খুঁজুন
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

এবার ফ্রিজে ঠাণ্ডা হবে মানুষ, জাপানের চমকপ্রদ উদ্ভাবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এবার ফ্রিজে ঠাণ্ডা হবে মানুষ, জাপানের চমকপ্রদ উদ্ভাবন

প্রচণ্ড গরমে বাইরে বের হলেই ঘামে ভিজে যায় শরীর, ক্লান্তিতে নাজেহাল হতে হয় অনেককে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই মজা করে বলেন, ইচ্ছে করছে ফ্রিজে ঢুকে যাই!’ সেই কল্পনাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে জাপান। দেশটি এমন একটি বিশেষ কুলিং কেবিন তৈরি করেছে, যেখানে কয়েক মিনিট অবস্থান করলেই শরীরের তাপমাত্রা কমে মিলবে আরাম।

নতুন এই প্রযুক্তির নাম ডো হিয়েমন বক্স’। দেখতে এটি কাচের দরজাযুক্ত একটি ধাতব কেবিনের মতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন ব্যক্তি কেবিনের ভেতরে প্রবেশ করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে শীতল বাতাস, যা শরীরকে দ্রুত ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করছে।

এই অভিনব প্রযুক্তি যৌথভাবে তৈরি করেছে জাপানের এসডিআরএস (SDRS) এবং ট্রাসকো নাকায়ামা (Trusco Nakayama)।

নির্মাতাদের ভাষ্য, জাপানের রাস্তায় থাকা স্বয়ংক্রিয় ঠাণ্ডা পানীয় বিক্রয়যন্ত্র থেকেই এই ধারণার জন্ম। মানুষ যেমন মুহূর্তেই একটি ঠাণ্ডা পানীয় কিনে স্বস্তি পায়, ঠিক তেমনি কয়েক মিনিটের মধ্যেই শরীরের অতিরিক্ত তাপ কমানোর লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে এই কুলিং কেবিন।

যন্ত্রটির ভেতরের তাপমাত্রা সাধারণ অবস্থায় প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। তবে কেউ প্রবেশ করলেই সেটি নেমে আসে প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মাথার ওপর থেকে প্রবাহিত ঠাণ্ডা বাতাস শরীরের অতিরিক্ত তাপ দ্রুত কমিয়ে দেয়। নির্মাতাদের দাবি, মাত্র ৫ মিনিটেই শরীর ঠাণ্ডা হতে শুরু করে এবং প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করলে গরমজনিত ক্লান্তিও অনেকটাই দূর হয়ে যায়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে টানা ২০ মিনিট পর কেবিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে এই প্রযুক্তি কারখানা, অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং খোলা স্থানে কর্মরত মানুষের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে বাইরে কাজ করা শ্রমিক ও কর্মজীবীদের জন্য এটি বেশ কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে খরচও কম নয়।ডো হিয়েমন বক্সকিনতে ব্যয় হবে প্রায় ৮ লাখ ৮৬ হাজার ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা, যদিও বিনিময় হার অনুযায়ী এ দামে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

এদিকে নতুন এই উদ্ভাবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকের মতে, তীব্র গরমে এটি মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনতে পারে। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ মোকাবিলা না করে কেবল মানুষকে ঠাণ্ডা রাখার প্রযুক্তি দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

গোপালগঞ্জে ট্রাক-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, যুবক নিহত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে ট্রাক-নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, যুবক নিহত

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ট্রাক ও নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাজু শেখ (১৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নসিমনের চালকসহ আরও দুইজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে বেদগ্রাম-রঘুনাথপুর সড়কের বেদগ্রাম রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, রঘুনাথপুর থেকে একটি নসিমন বেদগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পথে বেদগ্রাম রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে নসিমনটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় নসিমনটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে রাজু শেখসহ তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে রাজু শেখ মারা যান।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পেলে-মেসির রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পেলে-মেসির রেকর্ড ভাঙলেন ইয়ামাল

ফুটবল মাঠে একের পর এক কীর্তি গড়ার পর এবার স্মারকের বাজারেও নতুন ইতিহাস লিখলেন বার্সেলোনার বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। তার বিরল ‘ওয়ান-অফ-ওয়ান’ রুকি ট্রেডিং কার্ড নিলামে বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ৭ লাখ ৭ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারে। এর মধ্য দিয়ে ফুটবল ট্রেডিং কার্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া কার্ডের মালিক হয়েছেন এই স্প্যানিশ তরুণ।

গোলডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোল্ডিন আয়োজিত গ্লোবাল ফুটবল নিলামে পানিনির ২০২৩-২৪ ডনরুস ফিফা সিরিজের ‘ব্ল্যাক ওয়ান-অফ-ওয়ান কাবুম’ রুকি কার্ডটি বিক্রির জন্য তোলা হয়। বিশ্বে মাত্র একটি কপি থাকায় শুরু থেকেই সংগ্রাহকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কার্ডটি। শেষ পর্যন্ত সেটিই রেকর্ড দামে বিক্রি হয়।

এর আগে ফুটবল ট্রেডিং কার্ডের সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড ছিল ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের দখলে। তার ১৯৫৮ সালের গ্রেডেড রুকি কার্ড নিলামে বিক্রি হয়েছিল ৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে, আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসির ২০২৩-২৪ টপস ক্রোম স্যাফায়ার সিরিজের বিশেষ সংস্করণের একটি কার্ড বিক্রি হয়েছিল ৩ লাখ ১৭ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে।

শুধু রেকর্ড গড়া কার্ডই নয়, ইয়ামালের আরও দুটি স্মারকও নিলামে চড়া দামে বিক্রি হয়েছে। তার ‘গোল্ড কাবুম’ রুকি কার্ড বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ১০০ মার্কিন ডলারে। এছাড়া, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যবহৃত তার স্বাক্ষরসংবলিত বার্সেলোনার একটি ম্যাচ-ওয়ার্ন জার্সি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারে।

সব মিলিয়ে ইয়ামালের তিনটি স্মারক বিক্রি করে নিলামে আয় হয়েছে ১০ লাখ ৪৯ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। অল্প বয়সেই মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সংগ্রাহকদের কাছেও যে তিনি অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন, সাম্প্রতিক এই নিলাম তারই আরেকটি প্রমাণ।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ঋণ শোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঋণ শোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, দুই ভাই ফিরলেন দুটি কফিনে

ছবি: সংগৃহীত

সংসারের অভাব ঘোচানো আর ঋণের বোঝা কমানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই ভাই ফয়েজ আহমেদ সজীব (২৯) ও ফরহাদ হোসেন সুজন (২১)। কিন্তু প্রবাসের সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের মরদেহ দেশে ফিরলে দুটি কফিনে শেষ বিদায় জানায় স্বজন ও গ্রামবাসী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়িসংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে দুই ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় তাদের। শেষ বিদায়ে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও শত শত মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

নিহত দুই ভাই গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির বাসিন্দা আবদুল মালেকের ছেলে। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকে কাজের সহযোগিতার জন্য নিজের কাছে নিয়ে যান।

পরিবার জানায়, গত ১৫ জুলাই রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

শোকে ভেঙে পড়া বাবা আবদুল মালেক বলেন, “ঋণ করে দুই ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। আশা ছিল, তারা সংসারের অভাব দূর করবে, ঋণ শোধ করবে। কিন্তু ঋণ তো শোধ হলোই না, আমার দুই ছেলেকেই হারালাম।”

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে মরদেহ দুটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন শত শত মানুষ। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান দুই উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সজীব ও সুজন ছিলেন ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয় মানুষ। তাদের অকালমৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে।

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।”

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম