খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

নেপালের সেই টানেলে আর জীবিত কেউ নেই, মিলল আরও এক মরদেহ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নেপালের সেই টানেলে আর জীবিত কেউ নেই, মিলল আরও এক মরদেহ

 যোগফল প্রতিবেদক:

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও নতুন করে কোনো জীবিত ব্যক্তির সন্ধান পায়নি উদ্ধারকারী দল। তবে টানেলের ভেতর থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে সেখানে আটকে থাকা আর কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানেলের ভেতর থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধারের পর উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়। সাত সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল টানেলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালায়। তবে জীবিত উদ্ধার হওয়া দুজন ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি।

দেশটির আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) সদস্য অম্বর মাহাত জানান, উদ্ধারকারী দল টানেলের প্রতিটি অংশে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু সেখানে কেবল কাদা, মাটি ও পলিমাটি পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় পাথরও পড়ে রয়েছে।

সম্প্রতি ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর এপিএফের ধসে পড়া স্থাপনা অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটের প্রধান কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাংয়ের নেতৃত্বে সাত সদস্যের দলটি টানেলে প্রবেশ করে। পরে নেপালি সেনাবাহিনীর একটি দলও তাদের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।

উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতরে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে প্রতিটি অংশ তল্লাশি করেন। প্রবল পানির চাপের কারণে টানেলের ওপরের কিছু স্ল্যাবও ধসে পড়েছে বলে জানান অম্বর মাহাত।

তিনি বলেন, পাওয়ারহাউস ভবনের পাশ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে টানেলের ভেতরে তল্লাশির সময় আর কোনো মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যায়নি।

জীবিত উদ্ধার হওয়া সঞ্জয় সাহ জানান, তিনি পাওয়ারহাউসের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। অন্যরা বের হয়ে গেলেও তিনি বের হতে পারেননি। বর্তমানে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

এপিএফের মুখপাত্র নেত্র বাহাদুর কার্কিও জানান, উদ্ধারকারী দল টানেলের সবচেয়ে দূরের অংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। সেখানে একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এটিই ছিল টানেলের বাকি থাকা শেষ অংশ। সেখানে আর কাউকে পাওয়া যায়নি।

নেপালি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তাও টানেলের ভেতরে আর কোনো ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ত্রিশূলী হাইড্রোপাওয়ার স্টেশনের প্রধান আভাস ওঝা জানান, সেনাবাহিনী ও এপিএফের দল আর কাউকে খুঁজে না পাওয়ায় উদ্ধার অভিযান বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের নিজস্ব কর্মীদের নিয়ে সম্ভাব্য স্থানগুলো আবারও পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানির সঙ্গে আসা কাদা ও ধ্বংসাবশেষে প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন টানেলও ঢেকে যায়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৪২ জন কর্মরত ছিলেন। এছাড়া ত্রিশূলী-১ প্রকল্পে ৫৫৭ জন, ত্রিশূলী-৩বি প্রকল্পে ১৯১ জন এবং রাসুওয়াগাধী প্রকল্পে ৯৩ জন কর্মী ছিলেন। বিভিন্ন নেপালি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের টানেলগুলোতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং ‘নবাব’ নামে পরিচিত মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলো পাইকগাছা থানায় ২৭ ও ২৮ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তারিখ ২৭/১০ বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ফোনে চাঁদাবাজির ঘটনার ৩ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে আসলাম শিকদার নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা

সাইফুল ইসলাম  ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে। 

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.এম জুলকদর রহমান।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম