খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

মানবতার মুক্তির দিশারি মহানবী (সা.): তার আদর্শ ও শিক্ষা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মানবতার মুক্তির দিশারি মহানবী (সা.): তার আদর্শ ও শিক্ষা

যোগফল প্রতিবেদক:

রবিউল আউয়াল হিজরি সনের তৃতীয় মাস। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও কর্মের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ায় মুসলিম উম্মাহর কাছে মাসটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনায় এ মাসে মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তার হিজরতের সফরও এ মাসে মদিনায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক পরিণতি লাভ করে। ফলে রবিউল আউয়াল এলে মুসলমানদের মধ্যে নবীপ্রেম, তার আদর্শ অনুসরণের আকাঙ্ক্ষা এবং মহান জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রেরণা জাগ্রত হয়।

আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-কে শুধু কোনো জাতি বা ভূখণ্ডের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বমানবতার জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)

তার জীবন ছিল শান্তি, সাম্য, ন্যায়, মানবিকতা, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও উত্তম চরিত্রের অনন্য দৃষ্টান্ত। তাই মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু ইতিহাসের কোনো অধ্যায় নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবন সুন্দর করার চিরন্তন পথনির্দেশ।

জাহেলিয়াতের অন্ধকারে আলোর আবির্ভাব

মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাবের আগে আরব সমাজে নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। পাপাচার, ব্যভিচার, মিথ্যাচার, হত্যা, লুণ্ঠন, মদ্যপান, জুয়া, গোত্রীয় সংঘাত ও প্রতিহিংসা সমাজজীবনকে বিপর্যস্ত করেছিল। ধর্মীয় জীবনে শিরক ও কুফরও ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।

নারীসমাজ ছিল চরম অবহেলা ও অধিকারবঞ্চনার শিকার। কন্যাসন্তান জন্মকে অনেকে লজ্জার বিষয় মনে করত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবন্ত কন্যাশিশুকে মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো নিষ্ঠুর প্রথাও চালু ছিল।

এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে মানবতার মুক্তির দিশারি ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আবির্ভূত হন। তার দাওয়াত মানুষের হৃদয়কে তাওহিদ, নৈতিকতা, ন্যায় ও মানবিকতার আলোয় আলোকিত করে।

জন্ম ও জীবনধারার তাৎপর্য

প্রচলিত সীরাতের বর্ণনা অনুযায়ী, ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র মক্কায় রবিউল আউয়াল মাসে সোমবার মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার জন্মতারিখ হিসেবে ১২ রবিউল আউয়াল বহুল প্রচলিত হলেও সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ রয়েছে। তাই জন্মতারিখের পাশাপাশি তার জীবন, চরিত্র ও শিক্ষা অনুসরণ করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ—তার জন্য, যে আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।’ (সুরা আল-আহযাব: ২১)

শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর ভূমিকা

মহানবী (সা.) ছিলেন শান্তি ও সহমর্মিতার মূর্ত প্রতীক। তৎকালীন আরবের বিভিন্ন গোত্রে দীর্ঘদিন ধরে হিংসা-বিদ্বেষ, সংঘাত ও যুদ্ধবিগ্রহ চলছিল। তিনি সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি, প্রতিহিংসার পরিবর্তে ক্ষমা এবং বিভেদের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেন।

বিভিন্ন গোত্র ও জনগোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি ও সন্ধির মাধ্যমে তিনি একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করেন। তার শিক্ষা ছিল—মানুষের অধিকার রক্ষা, অন্যায় ও জুলুম থেকে বিরত থাকা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ন্যায় ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা।

নারীসমাজের মর্যাদা ও অধিকার

মহানবী (সা.) নারীজাতির মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি নারীর প্রতি উত্তম আচরণের শিক্ষা দিয়েছেন এবং কন্যাসন্তানের লালন-পালনকে সম্মানের বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সে-ই, যার চরিত্র সর্বোত্তম; আর তোমাদের মধ্যে উত্তম তারাই, যারা তাদের নারীদের প্রতি উত্তম আচরণ করে।’ (তিরমিজি: ১১৬২)

আরেক হাদিসে নারীদের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা নারীদের প্রতি উত্তম আচরণের ব্যাপারে বিশেষভাবে যত্নশীল হও।’ (মুসলিম: ১৪৬৮)

ইসলাম নারীদের বিবাহে সম্মতি, মোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন অধিকার প্রদান করে। একইভাবে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী ও এতিমদের অধিকার সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এতিমের পরিচর্যার মর্যাদা বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি এবং এতিমের অভিভাবক জান্নাতে এভাবে থাকব’—এ কথা বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল পাশাপাশি দেখিয়েছেন। (বুখারি: ৬০০৫)

সাম্য, মানবমর্যাদা ও ভ্রাতৃত্ব

মহানবী (সা.) মানুষের মধ্যে বংশ, গোত্র, জাতি, ভাষা বা বর্ণের ভিত্তিতে অহংকার ও শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা দূর করেন। মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি হিসেবে তিনি তাকওয়া ও সৎকর্মকে গুরুত্ব দেন।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সে-ই অধিক মর্যাদাবান, যে অধিক তাকওয়াবান।’ (সুরা আল-হুজুরাত: ১৩)

বিদায় হজের ভাষণেও মহানবী (সা.) মানুষের পারস্পরিক মর্যাদা ও সাম্যের শিক্ষা দেন। জাতি, বর্ণ, ভাষা বা বংশ নয়—নৈতিকতা ও আল্লাহভীতিই মানুষের প্রকৃত মর্যাদার ভিত্তি।

আজকের সমাজে মহানবী (সা.)-এর আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা

মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ মানে শুধু তাকে ভালোবাসার কথা বলা নয়; বরং তার চরিত্র ও শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করা। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া, ক্ষমাশীলতা, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, নারী ও শিশুর প্রতি সম্মান এবং এতিম-দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো তার শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আজকের পৃথিবীতে হিংসা, বিদ্বেষ, বৈষম্য, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক বিভাজন নানা রূপে দেখা যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

তার আদর্শ ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্রে বাস্তবায়িত হলে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ মানবসমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

নবীপ্রেমের প্রকৃত প্রকাশ

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান রহমত। তিনি জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে মানুষকে তাওহিদ, ন্যায়, সাম্য, শান্তি ও মানবিকতার পথে আহ্বান করেছেন। নারীকে মর্যাদা দিয়েছেন, এতিমের অধিকার রক্ষা করেছেন এবং দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন।

তাই রবিউল আউয়ালে নবীপ্রেম প্রকাশের সর্বোত্তম উপায় শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং তার সুন্নাহ ও আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করা। আমাদের কথা, কাজ, পরিবার, ব্যবসা, সামাজিক আচরণ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুতে যদি মহানবী (সা.)-এর উত্তম চরিত্রের প্রতিফলন ঘটে, তাহলেই তার প্রতি ভালোবাসা সত্যিকার অর্থে সার্থক হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করার, তার সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার এবং তার দেখানো শান্তি, সাম্য ও মানবিকতার পথে জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং ‘নবাব’ নামে পরিচিত মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলো পাইকগাছা থানায় ২৭ ও ২৮ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তারিখ ২৭/১০ বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ফোনে চাঁদাবাজির ঘটনার ৩ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে আসলাম শিকদার নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা

সাইফুল ইসলাম  ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে। 

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.এম জুলকদর রহমান।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম