খুঁজুন
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বাসার ছাদ থেকে পড়ে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাসার ছাদ থেকে পড়ে প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় নিজ বাসভবনের চারতলার ছাদ থেকে পড়ে কাহালগাঁও দোলমা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মো. মঞ্জুরুল হক ওরফে মোখলেছ মাস্টার (৬২) মারা গেছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়িয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মডেল মসজিদসংলগ্ন নিজ চারতলা ভবনের ছাদে গাছের পরিচর্যা করছিলেন মোখলেছ মাস্টার। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

মোখলেছ মাস্টার উপজেলার শুশুতি ডাকেরভিটা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কাহালগাঁও দোলমা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন নিষ্ঠা, সততা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে ফুলবাড়িয়া কে আই সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে রাজঘাট ডাকেরভিটা গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

গোপালগঞ্জে ট্রাক-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, যুবক নিহত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে ট্রাক-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, যুবক নিহত

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ট্রাক ও নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজু শেখ (১৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নসিমনের চালকসহ আরও দুইজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে বেদগ্রাম-রঘুনাথপুর সড়কের বেদগ্রাম রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, রঘুনাথপুর থেকে একটি নসিমন বেদগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে বেদগ্রাম রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে নসিমনটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় নসিমনটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে রাজু শেখসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে রাজু শেখ মারা যান।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পেলে-মেসির রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পেলে-মেসির রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল

ফুটবল মাঠে একের পর এক কীর্তি গড়ার পর এবার স্মারকের বাজারেও নতুন ইতিহাস লিখলেন বার্সেলোনার বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। তার বিরল ‘ওয়ান-অফ-ওয়ান’ রুকি ট্রেডিং কার্ড নিলামে বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ৭ লাখ ৭ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারে। এর মধ্য দিয়ে ফুটবল ট্রেডিং কার্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া কার্ডের মালিক হয়েছেন এই স্প্যানিশ তরুণ।

গোলডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোল্ডিন আয়োজিত গ্লোবাল ফুটবল নিলামে পানিনির ২০২৩-২৪ ডনরুস ফিফা সিরিজের ‘ব্ল্যাক ওয়ান-অফ-ওয়ান কাবুম’ রুকি কার্ডটি বিক্রির জন্য তোলা হয়। বিশ্বে মাত্র একটি কপি থাকায় শুরু থেকেই সংগ্রাহকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কার্ডটি। শেষ পর্যন্ত সেটিই রেকর্ড দামে বিক্রি হয়।

এর আগে ফুটবল ট্রেডিং কার্ডের সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড ছিল ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের দখলে। তার ১৯৫৮ সালের গ্রেডেড রুকি কার্ড নিলামে বিক্রি হয়েছিল ৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির ২০২৩-২৪ টপস ক্রোম স্যাফায়ার সিরিজের বিশেষ সংস্করণের একটি কার্ড বিক্রি হয়েছিল ৩ লাখ ১৭ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে।

শুধু রেকর্ড গড়া কার্ডই নয়, ইয়ামালের আরও দুটি স্মারকও নিলামে চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। তার ‘গোল্ড কাবুম’ রুকি কার্ড বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১০০ মার্কিন ডলারে। এছাড়া, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যবহৃত তার স্বাক্ষরসংবলিত বার্সেলোনার একটি ম্যাচ-ওয়ার্ন জার্সি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারে।

সব মিলিয়ে ইয়ামালের তিনটি স্মারক বিক্রি করে নিলামে আয় হয়েছে ১০ লাখ ৪৯ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। অল্প বয়সেই মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সংগ্রাহকদের কাছেও যে তিনি অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন, সাম্প্রতিক এই নিলাম তারই আরেকটি প্রমাণ।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ঋণ শোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঋণ শোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

ছবি: সংগৃহীত

সংসারের অভাব ঘোচানো আর ঋণের বোঝা কমানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই ভাই ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। কিন্তু প্রবাসের সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ দেশে ফিরলে দুটি কফিনে শেষ বিদায় জানায় স্বজন ও গ্রামবাসী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে দুই ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় তাদের। শেষ বিদায়ে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শত শত মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

নিহত দুই ভাই গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মালেকের ছেলে। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকে কাজের সহযোগিতার জন্য নিজের কাছে নিয়ে যান।

পরিবার জানায়, গত ১৫ জুলাই রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

শোকে ভেঙে পড়া বাবা আবদুল মালেক বলেন, “ঋণ করে দুই ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। আশা ছিল, তারা সংসারের অভাব দূর করবে, ঋণ শোধ করবে। কিন্তু ঋণ তো শোধ হলোই না, আমার দুই ছেলেকেই হারালাম।”

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে মরদেহ দুটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন শত শত মানুষ। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান দুই উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সজীব ও সুজন ছিলেন ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয় মানুষ। তাদের অকালমৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে।

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম