সম্পূর্ণ হারাম। এতে দুনিয়া ও আখিরাত দুটোই নষ্ট হয়।

সত্য কঠিন হতে পারে, কিন্তু সত্যই মুক্তি আনে। মিথ্যা সহজ, কিন্তু মিথ্যাই বন্দি করে। আসুন, সত্য দিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করি।

শরীয়তপুরে সমিতির বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, চেয়ারম্যান থানায়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শরীয়তপুরে সমিতির বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, চেয়ারম্যান থানায়

ছবি সংগৃহীত


নিজস্ব প্রতিবেদক:

শরীয়তপুরে আংগারিয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আমানতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত না পেয়ে সমিতির কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ গ্রাহক। এ ঘটনায় সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার, নির্বাহী পরিচালক কাকলী আক্তার ও তাদের সহযোগী দিপু মোল্লাকে থানায় নেওয়া হয়। পরে টাকা ফেরতের শর্তে চেয়ারম্যানকে পুলিশের জিম্মায় রেখে বাকি দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়ার বাগচি বাজার এলাকায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন গ্রাহকরা। একপর্যায়ে তারা সমিতির কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের ভেতরে আটকে রাখেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমিতির প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ২০ কোটি টাকা আমানত হিসেবে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। অনেক গ্রাহকের আমানতের মেয়াদ শেষ হলেও টাকা ও লভ্যাংশ পরিশোধ না করে সমিতির কর্মকর্তারা নানা টালবাহানা করছেন। এমনকি গ্রাহকদের টাকা নিয়ে কর্মকর্তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে গ্রাহকদের তোপের মুখে পড়লে সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার, নির্বাহী পরিচালক কাকলী আক্তার ও সহযোগী দিপু মোল্লাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পালং মডেল থানা পুলিশ।

তাদের থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকশ গ্রাহক থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে তারা টাকা ফেরতের দাবিতে থানার সামনে অবস্থান নেন।

পরে গ্রাহকদের প্রতিনিধি ও অভিযুক্তদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েক দফায় টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদারকে পুলিশের জিম্মায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্বাহী পরিচালক কাকলী আক্তার ও সহযোগী দিপু মোল্লাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী গ্রাহক সেলিনা বেগম বলেন, “আমার স্বামী ভিক্ষা করে টাকা জমাইছে। সেই টাকা এখানে রাখছি। এখন আমার স্বামীর অপারেশন হবে, কিন্তু তারা টাকা দিতাছে না। আমি আমার টাকা ফেরত চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলেদের ভবিষ্যতের জন্য চারটি ডিপোজিট করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা টাকাও পাইনি। তারা টাকা নেওয়ার সময় অনেক মিষ্টি কথা বলে, কিন্তু টাকা দেওয়ার সময় দেয় না, উল্টো খারাপ ব্যবহার করে।”

অভিযোগের বিষয়ে সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার বলেন, সমিতির কয়েকজন কর্মচারী আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ কারণে তাদের কয়েকজনকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর তারা ষড়যন্ত্র করে গ্রাহকদের মধ্যে সমিতির কর্মকর্তারা টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবেন বলে প্রচার করেছেন। এ কারণে গ্রাহকরা একসঙ্গে টাকা ফেরত নিতে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো গ্রাহকের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে নেই। তারা আগেও টাকা দিয়েছেন, এখনো দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও দেবেন।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রাহকরা তাকে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর গ্রাহকদের প্রতিনিধি ও অভিযুক্তদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েক দফায় টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওসি আরও বলেন, টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদারকে পুলিশের জিম্মায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য দুজনকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি টাকা ফেরত না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, রাজশাহীতে কলেজছাত্র গ্রেপ্তার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, রাজশাহীতে কলেজছাত্র গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ সংক্রান্ত মন্তব্য করার অভিযোগে মো. আবু বকর সিদ্দিক (২২) নামে এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। রাজশাহী নগরের রামচন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আবু বকর রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার কিচৌত এলাকার বাসিন্দা। তিনি রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরে যান। হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি কোস্টার বাসে করে তিনি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত যানবাহন নিয়ে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়।

ওই পোস্টে লেখা হয়, ‘সবই বুঝলাম, রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই? রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কী জানেন, রাজশাহীবাসী?’ পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস, একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’

মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও যুবদলের নেতারা এ মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে মন্তব্যকারীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পরে এসআরবি-৫ অভিযান চালিয়ে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে এলাকাবাসী ও বন্ধুদের দাবি, আবু বকর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত নন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেন। এ ছাড়া ভ্যানে করে বিভিন্ন হাটে কাঁচামাল বিক্রি করেন।

আবু বকরের বন্ধু মনিরুল জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে খেলাধুলা করেন এবং মেলামেশা করেন। তার জানা মতে, আবু বকর কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যটি ভুলবশত অথবা না বুঝে করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এসআরবি-৫ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইশতিয়াক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবু বকরকে আটকের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে তাকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অথবা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তরের তথ্যও জানা গেছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, অপরাধমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম